স্ত্রী কি স্বামীর লিঙ্গ মুখে নিতে পারবে? এবং স্বামী কি স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ দিতে পারবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1597
Questioner: Md. Abu Rayhan
Question Asked: 13 Jun 2026, 10:58 PM
Reviewed & Published: 13 Jun 2026, 11:16 PM
Views: 22
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
স্ত্রী কি স্বামীর লিংগ মুখে নিতে পারবে???
স্বামী কি স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ দিতে পারবে???

Answer

ওয়াক্বিআ’ (প্রশ্ন):
স্ত্রী কি স্বামীর লিঙ্গ মুখে নিতে পারবে? এবং স্বামী কি স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ দিতে পারবে?


উত্তর:

وعلیکم السلام ورحمۃ اللہ وبرکاتہ

বিবাহিত জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়ত কিছু নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রশ্নোক্ত বিষয়টি ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ (হারাম বা মাকরূহ তাহরীমী) বলে গণ্য। নিম্নে প্রমাণসহ বিশ্লেষণ পেশ করা হলো:


১. মুখমণ্ডল ও লজ্জাস্থানের সংস্পর্শের বিধান:

শরীয়তের নীতিমালা অনুযায়ী, মানুষের লজ্জাস্থান এবং তার চারপাশের স্থান নাজাসাত (অপবিত্রতা) দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে লজ্জাস্থানের প্রতি অন্যায়ভাবে দৃষ্টিপাত বা স্পর্শ করাকেও নিষেধ করা হয়েছে; বরঞ্চ তা মুখে নেওয়া তো আরও গুরুতর অপরাধ।

প্রমাণ:

  • কুরআন:

    "وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ. إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ ..."
    (সূরা আল-মুমিনুন: ৫-৬)
    অর্থ: "আর যারা তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে, তাদের স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসীদের ব্যতীত..."
    এখানে লজ্জাস্থানের হেফাযত করতে বলা হয়েছে, যার মধ্যে মুখের মাধ্যমেও সেই স্থানকে অপবিত্র করা অন্তর্ভুক্ত নয়।

  • হাদীস:
    রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    "لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ، وَلَا الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ"
    (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৩৩৮)
    অর্থ: "কোনো পুরুষ অন্য পুরুষের লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না, এবং কোনো নারী অন্য নারীর লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না।"
    যদি দৃষ্টিপাতই নিষিদ্ধ, তবে মুখ দেওয়া বা স্পর্শ করা তো আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত।


২. হানাফী ফিকহের মতামত:

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, স্বামী-স্ত্রীর জন্য একে অপরের লজ্জাস্থানে মুখ দেওয়া বা মুখ দিয়ে স্পর্শ করা মাকরূহ তাহরীমী (হারামের কাছাকাছি) এবং নাজায়েয (অননুমোদিত)

প্রামাণ্য কিতাবের উদ্ধৃতি:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন):

    "يكره تقبيل الفرج والذكر لأنهما موضع النجاسة"
    (রদ্দুল মুহতার, ৬:৩৬৫, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যা)
    অর্থ: "লজ্জাস্থান ও পুরুষাঙ্গ চুম্বন করা মাকরূহ, কারণ এগুলো নাপাকির স্থান।"

  • ফাতাওয়া আলমগীরী:

    "وَلَا يَنْبَغِي لِلرَّجُلِ أَنْ يُقَبِّلَ فَرْجَ الْمَرْأَةِ وَلَا لِلْمَرْأَةِ أَنْ تُقَبِّلَ ذَكَرَ الرَّجُلِ"
    (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১:৩৩৪)
    অর্থ: "পুরুষের জন্য স্ত্রীর লজ্জাস্থান চুম্বন করা উচিত নয়, এবং স্ত্রীর জন্যও স্বামীর পুরুষাঙ্গ চুম্বন করা উচিত নয়।"

  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী):
    তিনি প্রশ্নোক্ত কাজটিকে নাজায়েয ও শয়তানের প্ররোচনা বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে, স্ত্রী-স্বামী উভয়ের জন্য এ কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।
    (ফাতাওয়া উসমানী, ২:২১৪)

  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী):
    এখানে সুস্পষ্টভাবে লেখা:

    "স্ত্রী স্বামীর লিঙ্গ মুখে নেবে বা স্বামী স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ দেবে, এ সব কাজ নাজায়েয এবং ত্যাগ করা ওয়াজিব।"
    (বেহেশতী জেওর, দ্বিতীয় খণ্ড, বিবাহ ও যৌন সমস্যা অধ্যায়)


৩. ব্যতিক্রমী অবস্থা:

যদি কোনো জরুরি বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন থাকে (যেমন: ডাক্তারের পরামর্শে প্রদাহ নির্ণয়), তবে পর্দা বা কাপড়ের আড়ালে পরীক্ষা করা যেতে পারে। কিন্তু নিছক যৌন উত্তেজনার জন্য সরাসরি মুখ দেওয়া অনুমোদিত নয়


সারসংক্ষেপ:

১. স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জন্য একে অপরের লজ্জাস্থানে মুখ দেওয়া হারাম বা মাকরূহ তাহরীমী
২. এটি ইসলামের পবিত্রতা ও শালীনতার পরিপন্থী।
৩. হানাফী মাযহাবের প্রামাণ্য কিতাবসমূহে একে স্পষ্ট নিষেধ করা হয়েছে।
৪. দাম্পত্য জীবনে যৌন সম্পর্ক বৈধ, তবে তা অবশ্যই শরীয়তের সীমারেখা মেনে হতে হবে।

ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করলে গুনাহ হবে এবং তওবা করা জরুরি।

واللہ اعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.