মেয়ে যদি তার মাকে বলে, এবার বিয়ে দিলে কোন মওলানা দেখে দিয়েন, তাহলে বর্তমান সংসারে কি কোনো সমস্যা হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
কোন মহিলাকে তার মা যদি বলে স্বামীকে ছেড়ে চলে আসতে বা সংসার না করতে।মেয়েও যদি বলে আচ্ছা। এরপর মেয়ে যদি বলে এবার বিয়ে দিলে কোন মওলানা দেখে দিয়েন মানে যদি ডিভোর্স হয় এরপর আরকি।কিন্তু পরে সব ঠিক হয়ে গেলে মানে ডিভোর্স না হলে স্ত্রীর কথার দ্বারা কি কোন সমস্যা হয়? মানে তালাকের পাওয়ার দিলে স্ত্রী এমনিতে এভাবে বললে?এর আগে এটাও বলেছে মাকে আর খালাকে যে ওর অনেক ছবি আছে স্বামীর কাছে।যেসব নেটেও দিতে পারে।কিন্তু মা বাবা যেমব বলে করবে কিন্তু পরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় স্বামীর সাথে থাকবে।এরপর কিছুক্ষণ পরে বা একটু পরে গিয়ে স্বামীকে কল দেয়,
স্ত্রী যদি বলে আমাকে ভুলে থাকতে পারবা?তহ এরপর স্বামী যদি বলে না।কিন্তু স্ত্রী তালাক চায় নি।কিন্তু কথার পরিবেশ এমন ছিল সিদ্ধান্ত নেওয়া তালাক দিবে কিনা নাকি থাকবে।কিন্তু একবার ও স্ত্রী তালাক চায় নি।এটা বলতেছিল যে স্বামীর সাথে থাকলে মা বাবার সংসার ভেঙে যাবে তাই থাকতে পারবে না কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে মানে বাবার সাথে কথা বলে জানাবে কিন্তু তালাক চায় নি একবার ও।কারণ তালাক চায়লে স্বামী নিয়ত ছাড়া বললেও তালাক হয়ে যাবে ভেবে।স্বামী ধরেন বারবার বুঝাচ্ছিল সে স্ত্রীকে চায়।আর স্ত্রী ও কি করবে বুঝতে পারিতেছিল না।কি স্বামীর সাথে থাকবে নাকি মা বাবার কথা শুনবে।তারপর স্বামী যদি বলে তুমার ভালোর জন্য যদি তুমাকে ছেড়ে দিতে হয় তাহলে দিব।এরপর যদি বলে দেখ কি বলে তুমার বাবা যেটা বলে সেটা কর মানে ভবিষ্যতে কথা বলবে আর তখন করতে বললে এতে কি কোন সমস্যা হয়???...? পরে আবার সবকিছু ঠিক হয়ে একে অপরের সাথে থাকলে মানে সে সিদ্ধান্ত নিলে ঠিকি? মূলত ধরেন কেউ চায় না তালাক হোক।আর ধরেন স্বামী এটাও বলেছিল কি বলে দেখ তুমার বাবা বাসায় পরে জানাবে মানে ডিভোর্স হয়ে গেলে অনেক বছর পর গিয়ে তার বাসায় জানাবে এমনটা।এর কিছুদিন কেনায়া শব্দ নিয়ে জানার পর ভয়ে এমন হলে স্ত্রীর মানে তাদের সম্পর্ক ঠিক আছে কিনা তারউপর বাবা মায়েট এমন আচরণ তাহলে কি কোন সমস্যা হয়?স্বামী ধরেন এটার পর বারবার বলত তুমি কিভাবে আমাকে ছেড়ে দিতে চায়ছ?মূলত ফোনে কথা হয়েছিল।মেয়ে বলতেছিল বাবার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবে তবু তালাক চায় নি তার মনে হচ্ছিল হয়ত যদি সবকিছু ভাল হয়ে যায়।তার বাবা মা চাচ্ছিল সংসার না করাতে কিন্তু তবু স্ত্রী বাবার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবে এমনটা বলতেছিল তার বারবার মনে হচ্ছিল যদি সবকিছু ভালো হয়ে যায় ।স্বামী বুঝতেছিল স্ত্রী তাকে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে কিন্তু স্বামী এটাও বুঝাচ্ছিল সে ছেড়ে দিতে চায় না তবু যদি দিতে হয় দিবে।বাসায় বলবে মানে তার বাসায় পরে বলবে।তারপর বলে তুমার বাবা কি বলে সেটা কর।কথা শেষে স্বামী বলে বান্ধবীর সাথে কথা বলতে মেয়েটা বলে আর সবকিছু বলে আর এটাও বলে স্বামী বলেছে যদি তালাক দিতে হয় দিবে, বান্ধবী সাহস যোগায় আর বলে যা হবে হোক সংসার করতে।এটা নিয়ে সাহস পায় আর স্বামীকেও বলে সে সংসার করবে আর বাবাকে এটাই বলবে।এসব ফোনে সবকিছু।স্বামী আবার বলে দেখ কি বলে তুমার বাবা যেটা বলে কর।স্ত্রী বাবাকে বলে আমি আমার স্বামীর সাথে থাকতে চায়।
মূলত পরে সিদ্ধান্ত হয় ঐদিন যে স্ত্রী স্বামীকে চায়।উপরের গুলো এমনিতে আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া।কেউ কাউকে ছাড়তে চায় না।কথার মাঝে এটাও বললে স্ত্রী যে সব ছবি আছে সব ডিলেট করে দিতে স্ত্রীর।স্বামী যদি বলে তুমার ছবি দিয়ে কিছু করব না ছবি দিয়ে তুমাকে ব্ল্যাকমেইল করার ইচ্ছে নাই অনেকে বলেছিল করতে কিন্তু না করব না।এসব উপরের কথা গুলো বলার মাঝে বললে কি কোন সমস্যা হয়?
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে বর্ণিত সমস্ত ঘটনা ও কথোপকথন বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে তালাকের ইচ্ছা প্রকাশ করেনি বা তালাক দেয়নি। সুতরাং, এসব কথাবার্তার কারণে কোনো তালাক হয়নি এবং তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক পূর্বের মতোই বহাল আছে। নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
১. তালাকের শর্ত ও নিয়ম:
- স্পষ্ট তালাক (সারিহ): যদি স্বামী স্পষ্ট তালাকের শব্দ (যেমন: "তালাক দিলাম", "আমি তোমাকে তালাক দিচ্ছি") বলে এবং তার নিয়ত থাকে, তাহলে তালাক পতিত হয়। কিন্তু এখানে স্বামী বা স্ত্রী কেউই এমন শব্দ বলেনি। স্বামী বলেছে, "যদি তালাক দিতে হয় তাহলে দিব" - এটি ভবিষ্যতের শর্তসাপেক্ষ কথা, বর্তমান তালাক নয়। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৩)
- কেনায়া (ইঙ্গিতমূলক) শব্দ: যদি স্বামী এমন শব্দ বলে যা তালাকের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে (যেমন: "তুমি আমার থেকে আলাদা", "তোমার বাপের বাড়ি চলে যাও"), তাহলে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত জরুরি। স্বামী এখানে তালাকের নিয়ত করেনি, বরং স্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছে। তাই তালাক হয়নি। (আল-হিদায়া, ২/৩২৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২২৩)
২. স্ত্রীর কথাবার্তা:
- স্ত্রী তার মা-খালাকে বলে, "স্বামীর কাছে অনেক ছবি আছে, যা নেটেও দিতে পারে" - এটি তালাকের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এটি কেবল উদ্বেগ বা অনুমানের কথা, তালাকের ইচ্ছা নয়।
- স্ত্রী বলেছে, "বিয়ে দিলে কোনো মওলানা দেখে দিয়েন" - এটি ভবিষ্যতের একটি কল্পিত পরিস্থিতি, বর্তমান তালাকের সিদ্ধান্ত নয়। সুতরাং, এতে কোনো সমস্যা নেই।
- স্ত্রী তালাক চায়নি বরং দ্বিধান্বিত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই তার কথার দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
৩. স্বামীর কথাবার্তা:
- স্বামী বলেছে, "তোমার ভালোর জন্য যদি তোমাকে ছেড়ে দিতে হয় তাহলে দেব" - এটি শর্তসাপেক্ষ কথা, বর্তমান তালাক নয়।
- স্বামী বলেছে, "দেখ কি বলে তোমার বাবা, যা বলে সেটা কর" - এটি স্ত্রীকে তার পিতার মতামত নেওয়ার পরামর্শ, তালাকের নির্দেশ নয়।
- স্বামী বলেছে, "তুমি কিভাবে আমাকে ছেড়ে দিতে চাচ্ছ?" - এটি স্ত্রীর মনোভাব জানার প্রশ্ন, তালাকের ইচ্ছা নয়।
সুতরাং, স্বামীর এসব কথায় তালাক পতিত হয়নি। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪২৫; কিতাবুল ফাতাওয়া, ৪/২৫০)
৪. ছবি ও ব্ল্যাকমেইলের প্রসঙ্গ:
স্বামী যেহেতু ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার ইচ্ছা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে, এবং স্ত্রীও ছবি মুছে ফেলতে বলেছে, এটি তালাকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তবে এটি একটি নৈতিক ও আইনগত সমস্যা হতে পারে, কিন্তু বিবাহের বৈধতার ওপর প্রভাব ফেলে না।
৫. পরিবারের চাপ ও দ্বিধা:
স্ত্রী তার মা-বাবার চাপে পড়ে বিভ্রান্ত ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে নিজের সিদ্ধান্তে স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চায়। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের চাপ মেনে নেওয়া জরুরি নয়, বরং শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া তালাক দেওয়া নিষেধ। (সূরা আন-নিসা: ৩৪; সূরা আত-তালাক: ১)
তাই, যদি উভয়েই একসঙ্গে থাকতে চায়, তাহলে তাদের সম্পর্ক বৈধ ও পবিত্র রয়েছে।
সারসংক্ষেপ:
- উপরোক্ত সব কথাবার্তা তালাকের স্পষ্ট বা ইঙ্গিতমূলক শব্দ নয়, এবং কেউ তালাকের নিয়ত করেনি।
- তাই কোনো তালাক পতিত হয়নি, এবং তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক পূর্বের মতোই বহাল আছে।
- ভবিষ্যতে তালাকের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত এবং আবেগ বা পরিবারের চাপে পড়ে এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা:
- উভয়ের উচিত এই বিষয়টি নিয়ে আর কোনো সংশয় না করে সুখী দাম্পত্য জীবন যাপন করা।
- প্রয়োজনে একজন বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির নিকট ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ গ্রহণ করা।
আল্লাহ তাআলা নিকট সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য জীবন দান করুন।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/২৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২২৩; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪২৫; কিতাবুল ফাতাওয়া, ৪/২৫০)