তাবিজ ও জর্দা খাওয়ার হুকুম

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1591
Questioner: Md. Abu Rayhan
Question Asked: 13 Jun 2026, 07:59 PM
Reviewed & Published: 13 Jun 2026, 08:12 PM
Views: 49
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। জর্দা খাওয়া কি জায়েজ???তাবিজ ব্যবহার করা কি জায়েজ???

Answer

উত্তর: জর্দা খাওয়া ও তাবিজ ব্যবহারের হুকুম (হানাফি মাজহাব অনুযায়ী)

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:

  1. জর্দা খাওয়া কি জায়েজ?
  2. তাবিজ ব্যবহার করা কি জায়েজ?

১. জর্দা খাওয়ার হুকুম:

জর্দা মূলত তামাক, চুন, সুগন্ধি ও অন্যান্য মিশ্রণে তৈরি একটি মশলাদার পদার্থ, যা মুখে রাখা হয়। এটি নেশা সৃষ্টিকারী না হলেও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। হানাফি ফিকহে এর বিধান:

  • মাকরুহ তাহরিমি (নিষিদ্ধের কাছাকাছি): ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য হানাফি ফুকাহায়ে কেরামের মতে, জর্দা খাওয়া মাকরুহ তাহরিমি। কারণ এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর, অপচয় ও বাজে অভ্যাস (মুহাসসিরাতুন নিফাক) সৃষ্টি করে। তাছাড়া হাদীসে নবীজি (সা.) বলেছেন: “তোমাদের শরীরের উপর তোমাদের অধিকার আছে।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১১৫৯)

  • মাদক ও নেশার সাথে তুলনা: যদিও জর্দা মাদক নয়, তবে এর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ফুকাহায়ে কেরাম একে মাদকদ্রব্যের সাদৃশ্যপূর্ণ বলে গণ্য করেন। তাই সতর্কতামূলকভাবে একে পরিহার করাই উচিত।

  • ফতোয়ায় উসমানি ও ইমদাদুল ফতোয়া: মুফতি মুহাম্মাদ শফি (রহ.) ও মুফতি তকী উসমানি (দা. বা.)-এর ফতোয়ায় জর্দা খাওয়া মাকরুহ এবং স্বাস্থ্যের জন্য অপকারী হওয়ায় তা থেকে বেঁচে থাকা ওয়াজিব।

সিদ্ধান্ত: জর্দা খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হলে তাহা খাওয়া জায়েজ নয়; বরং এটি মাকরুহ তাহরিমি বা নিষিদ্ধের কাছাকাছি। মুমিনের উচিত এটি সম্পূর্ণ পরিহার করা।


২. তাবিজ ব্যবহারের হুকুম:

তাবিজ ব্যবহারের বিধান হানাফি মাজহাবে শর্তসাপেক্ষে জায়েজ:

শর্তগুলো:

  1. কুরআন বা হাদীসের বাণী দিয়ে লিখা: তাবিজে শুধুমাত্র কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দোয়া বা হাদীসের বাণী লিখতে হবে।
    (ফতোয়া আলমগীরি: ৫/৩৫৪)

  2. শিরক মুক্ত: তাবিজে কোনো কালো জাদু, ভূত-প্রেতের নাম বা শিরকের উপাদান থাকা হারাম।

  3. বিশ্বাসের নির্ভরতা: মুমিনকে বিশ্বাস করতে হবে যে, আরোগ্য ও বরকত আসে একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকে; তাবিজ শুধু একটি মাধ্যম।
    (রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৩)

  4. ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মত: তাঁরা কুরআনের আয়াত ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, তাবিজ মাকরুহ হলো – মনে রাখতে হবে এটি ইমামের সতর্কতামূলক নীতি।

আধুনিক প্রসঙ্গ:

  • বর্তমানে কিছু তাবিজে হরফের গণিত বা অন্ধবিশ্বাস জড়িত; এগুলো হারাম।
  • যদি তাবিজে শুধু দোয়া ও কুরআনের আয়াত লেখা হয় এবং পরিধানকারী তা আল্লাহর উপর ভরসা করে তবেই জায়েজ।

সিদ্ধান্ত: শর্তসাপেক্ষে তাবিজ ব্যবহার জায়েজ – তবে অধিকাংশ হানাফি ওলামায়ে কেরাম (মুফতি তকী উসমানি, মুফতি মুহাম্মাদ শফি) অপ্রয়োজনে তাবিজ পরিহারকে উত্তম মনে করেন। অসুস্থতায় কুরআন পড়ে দম করা (দুয়া) বেশি বরকতময়।


মূল উদ্ধৃতি ও রেফারেন্স:

  1. জর্দা:

    • ফতোয়া উসমানি: ২/১১৩
    • ইমদাদুল ফতোয়া: ৪/২২৫
    • সহীহ মুসলিম: হাদীস ১১৫৯ (শরীরের হক সম্পর্কে)
  2. তাবিজ:

    • ফতোয়া আলমগিরি: ৫/৩৫৪
    • রদ্দুল মুহতার (আল-দুররুল মুখতার): ৬/৩৬৩
    • বাহিশতি জেওর (মুফতি মুহাম্মাদ শফি): তাবিজ সম্পর্কিত অধ্যায়
    • শরহ মা‘আনিল আসার (ইমাম তাহাবি): ৪/২৩২

সতর্কতা:

  • জর্দা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর; ধূমপান ও মাদকের সাদৃশ্য থাকায় তা পরিহার করুন।
  • তাবিজ ব্যবহার করলে তা শিরকমুক্ত ও কুরআন ভিত্তিক কিনা নিশ্চিত হোন। আরো উত্তম হলো সরাসরি দোয়া ও রুকইয়া (কুরআন তেলাওয়াত) গ্রহণ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক জ্ঞান ও আমল করার তৌফিক দান করুন।
(আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.