Numismatics বা মুদ্রাবিদ্যা

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 1649
Questioner: M.Akter
Question Asked: 15 Jun 2026, 11:29 AM
Reviewed & Published: 15 Jun 2026, 11:36 AM
Views: 47
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Numismatics বা মুদ্রাবিদ্যা কি জায়েজ?

Answer

উত্তর: মুদ্রাবিদ্যা (Numismatics) কি জায়েজ?

মুদ্রাবিদ্যা বা মুদ্রা সংগ্রহ ও গবেষণা শরী‘আতের দৃষ্টিতে মূলত জায়েজ, তবে কিছু শর্ত ও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। নিচে হানাফী ফিকহের আলোকে বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়া হলো।

১. মুদ্রাবিদ্যার সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

মুদ্রাবিদ্যা বলতে ঐতিহাসিক মুদ্রা, টোকেন, কাগজের টাকা, পদক ইত্যাদি সংগ্রহ, অধ্যয়ন ও বিনিময়কে বোঝায়। এর মধ্যে পড়ে:

  • প্রাচীন স্বর্ণ-রৌপ্য মুদ্রা (যা বর্তমানে প্রচলিত নয়)
  • ঐতিহাসিক তামা বা ধাতব মুদ্রা
  • আধুনিক সংগ্রাহক মুদ্রা (যার অভিহিত মূল্যের চেয়ে সংগ্রাহক মূল্য বেশি)

২. হানাফী ফিকহের মূলনীতি

হানাফী মাজহাবের আলোকে মুদ্রা সংগ্রহ ও বিনিময়ের বৈধতা নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর:

  • প্রতিমা ও চিত্র: মুদ্রায় যদি জীবন্ত প্রাণীর (মানুষ, প্রাণী) পূর্ণ ছবি থাকে, তবে তা ঘরে রাখা অপছন্দনীয় (মাকরূহ) – বিশেষ করে যদি তা সম্মানিত স্থানে টাঙানো হয়। তবে মাটিতে পড়ে থাকা অথবা সাধারণ ব্যবহার্যে থাকা মুদ্রার ছবি ক্ষমার যোগ্য। (আল-হিদায়া, ফাতাওয়া উসমানী)
  • সূদ ও বিনিময়: যদি একই ধাতুর (যেমন: স্বর্ণের মুদ্রা দিয়ে স্বর্ণের মুদ্রা) বিনিময় করা হয়, তবে সমান পরিমাণে এবং হাতবদল হতে হবে; অন্যথায় সূদ হবে। কিন্তু বিভিন্ন ধাতু বা অপ্রচলিত মুদ্রার বিনিময় পণ্য বেচাকেনার মতো বৈধ।
  • উদ্দেশ্য ও অপচয়: নিছক শখ বা অপচয় হিসেবে সংগ্রহ করলে তা মাকরূহ হতে পারে, কিন্তু শিক্ষা, গবেষণা বা ঐতিহাসিক সংরক্ষণের জন্য মুদ্রা সংগ্রহ জায়েজ।

৩. নির্দিষ্ট প্রসঙ্গ ও ফাতাওয়া

ক. মুদ্রার ছবি সংক্রান্ত

প্রাচীন মুদ্রায় প্রায়ই মানব বা পশুর ছবি থাকে। এর ব্যাপারে হানাফী ফকীহগণ বলেন: যে ছবি পদদলিত বা অবজ্ঞার সাথে ব্যবহার হয় (যেমন মুদ্রা, কার্পেট, বালিশে থাকে), তা নিষিদ্ধ ছবির অন্তর্ভুক্ত নয়। (সূরা ‘আমাল: ২২, রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৬৪)

ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেন: যেসব ছবি মর্যাদাহীনভাবে রাখা হয়, অর্থাৎ সম্মানিত স্থানে টাঙানো হয় না, সেসব ছবির বিধান শিথিল। (শরহু মা‘আনিল আসার, তহাবী)

সুতরাং সংগ্রহ করা পুরোনো মুদ্রায় ছবি থাকলেও তা নাজায়েজ নয়, যতক্ষণ না সেই মুদ্রা ইবাদতের উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয় বা বিশেষ মর্যাদায় রাখা হয়।

খ. বিনিময় ও সূদ

মুদ্রাবিদ্যা পেশা বা শখ হিসেবে করলে মুদ্রা কেনাবেচায় সূদের সম্ভাবনা থাকে। হানাফী ফিকহের নিয়ম:

  • একই জিনিসের বিনিময়ে পরিমাণের তারতম্য হারাম (রিবা আল-ফাদল)। যেমন: ১ গ্রাম স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে ১.৫ গ্রাম স্বর্ণমুদ্রা নেওয়া হারাম।
  • ভিন্ন ধাতু বা অপ্রচলিত মুদ্রা পণ্য হিসেবে গণ্য – তাই তা যেমন খুশি দামে বিক্রি করা যায়।
  • বর্তমান প্রচলিত মুদ্রা (যেমন ডলার, টাকা) দিয়ে পুরোনো মুদ্রা কেনা বৈধ, কারণ তা একটি ভিন্ন ধাতব পণ্য। (ফাতাওয়া উসমানী ২/২২৮, মুফতি মুহাম্মদ শফি)

মুফতি তকী উসমানী সাহেব বলেন: “ঐতিহাসিক মুদ্রা সংগ্রহ ও বিনিময় জায়েজ, তবে শর্ত হলো সুদ ও প্রতারণা থেকে মুক্ত থাকা।” (ইসলাহী খুতুবাত, ২য় খণ্ড)

গ. অপচয় ও সময় নষ্ট

নিছক শখ বা অযথা অর্থ-সময় নষ্ট করা মাকরূহ। কিন্তু গবেষণা, জ্ঞানার্জন বা ঐতিহাসিক মূল্যবোধের জন্য সংগ্রহ করলে তা উৎসাহিতও হতে পারে। (বাহিশতী জেওর, আশরাফ আলী থানভী)

৪. সারসংক্ষেপ (উপসংহার)

হানাফী মাজহাবের আলোকে মুদ্রাবিদ্যা জায়েজ, তবে নিচের শর্তগুলো মেনে চলতে হবে:

  1. মুদ্রায় জীবন্ত প্রাণীর ছবি থাকলে তা ঘরের সম্মানিত স্থানে না রাখা।
  2. মুদ্রা কেনাবেচায় সূদ (একই ধাতুর বা একই মুদ্রার অতিরিক্ত মুনাফা) না রাখা।
  3. বৈধ উদ্দেশ্য থাকা (শিক্ষা, গবেষণা, ঐতিহাসিক সংরক্ষণ) – নিছক অপচয় নয়।
  4. ধর্মীয় দায়িত্ব অবহেলার কারণ না হওয়া।

উল্লিখিত শর্তাবলী পালন করলে মুদ্রা সংগ্রহ ও অধ্যয়ন ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে অনুমোদিত। বেশি সতর্কতার জন্য স্থানীয় আলেমের শরয়ী পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.