হারাম টাকা হাদিয়া পেলে তা কি মাদ্রাসায় সদকা করা যাবে?
Halal and Haram · Hanafi
Question
জামাও পেয়েছি সেটা কাকে সদকা করে দিবো?
Answer
উত্তর (Answer)
প্রশ্ন:
হারাম টাকা হাদিয়া পেয়েছি। সেটা কি মাদ্রাসায় সদকা করা যাবে? স্বামী যদি নিসাবের মালিক না হয়, তাহলে স্বামীকে কি টাকাটা সদকা করা যাবে? আর জামাও (কাপড়) পেয়েছি, সেটা কাকে সদকা করে দেবো?
উত্তর:
ইসলামী শরিয়তে হারাম উপায়ে অর্জিত অর্থ বা বস্তু নিজের জন্য ব্যবহার করা জায়েজ নয়। যদি কেউ হারাম টাকা বা কোনো বস্তু হাদিয়া হিসেবে পেয়ে থাকে, তাহলে তা নিজের বা পরিবারের প্রয়োজনে খরচ করা যাবে না। বরং তা গরিব-মিসকিনকে দান করে দিতে হবে (সওয়াবের নিয়ত না করে) অথবা পাবলিক সম্পত্তি যেমন রাস্তা, মাঠ-ঘাট ইত্যাদিতে ফেলে দেওয়া যায়। তবে এটি মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, পানি সরবরাহ ইত্যাদি পুণ্যকর্মে ব্যবহার করা বৈধ নয়। কারণ এসব কাজে পবিত্র ও হালাল মাল ব্যবহার করা আবশ্যক। (রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া)
মাদ্রাসায় সদকা করা প্রসঙ্গে:
মাদ্রাসা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। হারাম টাকা সরাসরি মাদ্রাসার তহবিলে দেওয়া যাবে না, কারণ তা মাদ্রাসার নির্মাণ, শিক্ষকদের বেতন বা সাধারণ খরচে ব্যবহৃত হবে—যা হালাল মালের মাধ্যমে হতে হবে। তবে মাদ্রাসায় যদি কোনো গরিব ছাত্র বা দরিদ্র কর্মচারী থাকে, তাহলে তাদের ব্যক্তিগতভাবে সেটি দান করা যাবে (মাদ্রাসার নামে না দিয়ে), কারণ তখন তা সরাসরি একজন অভাবীর কাছে পৌঁছায়। তবে উত্তম হলো সরাসরি কোনো গরিব ব্যক্তিকে দেওয়া।
জামা (কাপড়) প্রসঙ্গে:
যদি ওই জামা হারাম উপায়ে কেনা হয় বা হারাম টাকায় পাওয়া হয়, তাহলে তা পরিধান করা জায়েজ নয়। সেটাকেও গরিব কাউকে দিয়ে দিতে হবে। মাদ্রাসায় বা কোনো প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি অভাবী ব্যক্তিকে দেওয়াই উত্তম।
সারসংক্ষেপ:
১. হারাম টাকা মাদ্রাসার তহবিলে দেওয়া যাবে না, কিন্তু গরিব ছাত্র/কর্মচারীকে ব্যক্তিগতভাবে ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকাহ করে দেওয়া যেতে পারে।
২. স্বামীকে দেয়া যাবেনা।
৩. হারাম জামা বা কাপড় নিজে ব্যবহার না করে কোনো গরিব ব্যক্তিকে ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকাহ করে দিন।
হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (কিতাবুল বুয়ু, বাবুর রিবা)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৩৪৭)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৬০)
- ফাতাওয়া উসমানী (১/২৫০)
- বেহেশতি জেওর (৪/৪২)