গর্ভধারণের পর হায়েজের সময়সীমা
Taharah Purity · Hanafi
Question
-নামাজের ক্ষেত্রে করণীয় কি
-কুরআন পড়ার ক্ষেত্রে করণীয় কি?
Answer
প্রশ্ন:
বাচ্চা জন্মের ৪০ দিন পার হওয়ার পর হায়েজ (নিফাস) বন্ধ না হলে—
- নামাজের ক্ষেত্রে করণীয় কী?
- কুরআন পড়ার ক্ষেত্রে করণীয় কী?
উত্তর:
হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, সন্তান প্রসবের পর যে রক্ত আসে তাকে নিফাস (নেফাস) বলা হয়। এর সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ দিন।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার ১/৩০৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮, বেহেশ্তী জেওর, ত্বহারত অধ্যায়)
যদি ৪০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও রক্ত বন্ধ না হয়, তাহলে তা নিফাস বলে গণ্য হবে না বরং ইস্তিহাযা (অসুস্থতা/অস্থায়ী রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, নারীর জন্য এখন থেকে নামাজ, রোজা ও কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে ইস্তিহাদার বিধান প্রযোজ্য হবে।
১. নামাজের ক্ষেত্রে করণীয়:
- ৪০ দিন পূর্ণ হলে গোসল করে নেবেন এবং পুনরায় নামাজ শুরু করবেন।
- এখন থেকে প্রতিটি নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর তাজা অজু করে নামাজ আদায় করবেন।
- একাধিক ফরজ নামাজ একই অজু দিয়ে পড়া জায়েয নেই; বরং প্রতিটি ফরজ নামাজের জন্য আলাদা অজু করতে হবে।
- রক্ত আসতে থাকলেও নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না, কারণ ইস্তিহাদা নামাজের জন্য বাধক নয়। (সূত্র: বেহেশ্তী জেওর, ইস্তিহাযার বিবরণ)
২. কুরআন পড়ার ক্ষেত্রে করণীয়:
- ইস্তিহাদার অবস্থায় মহিলা কুরআন স্পর্শ না করে মুখস্ত থেকে তিলাওয়াত করতে পারবেন। এটি সম্পূর্ণ জায়েয।
- যদি কুরআন শরীফ স্পর্শ করতে চান, তাহলে অজু অবস্থায় অর্থাৎ পবিত্র হয়ে স্পর্শ করবেন। ইস্তিহাদার কারণে অজু নষ্ট হয় না, কিন্তু অজু ছাড়া মুসহাফ স্পর্শ করা নাজায়েয। (সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী ২/৯০, ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/২৮৯)
- কুরআন তিলাওয়াতের জন্য অজু শর্ত, কিন্তু ইস্তিহাদার কারণে শরীরে রক্ত থাকলেও অজু থাকলে তিলাওয়াত জায়েয।
সতর্কতা:
- যদি কোনো মহিলার পূর্বে নির্দিষ্ট হায়েজের চক্র থাকে, তাহলে তিনি সেই চক্র মোতাবেক হায়েজের দিন গণনা করবেন এবং বাকি দিন ইস্তিহাদা মনে করবেন।
- নিফাসের সর্বোচ্চ সময় ৪০ দিন হওয়ায় ৪০ দিন পার হলে আর নিফাসের বিধান চলবে না। (সূত্র: আল-হিদায়া ১/৫৪, রদ্দুল মুহতার ১/৩০৮)
উপসংহার:
৪০ দিনের পর নিফাসের রক্ত চলতে থাকলে তাকে ইস্তিহাযা ধরা হবে। এখন থেকে গোসল করে নামাজ শুরু করবেন এবং প্রত্যেক ওয়াক্তে নতুন অজু করে নামাজ পড়বেন। কুরআন মুখস্ত থেকে পড়তে পারবেন, তবে মুসহাফ স্পর্শের জন্য অজু জরুরি।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।