Binance web3, Events এগুলাতে কাজ করা হালাল না হারাম ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
এখানে যদিও কাজের বিভিন্ন ধরন আছে। তবে সমষ্টিগতভাবে কি?
২। খাবারের পর ৩ বার কুলি করা কি সুন্নাহ?
৩। অনেক সময় কথা বলার ফাকে বা দাওয়াতের নিয়তে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করি, এই সময় আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ পড়া কি জরুরি?
Answer
উত্তর
প্রশ্নটি তিনটি ভিন্ন বিষয় নিয়ে। নিচে প্রতিটির বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।
১. Binance Web3 ও Events-এ কাজ করা
হুকুম:
বিন্যান্স ওয়েব৩ এবং তাদের ইভেন্টস (যেমন এয়ারড্রপ, স্টেকিং, ট্রেডিং, এনএফটি ইত্যাদি) সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন-ভিত্তিক লেনদেন জড়িত। সামগ্রিকভাবে হানাফী ফিকহ অনুযায়ী:
- অধিকাংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি (বিটকয়েন, ইথেরিয়াম প্রভৃতি) হারাম, কারণ এতে গারার (অনিশ্চয়তা), মাইসির (জুয়া), রিবা (সুদ) ও ক্বিমার (স্পেকুলেশন) বিদ্যমান।
- ওয়েব৩ প্ল্যাটফর্মে সম্পাদিত কাজ যেমন: লিকুইডিটি প্রদান, মাইনিং, ট্রেডিং, লেন্ডিং-বরোয়িং — এগুলোর অধিকাংশই হারাম।
- কোনো কোনো ইভেন্টে ফ্রি টোকেন দেওয়া হলেও সেটা সংগ্রহ বা ট্রেড করার জন্য হারাম শর্ত জড়িত থাকতে পারে। তাই সামগ্রিকভাবে Binance Web3 ও তার ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ ও কাজ করা জায়েজ নয়।
প্রমাণ:
قال الله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا} [البقرة: 275]
وقال تعالى: {إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ} [المائدة: 90]
ইমাম আবু হানীফা (রহ) ও অন্যান্য হানাফী ফকীহগণ স্পষ্টভাবে গারার ও সূদযুক্ত লেনদেন নিষিদ্ধ বলেছেন।
(সূত্র: রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল বাই, ফাতাওয়া উসমানী, জামিয়া উসমানিয়া; ফাতাওয়া তাকী উসমানী — ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত ফতোয়া)
সৎ পথ: মুসলিমদের উচিত বিন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্ম এড়িয়ে চলা এবং হালাল উপার্জনের পথ গ্রহণ করা।
২. খাবারের পর তিনবার কুলি করা কি সুন্নাহ?
হুকুম:
হ্যাঁ, খাবারের পর কুলি করা (মাদমাদাহ) সুন্নাত। তবে তিনবার কুলি করার ব্যাপারে বিশেষ কোনো সুন্নাত উল্লেখ নেই। সাধারণত পান করা, একবার বা তিনবার যে কোনো সংখ্যায় কুলি করাই যথেষ্ট। তবে তিনবার কুলি করাতে কোনো বাধা নেই এবং এটি উত্তম।
প্রমাণ:
হাদীসে এসেছে:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ شَرِبَ لَبَنًا فَلَمْ يَمْضْمِضْ وَلَمْ يَغْسِلْ يَدَيْهِ. رواه البخاري
(অর্থ: আনাস ইবনু মালিক (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ দুধ পান করলেন, কিন্তু কুলি করলেন না এবং হাত ধুলেন না।) — বুখারী, হাদীস নং ৫৪৫৪
অন্য হাদীসে এসেছে:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ شَرِبَ لَبَنًا فَدَعَا بِمَاءٍ فَمَضْمَضَ وَقَالَ: إِنَّ لَهُ دَسَمًا. رواه البخاري ومسلم
(অর্থ: ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, নবী ﷺ দুধ পান করলেন, পরে পানি এনে কুলি করলেন এবং বললেন: এতে চর্বি আছে।) — বুখারী, মুসলিম
এখানে কুলির সংখ্যা উল্লেখ নেই। তিনবার করে কুলি করা সাধারণত ওযুতে সুন্নাত; খাবারের পরেও করলে সেটা ভালো কাজ।
(সূত্র: বেহেশতী জেওর, ফাতাওয়া উসমানী — ত্বহারাত অধ্যায়)
৩. কথার ফাঁকে বা দাওয়াতের নিয়তে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করলে আউযুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া জরুরি কি?
হুকুম:
কুরআন তিলাওয়াত শুরু করার পূর্বে আউযুবিল্লাহ (আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম) ও বিসমিল্লাহ (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) পড়া মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) এবং অধিকাংশ উলামার মতে এটি ওয়াজিব নয়।
তবে যখন কথোপকথনের মাঝে বা দাওয়াতের উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয় — যেমন কোনো আলোচনায় বা লেকচারে আয়াত উদ্ধৃত করা — তখন প্রথম আয়াতের শুরুতে আউযুবিল্লাহ না পড়লেও তিলাওয়াত শুদ্ধ হবে, কিন্তু উত্তম হলো পড়া।
প্রমাণ:
فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ [النحل: 98]
“যখন তুমি কুরআন তিলাওয়াত করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও।” (সূরা নাহল ১৬:৯৮)
তবে অধিকাংশ মুফাসসির ও ফকীহ এই আদেশকে ইস্তিহবাব (পছন্দনীয়) গণ্য করেছেন, ওয়াজিব নয়।
(সূত্র: মাআরিফুল কুরআন, সূরা নাহলের তাফসীর; উসূলে শাশী — বুযুর্গদের তরিকা; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৫৪)
নিয়ম: দাওয়াতি আলোচনায় আয়াত উদ্ধৃত করলে A‘udhubillah না পড়লেও দোষ নেই, তবে পড়া উত্তম। বিসমিল্লাহ অবশ্যই পড়া উচিত সূরার শুরুতে; আয়াতের মাঝে বা সূরার মাঝখান থেকে পড়লে বিসমিল্লাহ ওয়াজিব নয়।