হারাম টাকায় ডিভাইস কিনে ফ্রিল্যান্সিং বা ব্যবসা করলে উপার্জন হালাল কিনা?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 1684
Questioner: Motiur Rahman
Question Asked: 16 Jun 2026, 02:33 PM
Reviewed & Published: 16 Jun 2026, 02:49 PM
Views: 63
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার প্রশ্নটি হলো এমন হারাম টাকা যা মানুষের হকের সাথে সম্পর্কিত নয় সেই হারাম টাকা দিয়ে যদি কম্পিউটার,কেমেরা সহ স্মাট ডিভাইস কিনি তাহলে সেই ডিভাইস দিয়ে ভালো কাজ করি যেমন ফ্রিল্যান্সিং করি তাহলে কি সেই ফ্রিল্যান্সিং এর ইনকাম কি হালাল হবে নাকি আর সেই হারামের দায় কি আমি সেই কম্পিউটার দিয়ে কাজ করে সেই উপার্জন থেকে কি আস্তে আস্তে দায় সধ করা যাবে কি?

আর আরেকটি প্রশ্ন হলো এমন হারাম টাকা যা মানুষের হকের সাথে সম্পর্কিত নয় সেই হারাম টাকা দিয়ে বেবসার সকল সফটওয়্যার কিনলে আর সেই হারাম টাকা দিয়ে বেবসার সকল লাইসেন্স এবং বিজ্ঞাপন দিলে সেই বেবসার পন্ন কেনার টাকা হালাল টাকা হলে সেই বেবসার লাভের টাকা কি হালাল হবে আর এই বেবসা যে কম্পিউটার দিয়ে করব সেই কম্পিউটার হারাম টাকা দিয়ে কেনা এই হারাম টাকা মানুষের হকের সাথে সম্পর্কিত নয়
তাহলে লাভ কি হালাল হবে হারামের দায় সধ করার আগে আর এই বেবসা থেকে লাভ করে সেই লাভের টাকা দিয়ে হারামের দায় কি সধ করা যাবে

Answer

উত্তর

আপনার প্রশ্ন দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফিকহী জটিল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। নিচে হানাফী ফিকহের মূলনীতি ও প্রখ্যাত গ্রন্থসমূহের আলোকে উত্তর প্রদান করা হলো।

প্রথম প্রশ্ন: হারাম টাকায় কেনা ডিভাইস দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করলে উপার্জনের বিধান

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
যে ডিভাইস সম্পূর্ণ হারাম টাকায় (যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির হক নয়) কেনা হয়েছে, তা দিয়ে হালাল উপায়ে (যেমন ফ্রিল্যান্সিং) কাজ করলে সেই কাজের উপার্জন হালাল হবে। তবে হারাম টাকার দায় থেকে মুক্তির জন্য আপনাকে ওই ডিভাইসের সমমূল্য সাদাকা করতে হবে।

বিস্তারিত দলিল ও বিশ্লেষণ:

১. মূলনীতি:
ইসলামী শরিয়তে হারাম উপায়ে অর্জিত মালের মালিকানা বৈধ নয়। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, এ ধরনের মাল মালিকের কাছে আমানতস্বরূপ; তিনি তা নিজ ব্যবহারে খরচ করতে পারবেন না বরং তা সাদাকা করে দিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, ৪/২২২; ফাতাওয়া শামী, ৫/২৪৮)

২. হারাম টাকায় ক্রীত বস্তু ব্যবহারের বিধান:
কেউ যদি হারাম টাকায় কোনো বস্তু ক্রয় করে, তাহলে সেই বস্তুর মালিকানা অর্জিত হয়। কিন্তু তা ব্যবহার করা জায়েয নয়; বরং তওবা করে সেই বস্তুর মূল্য সাদাকা করা আবশ্যক। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৩/২২৫; ফাতাওয়া উসমানী, ১/৪২১)

দায় শোধের পদ্ধতি:
পূর্বের হারাম টাকার দায় থেকে মুক্তির জন্য আপনাকে ওই কম্পিউটারের সমমূল্য সাদাকা করতে হবে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন: হারাম টাকায় ব্যবসার সফটওয়্যার, লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন কেনার পর লাভের বিধান

ব্যবসায় লাভের মূলনীতি:
ব্যবসার লাভের হালাল-হারাম নির্ভর করে পণ্য ক্রয়ের টাকার উৎস ও ক্রয়-বিক্রয়ের পদ্ধতির উপর। যদি পণ্য হালাল টাকায় কেনা হয় এবং বিক্রয় শরিয়তসম্মত হয়, তাহলে লাভ হালাল। (আল-হিদায়া, ৩/১৮৫; ফাতাওয়া শামী, ৫/২৪৯)

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও পরামর্শ

১. তওবা ও ইস্তিগফার: হারাম কাজ করেছে জেনে বা না জেনে হলেও আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করুন।

২. সাদাকা: হারাম টাকার সমপরিমাণ অর্থ সাদাকা করা আবশ্যক। এই সাদাকা ফরজ নয়, তবে তওবার শর্ত। (রদ্দুল মুহতার, ৪/২২৪)

৩. উপার্জনের পবিত্রতা: ফ্রিল্যান্সিং বা ব্যবসার কাজ হালাল ও শরিয়তসম্মত কিনা নিশ্চিত করুন। কোনো সন্দেহ থাকলে আলেমের পরামর্শ নিন।

উদ্ধৃত গ্রন্থসমূহ

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ৪/২২২-২২৪, ৫/২৪৮-২৪৯
  • ফাতাওয়া শামী: ৫/২৪৮-২৫০
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): ৩/২২৫, ২৩০
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতী তাকী উসমানী): ১/৪২১, ২/৩৮০
  • আল-হিদায়া (মারগীনানী): ৩/১৮৫
  • শরহু মা‘আনিল আসার (তাহাবী): ৩/২১৭
  • উসুলুশ শাশী: ১/১২৫
  • বাহিশতী যেওর (আশরাফ আলী থানভী): ৩/১২০
  • মা‘আরিফুল কুরআন (মুফতী মুহাম্মদ শফী): ২/৪৫৮

উপসংহার: আপনার প্রশ্নের আলোকে স্পষ্ট যে, হারাম টাকায় কেনা জিনিস ব্যবহার করে হালাল উপায়ে উপার্জন করলে তা হালাল, তবে হারাম টাকার দায় শোধ করা জরুরি। ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। আল্লাহ তাআলা তওবা কবুল করুন এবং আপনার জীবিকা পবিত্র ও বরকতময় করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.