বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1583
Questioner: Akhi
Question Asked: 13 Jun 2026, 04:41 PM
Reviewed & Published: 13 Jun 2026, 05:04 PM
Views: 11
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

পূর্বের প্রশ্ন ঃ



https://ifatwa.info/136199/

এটা আগের প্রশ্ন

https://ifatwa.info/143603/

এটা পরের

এখন এসব নিয়ে দারুল ইফতায় না গেলে সংসার করে গেলে কি কোন সমস্যা হবে?দারুল ইফতায় যেতে বলা হয়েছিল কিন্তু মহিলা মানুষ কোনভাবে স্বামীকে বলা সম্ভব না।জানলে আরো সমস্যা হবে।বাবার বাড়তে থাকে।বাবা মাকেও বলা সম্ভব না।এসব নিয়ে মানসিক প্রেশারে খুব।শুধ এটা বলবেন সমস্ত বিবরণ দেখে।আর এখানে সবসময় ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হয় তহ মনে হয় এখানে পরিস্তিতি বিবেচনা করে দেওয়া হয় ফতোয়া অন্য কোথাও জিজ্ঞেস করা হয় না সাধারণত।এখান থেকে না পেলে তখন ফেসবুকে বা মুসলিম বাংলা এপ এ করা হয় কিন্তু সবসময় এখানেই করা হয়।মহিলা মানুস অন্য কোথাও গিয়ে জিজ্ঞেস করার মত পরিস্থিতি কঠিন।আর স্বামী শপথ করেছিল কিনা ঈলার বিষয়ে তার শিওর মনে নেয় কিন্তু বেশিরভাগ মনে হয় করেছিল। তাই ওসব প্রশ্ন করা হয়েছিল।আর যদি করেও থাকে তাহলে সংসার করে গেলে কি কোন সমস্যা হবে? মানে উপরের প্রশ্নের জবাবে যা বলে হয়েছিল কোন সমস্যা হবে না মানে কয়েক বছর আগে?

2. আর এমন করলে কি নফসের অনুসরণ হয়? মানে দারুল ইফতায় না গেলে আর আগের জবাব মেনে গেলে?কারণ দারুল ইফতায় যেতে বললে ভয় চলে মানে আগের জবাব ঠিক আছে তহ নাকি কোন সমস্যা, আর দারুল ইফতায় গেলেও জবাব কেমন দিবে সব বিবেচনা করে দিবে কিনা। আর একা কিভাবে মানে নানা চিন্তা। এতে সমস্যা হয়?

৩.কোনদিন মানসিক শান্তির জন্য এমনিতে বিয়ে করতে পারবে? মানে সুযোগ হলে এমন কখনো? আর করলে ঠিকি ৩ তালাকের মালিক থাকবে?”

জবাব দিয়েছিলঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ
https://ifatwa.info/103624/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,
ওয়াসওয়াসা হল এমন এক মানসিক রোগ যা একজন মুসলিমকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তানের পক্ষ থেকে মনে আসা কুমন্ত্রনার ফাঁদ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন কম নয়। কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে ধারনা বা ইলমে জ্ঞান না থাকার ফলে একজন সাধারন ব্যক্তি ধীরে ধীরে মানসিক রোগীতে পরিণত করতে পারে। কারণ শুরুতেই যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি বাড়তে থাকে।
আমরা আমাদের বিগত সহস্রাধিক প্রশ্ন রিসার্চ করে দেখেছি যে, ওসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মাসআলা মাসায়েল বা ফতোয়ার প্রশ্নের উত্তর ঘাটাঘাটি করে আরও বেশি ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত হয়ে যায় এবং প্রশ্নের উত্তর হল একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের রোগ বৃদ্ধির খোরাক এবং একটা প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার পর একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত একই প্রশ্ন বারবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে শতাধিকবার করতে থাকেন। যেটা উনাকে বরং ক্রমাগত অধিকতরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে থাকে।
বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিচের দেওয়া বাধ্যতামূলক সুস্থ হওয়ার কোর্সটি কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে না ।
আমরা আশা করছি এবং আল্লাহর উপরে ভরসা রেখে বলছি যারা নিচের এই কোর্সটি করবেন ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবেন।
আর কোর্সের ভিতরে একটা অংশে আমাদের মুফতি সাহেবদের সাথে সরাসরি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তরের ব্যবস্থা থাকবে। আল্লাহ আমাদের সমস্ত শারীরিক ও মানসিক রোগ থেকে হেফাজত করুন - https://idaars.com/courses/waswasa/
,
ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার আমলঃ
ইবনে হাজার আল-হাইছামি তাঁর ‘আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা’ গ্রন্থে (১/১৪৯) এসেছে, তাঁকে এর প্রতিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,
له دواء نافع وهو الإعراض عنها جملة كافية ، وإن كان في النفس من التردد ما كان – فإنه متى لم يلتفت لذلك لم يثبت بل يذهب بعد زمن قليل كما جرب ذلك الموفقون , وأما من أصغى إليها وعمل بقضيتها فإنها لا تزال تزداد به حتى تُخرجه إلى حيز المجانين بل وأقبح منهم
অর্থাৎ, এর ঔষধ একটাই সেটা হচ্ছে– ওয়াসওয়াসাকে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও। কেননা কেউ যদি সেটাকে ভ্রুক্ষেপ না করে তাহলে সেটা স্থির হবে না। কিছু সময় পর চলে যাবে; যেমনটি তাওফিকপ্রাপ্ত লোকেরা যাচাই করে পেয়েছেন। আর যে ব্যক্তি ওয়াসওয়াসাকে পাত্তা দিবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে সে ব্যক্তির ওয়াসওয়াসা বাড়তেই থাকবে; এক পর্যায়ে তাকে পাগলের কাতারে নিয়ে পৌঁছাবে কিংবা পাগলের চেয়েও নিকৃষ্ট পর্যায়ে পৌঁছাবে।
,
এর সর্বোত্তম প্রতিকার হচ্ছে– বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা, لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ পড়া, আউযুবিল্লাহ্ পড়া তথা বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
,
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
اَلْحَمْدُ لِلهِ الَّذِىْ رَدَّ اَمْرَهُ عَلَى الْوَسْوَسَة
সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর যিনি শয়তানের বিষয়টি কুমন্ত্রণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন।’ (নাসাঈ)
,
ইবনে হাজার আল-হাইতামি রহ. বলেন,
له دواء نافع وهو الإعراض عنها جملة كافية ، وإن كان في النفس من التردد ما كان
ওয়াসওয়াসার কার্যকরী চিকিৎসা হল, একে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও।’ (আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা ১/১৪৯)
,
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
,
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তো আপনাকে উস্তায উত্তর ইতি পূর্বে দিয়েছেন।
“আপনার সবগুলো প্রশ্ন আমরা পড়েছি। প্রশ্নগুলোর আলোকে আমরা বলবো যে, আপনার সংসার চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হবে না।”
আরো জানুন - https://ifatwa.info/136199/
আর আপনি সব রকম ওয়াসওয়াসা পরিহার করে চলবেন। কারণ, ওয়াসওয়াসার কার্যকরী চিকিৎসা হল, একে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি মনের মধ্যে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও।’ (আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা ১/১৪৯)
জবাব দিয়েছিল মুফতি আব্দুল ওয়াহিদ হুজুর।
জবাবে কি এটা বুঝানো হয়েছে যে আর জিজ্ঞেস না করলে কোন সমস্যা হবে না?

Answer

উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর নিম্নরূপ:

১. দারুল ইফতায় না গিয়ে সংসার চালিয়ে গেলে কি সমস্যা হবে?

আপনার পূর্বের প্রশ্নের জবাবে মুফতি আব্দুল ওয়াহিদ হুজুর স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন:

"আপনার সবগুলো প্রশ্ন আমরা পড়েছি। প্রশ্নগুলোর আলোকে আমরা বলবো যে, আপনার সংসার চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হবে না।"

এটি একটি পরিষ্কার ফতোয়া। আপনার অবস্থা বিবেচনা করে (যেখানে আপনি সরাসরি দারুল ইফতায় যেতে পারছেন না, স্বামীকে বলতে পারছেন না) এই ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। আপনি এই ফতোয়ার ওপর আমল করে সংসার চালিয়ে যেতে পারেন, এতে কোনো সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ।

২. আগের জবাব মেনে চললে কি নফসের অনুসরণ হবে?

না, এটি নফসের অনুসরণ হবে না। বরং এটি হলো একজন আলেমের দেওয়া ফতোয়ার ওপর আমল করা, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বৈধ। দারুল ইফতায় না যাওয়ার কারণে আপনাকে বারবার প্রশ্ন করতে বলা হয়নি; বরং আপনার ওয়াসওয়াসা নিরাময়ের জন্য কোর্সটি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আপনি যদি সেই কোর্সটি করতে না পারেন, তবুও পূর্বের ফতোয়া আপনার জন্য প্রযোজ্য থাকবে।

৩. মানসিক শান্তির জন্য বিয়ে করা প্রসঙ্গে

ওয়াসওয়াসার কারণে বিয়ে সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। ওয়াসওয়াসা থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পরই বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বর্তমানে আপনি তালাকের মালিক কিনা—এসব বিষয়ে চিন্তা করাই ওয়াসওয়াসার অংশ। এসব চিন্তা সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যান।


ওয়াসওয়াসা থেকে পরিত্রাণের করণীয়:

ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামি (রহ.) বলেন:

"ওয়াসওয়াসার কার্যকরী চিকিৎসা হলো, একে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া; এমনকি মনের মধ্যে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও।" (আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যা আল-কুবরা ১/১৪৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর যিনি শয়তানের বিষয়টি কুমন্ত্রণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন।" (নাসাঈ)

আপনার জন্য করণীয়:

  1. ঈলার বিষয়ে আর কোনো প্রশ্ন করবেন না। পূর্বের ফতোয়া অনুযায়ী আপনার সংসার চালিয়ে যান।

  2. ওয়াসওয়াসা এলে "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান।

  3. বেশি বেশি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" পড়ুন।

  4. প্রয়োজনে ওয়াসওয়াসা নিরাময় কোর্সটি করুন: https://idaars.com/courses/waswasa/

  5. আপনার বর্তমান স্বামীর সাথে সংসার চালিয়ে যান এবং এ ব্যাপারে আর ভাববেন না।


সারসংক্ষেপ: আপনার পূর্বের ফতোয়া অনুযায়ী সংসার চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা নেই। ওয়াসওয়াসার চিকিৎসা হলো সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে যাওয়া। আল্লাহ আপনার মনকে শান্তি দান করুন। আমিন।

মুফতি আব্দুল ওয়াহিদ হুজুরের জবাবেই চূড়ান্ত। আর কোনো প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.