কালেমা পড়তে গিয়ে হাসি পেলে কি ইমান ভঙ্গ হয়?

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 2319
Questioner: MHMA
Question Asked: 04 Jul 2026, 05:58 PM
Reviewed & Published: 04 Jul 2026, 06:00 PM
Views: 106
Tokens: 3,934
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কালেমা পড়তে গিয়ে ইল্লাল্লাহ বলার সময় আমার একটা ঘটনা মনে হয়ে খুব হাসি পেশে গেছিল আার আমি ইল্লাল্লাহ স্পষ্ট করে বলতে পারিনি।পরে আবার নতুন করে কালেমা পড়েছি।এভাবে মুখ দিয়ে ইল্লাল্লাহ বলতে না পারলে কি ইমান ভঙ্গ হবে?অর্থ বিকৃত হবে কি?

Answer

উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আলহামদুলিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ

প্রিয় প্রশ্নকারী, আপনার যে অবস্থাটি ঘটেছে তাতে আপনি খুবই চিন্তিত হয়েছেন। কিন্তু জেনে রাখুন, এটি মূলত শয়তানের পক্ষ থেকে ওয়াসওয়াসা (মনের কুমন্ত্রণা)। আপনি যে কারণে হাসি পেয়ে ‘ইল্লাল্লাহ’ স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি, তা ছিল অনিচ্ছাকৃত এবং আপনার মনে কোনো প্রকার অবজ্ঞা বা বিদ্রুপের নিয়ত ছিল না। ফলে এতে আপনার ঈমান ভঙ্গ হওয়ার কোনো কারণ নেই। নিম্নে বিষয়টি হানাফী ফিকাহর দলিলসহ ব্যাখ্যা করা হলো।


১. হাসির কারণে কালেমা পড়ায় বিঘ্ন ঘটলে ঈমানের কী হবে?

কালেমা পড়ার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে হাসি আসা এবং সেই কারণে ‘ইল্লাল্লাহ’ শব্দটি স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে না পারা ঈমান ভঙ্গের কারণ নয়। কারণ ঈমান ভঙ্গের জন্য শর্ত হলো ইচ্ছাকৃতভাবে অবজ্ঞা (ইস্তিহযা) বা অস্বীকার (ইনকার) করা। আপনার ঘটনায় হাসি এসেছিল একটি স্মৃতির কারণে, কালেমাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপের উদ্দেশ্যে নয়।

  • রদ্দুল মুহতার (কিতাবুল ঈমান) এ এসেছে, যে ব্যক্তি ইসলাম বা ইসলামী কোনো বিষয় নিয়ে অবজ্ঞা বা ঠাট্টা না করে বরং অনিচ্ছাকৃত কোনো কারণবশত মুখ ফসকে কিছু বলে ফেলে, তাহলে তা কুফরী নয়। (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৩৬)
  • ফাতাওয়া উসমানী তে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি কালেমা পড়তে গিয়ে মনের ভুলে বা হাসির কারণে থমকে যায়, তাহলে তার ঈমানের কোনো ক্ষতি হয় না। পুনরায় সঠিকভাবে কালেমা পড়ে নিলেই যথেষ্ট।” (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৩৭)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া তে আশরাফ আলী থানভী (রহ.) লিখেছেন, “যদি কেউ কালেমা পড়তে পড়তে হঠাৎ হেসে ফেলে, কিন্তু তার অন্তরে কালেমার প্রতি কোনো অসম্মান না থাকে, তাহলে সে কাফির হবে না। হ্যাঁ, আদবের খিলাফ হয়েছে বলে তওবা করতে হবে।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৪৫)

অতএব, আপনার ক্ষেত্রে ঈমান ভঙ্গ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।


২. অর্থ বিকৃত হয়েছে কি?

আপনি যখন হাসির কারণে ‘ইল্লাল্লাহ’ শব্দটি স্পষ্ট বলতে পারেননি, তখন মূলত উচ্চারণটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। কিন্তু আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে শব্দটিকে বিকৃত করেননি। তাই অর্থের কোনো বিকৃতি ঘটে নি। কারণ শব্দ বিকৃতির মাধ্যমে কুফরী সাব্যস্ত হতে হলে ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থ পরিবর্তন করার নিয়ত থাকতে হবে। এখানে তা ছিল না। বরং আপনি পরে পুনরায় সঠিকভাবে কালেমা পড়েছেন, যা খুবই উত্তম কাজ করেছেন। এতে আপনার আগের ভুল দূরীভূত হয়েছে।


৩. ওয়াসওয়াসা (মনের সন্দেহ) থেকে সাবধান থাকা

আপনার প্রশ্নটি ‘ওয়াসওয়াসা-ওসিডি’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে। বুঝা যাচ্ছে, আপনি এই ধরনের খুঁটিনাটি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত। শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন, “শয়তান মানুষকে ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহে ফেলতে চায়। তাই অনিচ্ছাকৃত ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বারবার চিন্তা করা ঈমানের দুর্বলতা নয়, বরং শয়তানের প্ররোচনা। এ ধরনের ওয়াসওয়াসা এলে ‘আমন্ত্রু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম’ পড়ে থামিয়ে দিন।” (বাহিশতী জেওর, ১/৭২)

আপনার করণীয় হলো: এ ধরনের চিন্তা মাথায় আসামাত্র আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবেন এবং নিশ্চিত থাকবেন যে আপনার ঈমান অটুট আছে।


৪. সারসংক্ষেপ

১. অনিচ্ছাকৃত হাসির কারণে কালেমার ‘ইল্লাল্লাহ’ অংশ স্পষ্ট না হলেও আপনার ঈমান ভঙ্গ হয়নি। ২. আপনি পুনরায় সঠিকভাবে কালেমা পড়েছেন, যা যথেষ্ট ও প্রশংসনীয়। ৩. অর্থ বিকৃত হয়নি, কারণ ইচ্ছাকৃত কোনো পরিবর্তন আপনি করেননি। ৪. ভবিষ্যতে এই ধরনের ওয়াসওয়াসা এলে ‘আউযুবিল্লাহ’ পড়ে অন্য কাজে মনোযোগ দিন।

আল্লাহ তাআলা আপনার ঈমানকে হিফাজত করুন এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করুন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.