যেনা কী? যেনার শাস্তি কী? বিবাহ ছাড়া ছেলে মেয়ে কথা বলতে পারবে কী? ম্যাসেজে কি কথা বলা যাবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2287
Questioner: Jannaty khatun
Question Asked: 03 Jul 2026, 09:29 PM
Reviewed & Published: 03 Jul 2026, 09:31 PM
Views: 80
Tokens: 18,481
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

যেনা কী? যেনার শাস্তি কী? বিবাহ ছাড়া ছেলে মেয়ে কথা বলতে পারবে কী? ম্যাসেজেও কী কথা বলা যাবে না?

Answer

যেনা সম্পর্কে ইসলামী বিধান

যেনা কী?

যেনা (ব্যভিচার) হলো ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ বা বৈধ সম্পর্ক ছাড়া কোনো নর-নারীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন। এটি একটি কবিরা গুনাহ (মহাপাপ) এবং ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমরা যেনার কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩২)

যেনার শাস্তি

১. বিবাহিত ব্যক্তির জন্য শাস্তি (মুহসিন):

বিবাহিত নর-নারীর যেনার শাস্তি হাদীস অনুযায়ী রজম (পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড)। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, এ শাস্তি কার্যকর করতে ইসলামী রাষ্ট্রের বিচারকের আদেশ প্রয়োজন।

২. অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য শাস্তি (গায়রে মুহসিন):

অবিবাহিত নর-নারীর যেনার শাস্তি হলো ১০০টি বেত্রাঘাত এবং এক বছর নির্বাসন (হানাফী মাযহাব মতে নির্বাসন ইমামের ইখতিয়ারভুক্ত)।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন: "যেনাকারিণী ও যেনাকারী—উভয়কে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর।" (সূরা নূর: ২)

গুরুত্বপূর্ণ: ইসলামী রাষ্ট্রে নির্ধারিত বিচার ব্যবস্থা ও সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া কেউ নিজ থেকে এই শাস্তি কার্যকর করতে পারবে না। তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন।

বিবাহ ছাড়া ছেলে-মেয়ে কথা বলা

ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহপূর্ব বা অবৈধ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কথা বলা, ম্যাসেজ করা বা দেখা-সাক্ষাৎ করা নাজায়েজ (অনুমোদিত নয়)। কারণ এটি যেনার দিকে ধাবিত করতে পারে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "চোখের যেনা হলো তাকানো, কানের যেনা হলো শোনা, জিহ্বার যেনা হলো কথা বলা..." (সহীহ মুসলিম)

হানাফী মাযহাবের বিধান:

  • অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, ফ্লার্ট করা, প্রেম-ভালোবাসার আলাপ করা—এসব নাজায়েজ
  • শুধু প্রয়োজনীয় এবং শরিয়তসম্মত কথাবার্তা (যেমন: ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা) পর্দার সাথে (মাধ্যমে বা সঙ্গী-সাথীর উপস্থিতিতে) বলা জায়েয

ম্যাসেজের মাধ্যমে কথা বলা

ম্যাসেজ বা সামাজিক মাধ্যমে প্রাইভেট চ্যাট করে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলাও নাজায়েজ, কারণ:

  • এটিও নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যম হতে পারে
  • পর্দা লঙ্ঘন হয়
  • ফিতনার (পাপের) আশঙ্কা থাকে

মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেন: "অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও ম্যাসেজ, যা নারী-পুরুষের মধ্যে আকর্ষণ ও সম্পর্ক সৃষ্টি করতে পারে, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ।"

ইসলামের বিকল্প ব্যবস্থা: বিবাহ

ইসলাম নারী-পুরুষের সম্পর্কের জন্য বিবাহকে বৈধ ও পবিত্র পথ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। বিবাহপূর্ব সম্পর্ক যেনা হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়।

উপসংহার: যেনা একটি কবিরা গুনাহ এবং এর শাস্তি কঠোর। বিবাহপূর্ব ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেম, কথা বলা, ম্যাসেজ ইত্যাদি নাজায়েজ। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত বিয়ের আগে সম্পূর্ণ পর্দা ও সংযম পালন করা এবং বিয়ের মাধ্যমে বৈধ সম্পর্ক স্থাপন করা।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.