৭ ভড়ি স্বর্ণের সাথে নগদ কিছু টাকা থাকলে কি স্ত্রীর উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 217
Questioner: Fatema Tuj Zohora
Question Asked: 17 May 2026, 06:02 PM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 06:09 PM
Views: 28
Tokens: 2,927
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এক পরিবারে যদি ছোট ছোট নাবালেগ বাচ্চা থাকে আর স্বামী স্ত্রী থাকে এবং স্বামী শুধু আয় করে এবং স্ত্রীর কোনো আয় নাই। কিন্তু স্ত্রীর কিছু স্বর্ণ (৭ভরি) এবং নগদ কিছু টাকা থাকে হাত খরচ এর জন্য। তাহলে সেই পরিবারের পক্ষ থেকে কি এক অংশ নাকি দুইজনের জন্য দুই অংশ কুরবানী দিতে হবে?

Answer

কুরবানীর বিধান ও এই পরিবারের জন্য নির্দেশনা

প্রশ্নের সারমর্ম:
একটি পরিবারে স্বামী-স্ত্রী ও নাবালেগ সন্তান রয়েছে। স্বামী একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রীর নিজস্ব কোনো আয় নেই, কিন্তু তার কাছে ৭ ভরি স্বর্ণ ও কিছু নগদ টাকা (হাত খরচের জন্য) আছে। এমতাবস্থায় এই পরিবারের পক্ষ থেকে কি একটি কুরবানী দেওয়া যথেষ্ট, নাকি স্বামী ও স্ত্রীর জন্য পৃথকভাবে দুইটি কুরবানী দিতে হবে?

উত্তর:

উক্ত পরিবারের জন্য নিম্নরূপ বিধান প্রযোজ্য:


১. কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত:

  • নিসাবের মালিক হওয়া: যে ব্যক্তির কাছে সাড়ে ৫২ তোলা রূপা (বা সমমূল্যের নগদ টাকা/পণ্য) অথবা সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ (বা সমমূল্যের সম্পদ) থাকে এবং সে যিলহজ্বের ১০, ১১, ১২ তারিখে ঋণমুক্ত অবস্থায় এই সম্পদের মালিক হয়, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।
  • নাবালেগ সন্তান: নাবালেগ সন্তানের জন্য কুরবানী ওয়াজিব নয় (হানাফি মতে)। তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া কুরবানী নফল বা সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে।

২. স্ত্রীর সম্পদের হিসাব (৭ ভরি স্বর্ণ + নগদ টাকা):

  • ৭ ভরি স্বর্ণ = বর্তমান বাজারমূল্য (ধরা যাক ১ ভরি = ১,১০,০০০ টাকা) = ৭ × ১,১০,০০০ = ৭,৭০,০০০ টাকা (প্রায়)।
  • এই পরিমাণ স্বর্ণ নিসাব পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণের নিসাব = ৭.৫ তোলা; আপনার কাছে ৭ ভরি = ৭ তোলা হলেও নগদ টাকা যোগ করে নিসাব পূর্ণ হয়)।
  • সুতরাং, স্ত্রী নিসাবের মালিক হওয়ায় তার উপর কুরবানী ওয়াজিব

৩. স্বামীর ক্ষেত্রে:

  • স্বামী পরিবারের উপার্জনকারী হওয়ায় সাধারণত তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে। তাই তার উপরও কুরবানী ওয়াজিব

৪. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

  • পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কুরবানী যথেষ্ট নয়।
  • স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জন্য পৃথকভাবে কুরবানী ওয়াজিব। (নাবালেগ সন্তানের জন্য ওয়াজিব নয়)।
  • যদি একটি বড় পশু (যেমন গরু, মহিষ, উট) কুরবানি করেন, তবে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই একই পশুতে শরীক হতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশের নিয়ত করবেন (যেমন ৭ শেয়ারের মধ্যে ২ শেয়ার নেবেন)।
  • সতর্কতা: স্ত্রীর কাছে থাকা স্বর্ণ ও নগদ টাকা যদি তার নিজস্ব সম্পদ হয় (যেমন মোহর, উপহার, সঞ্চয়), তবে তা থেকে কুরবানীর খরচ দেওয়া তার ওপর ওয়াজিব। স্বামী তার সম্পদ থেকে স্ত্রীর কুরবানী দিতে পারেন, তবে তা স্ত্রীর হয়ে আদায় হবে।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

  • "الْقُرْبَانُ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مَنْ مَلَكَ النِّصَابَ" (কুরবানী ওয়াজিব প্রত্যেক ব্যক্তির উপর যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে) – (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩২৬)
  • স্ত্রীর সম্পদ স্বামীর সম্পদ থেকে পৃথক। তাই স্ত্রী নিসাবের মালিক হলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে, এমনকি স্বামী তার ভরণপোষণ দিলেও। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/২৯২)
  • নাবালেগ সন্তানের জন্য কুরবানী ওয়াজিব নয়(আল-হিদায়া, ৪/৭৪)

উপসংহার:

  • আপনার পরিবারের স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জন্য পৃথক কুরবানী ওয়াজিব। একটি কুরবানী দিয়ে উভয়ের পক্ষ থেকে আদায় হবে না।
  • একটি গরুতে উভয়ে শরীক হতে পারেন (যেখানে প্রত্যেকে নিজ নিজ শেয়ার নিবেন) অথবা দুটি ছাগল/ভেড়া দিতে পারেন।
  • নাবালেগ সন্তানের জন্য কুরবানী দেওয়া সুন্নত, ওয়াজিব নয়।

আল্লাহ তাআলা আপনার কুরবানী কবুল করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.