CFD ট্রেডিং-এর হারাম টাকায় কেনা কম্পিউটার, ক্যামেরা, ড্রোন ব্যবহার করে আয় করা কি হালাল?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে, প্রথমে সংক্ষেপে CFD ট্রেডিং এবং তারপর হারাম উপার্জনের বিধান ও তা থেকে কেনা জিনিস ব্যবহারের বিধান আলোচনা করছি।
CFD ট্রেডিং: CFD (Contract for Difference) ট্রেডিং সাধারণত একটি স্পেকুলেটিভ বিনিয়োগ, যেখানে সুদ (রিবা), জুয়া (ময়সির) এবং চরম অনিশ্চয়তা (ঘরার) বিদ্যমান। ফলে এটি হারাম। হারাম উপার্জন থেকে তওবা করা ওয়াজিব এবং সেই টাকা খরচ করা জায়েয নয়।
হারাম টাকা দিয়ে পণ্য কেনার পর তা ব্যবহার ও আয় করার বিধান: ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, হারাম উপার্জনের মালিকানা অর্জিত হয় না। বরং সে টাকা ফেরত দেওয়া বা সদকা করা ওয়াজিব। যদি কেউ হারাম টাকা দিয়ে কোনো জিনিস কেনে, তবে সেই জিনিসটি তার হালাল মালিকানায় আসে না। কিন্তু আপনি যদি ঐ জিনিস ব্যবহার করে নতুন কোনো আয় করেন, তাহলে সেই নতুন আয়ের বিধান কী?
হানাফী মাযহাবের বিশিষ্ট ফকীহ ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, হারাম মাল দিয়ে কেনা জিনিসটি যদি আপনি সদকা করে দেন (অর্থাৎ, এর বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা বা জিনিসটি গরীব-মিসকীনকে দান করেন), তাহলে সেই জিনিসটি আপনার জন্য হালাল হয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করে আপনি বৈধ আয় করতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি সদকা না করে শুধু তা ব্যবহার করেন, তাহলে সেই জিনিস ব্যবহার করে আয় করাও নাজায়েয ও হারাম হবে।
তাই আপনার বর্তমান অবস্থার সঠিক বিধান হলো:
১. প্রথমে তওবা করুন: আপনাকে আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে যে, ভবিষ্যতে CFD ট্রেডিং বা অন্য কোনো হারাম উপায়ে অর্থ উপার্জন করবেন না।
২. সদকা করুন: আপনি ঐ CFD ট্রেডিং থেকে যে পরিমাণ হারাম টাকা পেয়েছিলেন, তার সমপরিমাণ টাকা (অথবা আপনি যদি জিনিসগুলো এখনও বিক্রি না করে থাকেন, তাহলে জিনিসগুলোর ক্রয়মূল্য) হালাল উপার্জন থেকে বের করে গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দিন। এটি আপনার ওপর ওয়াজিব। ইচ্ছাকৃতভাবে সদকা না করে তা ব্যবহার করা জায়েয হবে না।
৩. সদকার পর: সদকা করার পর ঐ কম্পিউটার, ক্যামেরা, ড্রোন ক্যামেরা আপনার জন্য হালাল হয়ে যাবে। এরপর আপনি এগুলো ব্যবহার করে বৈধ উপায়ে (যেমন, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি, ফ্রিল্যান্সিং, চাকরি ইত্যাদি) যে আয় করবেন, তা পুরোপুরি হালাল হবে। আগের হারাম দোষ তা থেকে দূর হয়ে যাবে।
এ সম্পর্কিত দলিল:
- আল-কুরআন: আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না…” (সূরা বাকারা: ১৮৮)। হারাম উপার্জন অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রাস করার শামিল।
- হাদীস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কবুল করেন না।” (সহীহ মুসলিম: ২২২)। তাই হারাম মাল দিয়ে কেনা জিনিস ব্যবহার করাও নাপাক কাজ।
- হানাফী ফিকহের কিতাব:
- ফতোয়ায়ে আলমগীরী: “যদি কেউ হারাম মাল দিয়ে কোনো জিনিস ক্রয় করে, তার জন্য তা ব্যবহার করা জায়েয নয়। তবে সে যদি ‘আকদ’ (ক্রয়) ভেঙে দেয় অথবা তা সদকা করে দেয়, তাহলে তা তার জন্য হালাল হবে।” (ফতোয়ায়ে আলমগীরী, ৪/৩০৪)
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): “হারাম মাল দিয়ে ক্রয়কৃত জিনিসের মালিকানা ক্রেতার হয় না; বরং তা তার কাছে আমানত। ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, সে তা সদকা করে দিলে গুনাহ মাফ হবে এবং তার মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে।” (রদ্দুল মুহতার, ৪/৩০৪)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): “হারাম টাকা দিয়ে কেনা জিনিস ব্যবহার করে উপার্জিত মালও হারাম বলে গণ্য হবে, যদি আগের হারাম টাকার দায় না মেটানো হয়। দায় মিটিয়ে ফেললে তা হালাল হবে।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৩০৪)