আমার বাচ্চার জন্য করনীয় কি ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার সন্তানের মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত ব্যথিত। আল্লাহ আপনাকে ও আপনার পরিবারকে এই কষ্ট সহ্য করার তাওফীক দান করুন। আপনি ৫ মাসের গর্ভবতী অবস্থায় রক্তপাতের মাধ্যমে সন্তান হারিয়েছেন। ইসলামী ফিকহের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে নিম্নোক্ত বিধান প্রযোজ্য:
১. জানাযার বিধান:
হানাফী মাযহাবের বিশিষ্ট ফকীহগণের মতে, গর্ভস্থ সন্তান যদি ৪ মাস বা ১২০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর মারা যায়, তাহলে তার জানাযা পড়া ওয়াজিব নয়, বরং তাকে গোসল দিয়ে কাপড়ে জড়িয়ে দাফন করা হবে। তবে যদি সন্তান জন্মের পর জীবিত অবস্থায় কিছু শব্দ বা নড়াচড়া করে থাকে, তাহলে জানাযা পড়া ওয়াজিব হবে।
আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু গর্ভেই মৃত্যু হয়েছে, তাই জানাযা না পড়লেও কোন সমস্যা নেই। তবে তাকে গোসল দিয়ে কাফন (সাদা কাপড়) পরিয়ে দাফন করতে হবে।
রেফারেন্স:
- বাদায়েউস সানায়ে (২/৪৩)
- রদ্দুল মুহতার (২/২৭৫)
- ফাতাওয়া উসমানী (১/২৪৩)
২. নামকরণ:
গর্ভস্থ সন্তানের জন্য নাম রাখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)। আপনি চাইলে তার একটি নাম রাখতে পারেন, যেমন: আমিনা, আব্দুল্লাহ, ইব্রাহীম ইত্যাদি। নাম রাখার সময় আকিকা করার প্রয়োজন নেই।
রেফারেন্স:
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৪৫)
৩. কেয়ামতের দিন সুপারিশ:
হাদীস শরীফে এসেছে, যে সন্তান গর্ভে বা শৈশবে মৃত্যুবরণ করে, সে তার পিতা-মাতার জন্য কেয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। বিশেষত, যে সন্তান ছোট অবস্থায় মারা যায়, তাকে আল্লাহ পিতা-মাতার জন্য জান্নাতে একটি "নেকাব" বা উপহার হিসেবে দান করবেন।
হাদীস:
- সহীহ মুসলিম (২৭২৬) – রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে সন্তান মারা যায়, সে তার পিতা-মাতাকে জান্নাতে ডাকবে। তাদেরকে বলা হবে, তুমি তোমার পিতামাতার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাও।"
- মিশকাতুল মাসাবীহ (৪৮০১)
অতএব, আপনার সন্তান ইনশাআল্লাহ আপনার ও আপনার স্বামীর জন্য জান্নাতে সুপারিশ করবে। তবে সুপারিশের মাত্রা আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।
৪. করণীয়:
- এই সন্তানের জন্য দোয়া করুন।
- সাদকা (দান-খয়রাত) করতে পারেন, যার সওয়াব সন্তানের রূহে পৌঁছবে।
- ধৈর্য ধারণ করুন, কারণ রাসূল ﷺ বলেছেন: "যে সন্তান মারা যায়, আল্লাহ তাকে জান্নাতে একটি বিশেষ স্থান দান করেন এবং পিতা-মাতার ধৈর্যের কারণে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।"
মোটকথা:
- জানাযা নয়, তবে দাফন করতে হবে।
- নাম রাখতে পারেন, কিন্তু আকিকা জরুরী নয়।
- কেয়ামতে আপনার সন্তান আপনার ও আপনার স্বামীর জন্য সুপারিশ করবে, ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আপনার ধৈর্য ও ঈমানকে শক্তিশালী করুন।