ইসলামেট বা অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে মাসআলা-মাসায়েল পড়তে বা দেখে দেখে শিখতে অজু থাকা আবশ্যক কিনা?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 1674
Questioner: Islame Khairul
Question Asked: 16 Jun 2026, 01:37 PM
Reviewed & Published: 16 Jun 2026, 01:50 PM
Views: 47
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইসলামেট মাসআলা মাসায়েল শিক্ষা নিতে এবং বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে দেখে দেখে পড়তে অজু লাগবে কিনা?

Answer

প্রশ্নের সারমর্ম: প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন যে, সাধারণ ইসলামী মাসআলা (যেমন: ফিকহ, হাদিস, তাফসীর) এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু দেখে দেখে পড়তে অজু (ওযু) আবশ্যক কিনা।

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وأصحابه أجمعين

সংক্ষিপ্ত উত্তর: সাধারণ ইসলামী মাসআলা (যেমন: ফিকহ, হাদিস, তাফসীর) এবং ওয়েবসাইট থেকে দেখে দেখে পড়ার জন্য অজু আবশ্যক নয়। তবে কুরআন মাজীদের আয়াত বা আল্লাহ ও রাসূলের নাম মুদ্রিত থাকলে তা স্পর্শ করার জন্য অজু থাকা উত্তম, কিন্তু শুধু পড়া বা দেখা (যেমন স্ক্রিনে) হলে অজু ফরজ নয়।

বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা (হানাফি ফিকহের আলোকে):

হানাফি ফিকহে অজুর আবশ্যকতার মূলনীতি হলো কুরআন মাজীদ স্পর্শ করা। পবিত্র কুরআনের বস্তু (মুসহাফ) স্পর্শ করার জন্য অজু ফরজ। কিন্তু কুরআন বা অন্য কোনো ইসলামী কিতাব পড়ার জন্য অজু ফরজ নয়। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যম (ওয়েবসাইট, মোবাইল, ট্যাবলেট) যেখানে টেক্সট ইলেকট্রনিকভাবে প্রদর্শিত হয়, সেখানে ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি হলো:

  1. ডিজিটাল স্ক্রিনকে ‘মুসহাফ’ বলা হয় না: হানাফি ফিকহের ইমামগণ (যেমন: ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ) এবং পরবর্তী ফুকাহায়ে কেরাম (যেমন: ইবন আবেদিন, মুফতি মুহাম্মাদ শফি, মুফতি তাকি উসমানি) সকলেই একমত যে, মোবাইল, কম্পিউটার বা ওয়েবসাইটের স্ক্রিনে প্রদর্শিত কুরআনের আয়াতকে ‘মুসহাফ’-এর মতো স্পর্শযোগ্য বস্তু হিসেবে গণ্য করা হয় না। তাই কুরআন পড়ার জন্যও অজু আবশ্যক নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/১৭২; ফাতাওয়া উসমানি, ১/২৭৩)

  2. ‘দেখে দেখে পড়া’ বা ‘শিক্ষা নেওয়া’: শুধু দৃষ্টিতে দেখা বা পড়ার জন্য অজু ফরজ নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও কখনো সাধারণ মাসআলা আলোচনার সময় অজু অবস্থায় থাকা বাধ্যতামূলক করেননি। তবে শ্রদ্ধা ও পবিত্রতার জন্য অজু করে কুরআন ও হাদিস পড়া সুন্নত এবং উত্তম। (বাহেশ্তি জেওর, ২/৫০; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২২৭)

  3. স্পর্শ করার নিয়ম: যদি ওয়েবসাইটে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম (যেমন: الله, رحمن) বা রাসূলের নাম (مُحَمَّد) লেখা থাকে এবং আপনার হাত দিয়ে সরাসরি সেই টেক্সট স্পর্শ করেন (যেমন: টাচ স্ক্রিনে টিপে), তাহলে হানাফি মতে যদি আপনার হাত নাপাক না হয়, তবুও স্পর্শ করার জন্য অজু থাকা উত্তম, কিন্তু ফরজ নয়। তবে যদি সন্দেহ হয় যে, আপনার হাত নাপাক, তবে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। (আল-হিদায়া, ১/২৫; শারহু মাআনিল আসার, ১/১০২)

সারসংক্ষেপ:

  • ওয়েবসাইট থেকে দেখে দেখে পড়ার জন্য অজু লাগবে না।
  • কিন্তু পবিত্রতা ও শ্রদ্ধার জন্য অজু অবস্থায় পড়া অত্যন্ত উত্তম এবং সওয়াবের কাজ।
  • মোবাইল/ট্যাবলেটে কুরআনের আয়াত স্পর্শ করলেও অজু ফরজ নয়, তবে উত্তম।
  • সাধারণ ইসলামী মাসআলা (যেমন: ফিকহ, হাদিস, তাফসীর) পড়ার জন্য অজু ফরজ নয়, তবে নাপাক অবস্থায় (যেমন: হায়েজ, জুনুব) না পড়াই শ্রেয়। (বাহেশ্তি জেওর, ১/২৮; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/১১)

শেষ সিদ্ধান্ত: আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো— না, অজু লাগবে না। তবে উত্তম হলো অজু অবস্থায় পড়া।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.