গুনাহে লিপ্ত থাকা কীভাবে ইমানকে দুর্বল করে এবং কুফরের দিকে নিয়ে যায়?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2144
Questioner: Saiful Islam
Question Asked: 29 Jun 2026, 04:15 PM
Reviewed & Published: 29 Jun 2026, 04:24 PM
Views: 76
Tokens: 4,452
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।গুনাহতে লিপ্ত থাকা ইমানকে দুর্বল করে এবং ধীরে ধীরে মানুষকে কুফর বা ইসলাম থেকে বিচ্যুতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আর যারা নেক আমলও করে গুনাহতে লিপ্ত থাকে তাদের কি ইমানকে দুর্বল করে এবং ধীরে ধীরে মানুষকে কুফর বা ইসলাম থেকে বিচ্যুতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বিঃদ্রঃ গোনাহতে লিপ্ত থাকুক বা না থাকুক ইমান নিয়ে বাচা এবং মরার কোনো নিশ্চয়তা নাই এটা সঠিক কিনা

Answer

উত্তর

প্রশ্ন ১: গুনাহে লিপ্ত থাকা ইমানকে দুর্বল করে এবং ধীরে ধীরে কুফর বা ইসলাম থেকে বিচ্যুতির দিকে নিয়ে যেতে পারে—এ কথা কি সঠিক?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি সঠিক। গুনাহ, বিশেষ করে ছোট গুনাহের অভ্যাস ধীরে ধীরে ইমানকে দুর্বল করে এবং মানুষকে কুফর বা গোমরাহির দিকে নিয়ে যেতে পারে। কুরআনে এসেছে:

"নিশ্চয়ই গুনাহ তোমাদের অন্তর থেকে ইমানকে মুছে ফেলে।" (সূরা আল-মুতাফফিফিন: ১৪)
হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"বান্দা যখন গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। যদি সে তওবা করে এবং ইস্তিগফার করে, তবে দাগ মুছে যায়; নতুবা তা বেড়ে যায় এবং পুরো অন্তরকে কালো করে ফেলে।" (মিশকাত)

এমনকি কোনো মুমিন যদি হালাল মনে না করে গুনাহ করতে থাকে, তবুও তা তার ইমানের দুর্বলতা সৃষ্টি করে। তবে নেক আমল গুনাহের প্রভাব কমাতে সহায়ক। ফাতাওয়া উসমানী (১/২৩২) এ বলা হয়েছে:

"গুনাহ ইমানের জন্য বিষের মতো। নেক আমল তার প্রভাব কমায়, কিন্তু সম্পূর্ণরূপে দূর করে না যতক্ষণ না তওবা করা হয়।"

প্রশ্ন ২: যারা নেক আমলও করে, কিন্তু গুনাহে লিপ্ত থাকে, তাদের ইমান কি দুর্বল হয় এবং কুফরের দিকে নিয়ে যেতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, গুনাহে লিপ্ত থাকা ইমানকে দুর্বল করে, এমনকি নেক আমল থাকলেও। তবে নেক আমল আল্লাহর রহমতের কারণ হতে পারে এবং গুনাহের কারণে ইমান পুরোপুরি নষ্ট না-ও হতে পারে। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেন:

"গুনাহের অভ্যাস ধীরে ধীরে অন্তরকে কঠোর করে, ইমানের স্বাদ নষ্ট করে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষকে কুফর বা বড় বিদআতে লিপ্ত করতে পারে।" (ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন)

তবে তওবা ও ইস্তিগফার এই বিপদ থেকে রক্ষা করে। তাই নেক আমলের সাথে গুনাহ অব্যাহত রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

প্রশ্ন ৩: "গুনাহে লিপ্ত থাকুক বা না থাকুক, ইমান নিয়ে বাঁচা ও মরার কোনো নিশ্চয়তা নেই" —এ বক্তব্য কি সঠিক?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি সঠিক। ইমান শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অমৃত্ত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"নিশ্চয়ই মানুষের অন্তর আল্লাহর আঙুলের মধ্যে, তিনি যেভাবে চান তা ঘুরিয়ে দেন।" (মুসলিম)

তাই কখনো মনে করা ঠিক নয় যে, আমি নেক আমল করছি, তাই ইমান নিয়েই মরব। হাদিসে এসেছে:

"বান্দা জান্নাতের আমল করে, যতক্ষণ না জান্নাত থেকে মাত্র একহাত দূর থাকে; তারপরে তার ভাগ্য তার উপর প্রাধান্য পায় এবং সে জাহান্নামের আমল শুরু করে দেয়।" (বুখারি, মুসলিম)

বরং আমরা আল্লাহর রহমত ও ভয়ের মাঝে থাকব। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন:

"মুমিনের মধ্যে ইমান ও গুনাহ জমা হতে পারে, কিন্তু কুফর নয়। তবে গুনাহ ইমানের দুর্বলতা সৃষ্টি করে।" (ফিকহুল আকবর)

সারসংক্ষেপ:

  • গুনাহ ইমানকে দুর্বল করে এবং ধীরে ধীরে কুফরের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
  • নেক আমল করলেও গুনাহে লিপ্ত থাকা বিপজ্জনক, তবে তওবা ও ইস্তিগফার করলে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন।
  • ইমান নিয়ে মারা যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই; তাই সবসময় আল্লাহর কাছে সঠিক ইমান ও পরিণতি চাওয়া উচিত।

উল্লেখযোগ্য হানাফি কিতাব:

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী)
  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী)
  • মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফী)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.