হজে গিয়ে মক্কা মদিনা থেকে অন্যদের জন্য হাদিয়া নিয়ে আসা যাবে কি না?

Hajj and Umrah · Hanafi

Question No: 1641
Questioner: Maliha Nusrat
Question Asked: 15 Jun 2026, 01:05 AM
Reviewed & Published: 15 Jun 2026, 02:06 AM
Views: 20
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হজে গিয়ে অন্যদের জন্য হাদিয়া নিয়ে আসা যাবে কিনা মদিনা বা মক্কা থেকে?

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

হজে গিয়ে অন্যদের জন্য হাদিয়া নিয়ে আসা: মক্কা ও মদিনা থেকে

প্রশ্ন: হজের সফরে মক্কা বা মদিনা থেকে অন্য লোকদের জন্য উপহার (হাদিয়া) নিয়ে আসা কি জায়েজ?

উত্তর:

হজের সফরে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের জন্য মক্কা-মদিনা থেকে উপহার (হাদিয়া) আনা কেবল জায়েজই নয়, বরং এটি একটি উত্তম কাজ। এটি হজের সফরের স্মৃতিচিহ্ন এবং সৌজন্যবোধের পরিচায়ক। ইহরাম অবস্থায় বা হজের কোনো ওয়াজিব কাজের সময় এটি করা নিষিদ্ধ নয়, তবে কিছু শর্ত ও আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি।

হানাফি ফিকহের দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. কোরআনের দলিল: সূরা আল-বাকারার ১৯৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন:

لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ "তোমাদের উপর কোনো পাপ নেই যে, তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ (ব্যবসা-বাণিজ্য) সন্ধান করবে।"

এই আয়াতে হজের সময় বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইমাম আবু বকর আল-জাসসাস (রহ.) তার তাফসীর আহকামুল কুরআন-এ উল্লেখ করেন যে, এই আয়াত দ্বারা হজের সফরে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও উপহার আদান-প্রদানের বৈধতা প্রমাণিত হয়। (আহকামুল কুরআন, ১/৩৮২)

২. হাদিসের দলিল: হাদিসে উপহার দেওয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র দুই শহর থেকে উপহার আনার প্রতি বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত:

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُهْدِي مِنَ الْمَدِينَةِ "রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনা থেকে (হাদি তথা কুরবানির পশু) পাঠাতেন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫৪১)

এটি সরাসরি উপহার আনার হাদিস না হলেও প্রমাণ করে যে, পবিত্র শহর থেকে জিনিসপত্র আনা রাসূল (সা.)-এর আমল দ্বারা সমর্থিত।

৩. হানাফি ফিকহের কিতাবের উদ্ধৃতি:

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি): এতে উল্লেখ আছে যে, হজের সফরে ব্যবসা করা বা পরিবারের জন্য জিনিস ক্রয় করা মাকরুহ নয়, যদি তা হজের ওয়াজিব কাজে বাধা না দেয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২২৪)
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) লিখেছেন যে, হজের সময় উপহার ও স্মৃতিচিহ্ন ক্রয় করা জায়েজ, তবে শর্ত হলো, এতে হজের রুকন ও ওয়াজিবসমূহ ত্যাগ করা না হয়। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৫৮)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন, "হজের সফর থেকে উপহার আনা সুন্নাত ও মোস্তাহাব। তবে এমন জিনিস যা হারাম বা নাজায়েজ, তা আনা জায়েজ নয়।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২১৭)
  • ফাতাওয়া উসমানি: মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি (দা.বাং.)-এর ফতোয়ায় উল্লেখ আছে যে, "হজের সফরে পরিবারের জন্য দাওয়াই, পোশাক বা মিসওয়াকের মতো জিনিস আনা জায়েজ। তবে বিলাসিতা বা অপচয় থেকে বেঁচে থাকা উচিত।" (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৫০)

মক্কা ও মদিনা থেকে বিশেষভাবে কী আনা যায়?

  • জমজমের পানি: সবচেয়ে উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ উপহার। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৭৩)
  • খেজুর: বিশেষ করে আজওয়া ও আয়না খেজুর, যা রাসূল (সা.) পছন্দ করতেন।
  • মিসওয়াক: আরাক গাছের মিসওয়াক অত্যন্ত সুন্নত।
  • পবিত্র জায়গার পাথর বা মাটি: তবে এটি বেশি পরিমাণে আনা নিষেধ, শুধু স্মৃতি হিসেবে অল্প নিয়ে আসা জায়েজ।
  • পোশাক, তেল, সুগন্ধি: যা হারাম নয়, তা-ই আনা যায়।

শর্ত ও সতর্কতা:

  1. হজের ওয়াজিব কাজ (যেমন: উকুফ, তাওয়াফ জিয়ারত, সাঈ, মিনায় অবস্থান) যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। উপহারের জন্য দোকানে ঘোরাঘুরি করে ওয়াজিব ত্যাগ করা যাবে না।
  2. ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি বা বিশেষ কিছু ব্যবহার করা নিষিদ্ধ— সেগুলো ক্রয় করা যাবে, কিন্তু ব্যবহার করা যাবে না।
  3. উপহারে কোনো অপচয় বা বিলাসিতা করা উচিত নয়।
  4. মদিনা শরিফে রাসূল (সা.)-এর রওজা জিয়ারতের পর উপহার ক্রয় করা উচিত, যাতে জিয়ারতের আদব বজায় থাকে।

সারসংক্ষেপ: হজের সফরে মক্কা-মদিনা থেকে পরিবার-পরিজনের জন্য হাদিয়া (উপহার) আনা জায়েজ ও মুস্তাহাব। তবে হজের ওয়াজিব ও সুন্নত কাজগুলো যাতে বাদ না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। জমজম পানি ও খেজুর বিশেষ ফজিলত বহন করে।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.