যেনা কী? যেনার শাস্তি কী? বিবাহ ছাড়া ছেলে মেয়ে কথা বলতে পারবে কী? ম্যাসেজে কি কথা বলা যাবে?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
যেনা সম্পর্কে ইসলামী বিধান
যেনা কী?
যেনা (ব্যভিচার) হলো ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ বা বৈধ সম্পর্ক ছাড়া কোনো নর-নারীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন। এটি একটি কবিরা গুনাহ (মহাপাপ) এবং ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমরা যেনার কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩২)
যেনার শাস্তি
১. বিবাহিত ব্যক্তির জন্য শাস্তি (মুহসিন):
বিবাহিত নর-নারীর যেনার শাস্তি হাদীস অনুযায়ী রজম (পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড)। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, এ শাস্তি কার্যকর করতে ইসলামী রাষ্ট্রের বিচারকের আদেশ প্রয়োজন।
২. অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য শাস্তি (গায়রে মুহসিন):
অবিবাহিত নর-নারীর যেনার শাস্তি হলো ১০০টি বেত্রাঘাত এবং এক বছর নির্বাসন (হানাফী মাযহাব মতে নির্বাসন ইমামের ইখতিয়ারভুক্ত)।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন: "যেনাকারিণী ও যেনাকারী—উভয়কে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর।" (সূরা নূর: ২)
গুরুত্বপূর্ণ: ইসলামী রাষ্ট্রে নির্ধারিত বিচার ব্যবস্থা ও সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া কেউ নিজ থেকে এই শাস্তি কার্যকর করতে পারবে না। তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন।
বিবাহ ছাড়া ছেলে-মেয়ে কথা বলা
ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহপূর্ব বা অবৈধ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কথা বলা, ম্যাসেজ করা বা দেখা-সাক্ষাৎ করা নাজায়েজ (অনুমোদিত নয়)। কারণ এটি যেনার দিকে ধাবিত করতে পারে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "চোখের যেনা হলো তাকানো, কানের যেনা হলো শোনা, জিহ্বার যেনা হলো কথা বলা..." (সহীহ মুসলিম)
হানাফী মাযহাবের বিধান:
- অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, ফ্লার্ট করা, প্রেম-ভালোবাসার আলাপ করা—এসব নাজায়েজ
- শুধু প্রয়োজনীয় এবং শরিয়তসম্মত কথাবার্তা (যেমন: ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা) পর্দার সাথে (মাধ্যমে বা সঙ্গী-সাথীর উপস্থিতিতে) বলা জায়েয
ম্যাসেজের মাধ্যমে কথা বলা
ম্যাসেজ বা সামাজিক মাধ্যমে প্রাইভেট চ্যাট করে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলাও নাজায়েজ, কারণ:
- এটিও নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্কের মাধ্যম হতে পারে
- পর্দা লঙ্ঘন হয়
- ফিতনার (পাপের) আশঙ্কা থাকে
মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেন: "অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও ম্যাসেজ, যা নারী-পুরুষের মধ্যে আকর্ষণ ও সম্পর্ক সৃষ্টি করতে পারে, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ।"
ইসলামের বিকল্প ব্যবস্থা: বিবাহ
ইসলাম নারী-পুরুষের সম্পর্কের জন্য বিবাহকে বৈধ ও পবিত্র পথ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। বিবাহপূর্ব সম্পর্ক যেনা হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়।
উপসংহার: যেনা একটি কবিরা গুনাহ এবং এর শাস্তি কঠোর। বিবাহপূর্ব ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেম, কথা বলা, ম্যাসেজ ইত্যাদি নাজায়েজ। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত বিয়ের আগে সম্পূর্ণ পর্দা ও সংযম পালন করা এবং বিয়ের মাধ্যমে বৈধ সম্পর্ক স্থাপন করা।