হিজরী বর্ষ অনুযায়ী বৎসর হওয়ার পরও বুকের দুধ খাওয়ানোর কি কোনো সুযোগ আছে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2223
Questioner: Mahfuja Akter Mim
Question Asked: 02 Jul 2026, 03:24 PM
Reviewed & Published: 02 Jul 2026, 03:30 PM
Views: 130
Tokens: 21,453
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমার বাচ্চার বয়স ইংরেজি হিসেবে ২ বছর হতে আরও ৭ দিন বাকি আছে। আর আরবি হিসেবে ২ বছর পূর্ণ হয়ে গেছে। বাচ্চাদের ব্রেস্টফিডিং ছাড়ানো অনেক টাফ হয়ে গেছে আমার জন্য, চেষ্টা করতেছি কিন্তু আমি একা সামলাতে পারতেছি না, বাচ্চা খুবই কান্না করে আর জেদ করে। আমি একা থাকি, আমার হাসবেন্ড অন্য জেলায় থাকেন, আরও একটা সাড়ে ৩ বছরের বাচ্চা আছে আমার। এখন আমার প্রশ্ন হলো, বাচ্চাকে যদি আমি ২ বছর পূর্ণ হবার পরও ব্রেস্টফিডিং করাই, ছাড়ানোর জন্যই দিনে ১-২ বার তাহলে কি আমার গুনাহ হবে? বা বাচ্চার জন্য কি এটা হারাম হয়ে যাবে?

Answer

উত্তর:

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি, ইসলামে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো পূর্ণ দুই বছর। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ"
(সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৩)
অর্থ: "মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দুই বছর দুধ খাওয়াবে, যদি কেউ দুধ খাওয়ানোর মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়।"

এই আয়াতের ভিত্তিতে ফুকাহায়ে কিরাম (হানাফি মাযহাবসহ) বলেছেন, দুই বছরের পর বুকের দুধ খাওয়ানো মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হলেও হারাম বা নাজায়েয নয়। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মাকরুহ, কিন্তু ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে তা জায়েয, তবে সুন্নত নয়। (আল-হিদায়া, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, রদ্দুল মুহতার)

আপনার ক্ষেত্রে সমাধান:
আপনার সন্তানের বয়স আরবি (হিজরি) মাস হিসেবে দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। আরবি মাস হিসাব করলে সৌর (ইংরেজি) বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দিন কম হয়। তাই আপনার সন্তানের আরবি বয়স দুই বছর হওয়ায় মূলত ইসলামি বিধান অনুযায়ী তার জন্য বুকের দুধ খাওয়ানোর সর্বোচ্চ সময় শেষ হয়েছে। তবে যেহেতু আপনি ধীরে ধীরে ছাড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং বাচ্চা মানছে না, তাই প্রয়োজনের তাগিদে আরও কিছুদিন (দিনে ১-২ বার) বুকের দুধ খাওয়ালে গুনাহ হবে না। তবে এটি যেন অভ্যাসে পরিণত না হয় এবং দ্রুতই সম্পূর্ণ ছাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।

মনে রাখবেন:

  • বুকের দুধ ছাড়ানোর জন্য হঠাৎ করেই বন্ধ না করে ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা উত্তম।
  • আপনি যদি শুধু ছাড়ানোর উদ্দেশ্যে অল্প কিছুদিনের জন্য (যেমন আরও ৭-১০ দিন) দিনে ১-২ বার খাওয়ান, তবে তা বৈধ হবে এবং শিশুর জন্য হারাম হবে না।
  • তবে মনে রাখবেন, দুই বছরের বেশি বুকের দুধ খাওয়ানো মাকরুহ হওয়ায় উত্তম হলো যথাসম্ভব দ্রুত বন্ধ করা।

সারসংক্ষেপ:

  • আপনার সন্তানকে আরও কিছুদিন (দিনে ১-২ বার) বুকের দুধ খাওয়ালে গুনাহ হবে না।
  • এটি শিশুর জন্য হারাম হবে না, বরং জায়েয। তবে দ্রুত ছাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া আপনার জন্য কর্তব্য।
  • নিজের উপর চাপ না নিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং ধীরে ধীরে অভ্যাস পরিবর্তন করুন।

আল্লাহ তাআলা আপনার ধৈর্য ও কষ্টের প্রতিদান দান করুন এবং সন্তানকে সহজে দুধ ছাড়ানোর তাওফিক দিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.