নেশা অবস্থায় নামাজ নিয়ে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1530
Questioner: Saiful Islam
Question Asked: 12 Jun 2026, 09:32 AM
Reviewed & Published: 12 Jun 2026, 09:35 AM
Views: 51
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।গাজা খায় একজন নামাজও পড়ে সে যদি গাজা খাওয়ার এক দের ঘন্টা পর নামাজ পড়ে নেশার প্রভাব আছে মধ্যম কিন্তু সুরা তসবিহ ঠিক মত পড়তে পারে রুকু সিজদা ঠিকমত দিতে পারে তাহলে তার নামাজ আদায় হবে কি
গাজা খায় একজন নামাজও পড়ে সে যদি গাজা খাওয়ার ১ ঘন্টা পর নামাজ পড়ে নেশার প্রভাব আছে মধ্যম কিন্তু সুরা তসবিহ ঠিক মত পড়তে পারে রুকু সিজদা ঠিকমত দিতে পারে তাহলে তার নামাজ আদায় হবে কি?

২।গাজা খায় একজন নামাজও পড়ে সে যদি গাজা খাওয়ার ৩ ঘন্টা পর নামাজ পড়ে নেশার প্রভাব আছে হালকা সুরা তসবিহ ঠিক মত পড়তে পারে রুকু সিজদা ঠিকমত দিতে পারে তাহলে তার নামাজ আদায় হবে কি?

Answer

উত্তর: নেশার অবস্থায় নামাজের বিধান

প্রশ্নের সংক্ষিপ্তসার:
কেউ গাজা (গাঁজা/মারিজুয়ানা) সেবন করার পর ১ ঘণ্টা (মধ্যম নেশা) ও ৩ ঘণ্টা (হালকা নেশা) পর নামাজ পড়লে, যেখানে সে সূরা-তাসবিহ ঠিকমত পড়তে পারে এবং রুকু-সিজদা সঠিকভাবে আদায় করতে পারে—তখন তার নামাজ আদায় হবে কি না।


হানাফি মাজহাবের মূলনীতি

হানাফি ফিকহের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির নামাজ তখনই বাতিল হয়, যখন সে নিজের কথাবার্তা ও কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞান (অচেতন) থাকে। অর্থাৎ নেশার কারণে তার বোধশক্তি (আকল) লোপ পায় এবং সে কী পড়ছে বা কী করছে তা বুঝতে পারে না। কিন্তু যদি সে সচেতন থাকে এবং নামাজের শর্ত ও রুকনসমূহ (কিরাত, রুকু, সিজদা ইত্যাদি) সঠিকভাবে আদায় করতে পারে, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তার নামাজ আদায় হবে—যদিও সে গুনাহগার হবে নেশা গ্রহণের কারণে।

প্রমাণ:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) -এ বলা হয়েছে:

    "وَتَفْسُدُ صَلَاةُ السَّكْرَانِ ... إذَا كَانَ لَا يَعْقِلُ مَا يَقُولُ"
    (নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির নামাজ ফাসিদ হয় যখন সে কী বলছে তা বুঝতে পারে না।)
    (রদ্দুল মুহতার, كتاب الصلاة, باب الإمامة)

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ -এ উল্লেখিত:

    "صَلَاةُ السَّكْرَانِ لَا تَصِحُّ إذَا كَانَ لَا يَعْقِلُ مَا يَقُولُ، وَإِنْ كَانَ يَعْقِلُ تَصِحُّ مَعَ الْإِثْمِ"
    (নেশাগ্রস্তের নামাজ শুদ্ধ নয় যখন সে বোঝে না; আর যদি বোঝে তবে নামাজ শুদ্ধ, তবে সে গুনাহগার হবে।)
    (ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ, كتاب الصلاة, الفصل الرابع في شرائط الصلاة)

  • হিদায়া -তেও অনুরূপ বক্তৃতা:

    "وَالسَّكْرَانُ إِنْ كَانَ لَا يَعْقِلُ مَا يَقُولُ لَا تَجُوزُ صَلَاتُهُ، وَإِنْ كَانَ يَعْقِلُ تَجُوزُ"
    (নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি যদি কী বলছে তা না বোঝে তবে তার নামাজ জায়েজ নয়, আর যদি বোঝে তবে জায়েজ।)
    (হিদায়া, كتاب الصلاة)


প্রদত্ত দুই অবস্থার বিশ্লেষণ

| অবস্থা | নেশার মাত্রা | নামাজের অবস্থা | ফিকহি রায় | |--------|--------------|----------------|------------| | ১ ঘণ্টা পর | মধ্যম (নেশা আছে, কিন্তু সচেতন) | সূরা-তাসবিহ সঠিক, রুকু-সিজদা সঠিক | নামাজ আদায় হবে (সঠিক ও শুদ্ধ) - তবে নেশা করা গুরুতর গুনাহ | | ৩ ঘণ্টা পর | হালকা (প্রায় স্থির) | সূরা-তাসবিহ সঠিক, রুকু-সিজদা সঠিক | নামাজ আদায় হবে (সঠিক ও শুদ্ধ) - তবে নেশা করা গুরুতর গুনাহ |

সারমর্ম: যেহেতু উভয় অবস্থায় ব্যক্তি তার পড়া ও কর্ম সম্পর্কে সচেতন এবং নামাজের সব রুকন যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম, তাই তার নামাজ বৈধ ও আদায়যোগ্য হবে।


গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও পরামর্শ

  1. গাজা/গাঁজা সহ যেকোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা কবিরা গুনাহ। এটি হারাম ও আত্মধ্বংসাত্মক। আল্লাহ বলেন:

    "يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ"
    (হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, পূর্তিপূজা ও তীর-ভাগ্য গণনা করা শয়তানের অপবিত্র কাজ; সুতরাং তোমরা এগুলি থেকে বিরত থাক—যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।)
    (সূরা মায়িদাহ ৫:৯০)

  2. নামাজ আদায় করা ফরজ। নেশার কারণে নামাজ ফরজ হওয়া থেকে মাফ হয় না। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে নেশা করে নামাজ ছেড়ে দিলে কবিরা গুনাহ ও কুফরির আশঙ্কা রয়েছে।

  3. তওবা করা আবশ্যক: যারা গাজা/মাদক সেবন করে থাকেন, তাদের অবিলম্বে তওবা করা, নামাজকে জীবনচার্যের কেন্দ্রবিন্দু করা এবং মাদক থেকে চিরতরে বিরত থাকা জরুরি।

  4. নামাজের জন্য অপেক্ষা করা: নেশা দূর হওয়ার পর নামাজ পড়াই উত্তম। কিন্তু যদি নামাজের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে বর্তমান অবস্থায়ই (সচেতন থাকলে) নামাজ আদায় করতে হবে; দেরি করে কাজা করা যাবে না।


চূড়ান্ত উত্তর

প্রথম প্রশ্ন (১ ঘণ্টা পর, মধ্যম নেশা):
→ হ্যাঁ, তার নামাজ আদায় হবে (সঠিক ও সহিহ)।

দ্বিতীয় প্রশ্ন (৩ ঘণ্টা পর, হালকা নেশা):
→ হ্যাঁ, তার নামাজ আদায় হবে (সঠিক ও সহিহ)।

শর্ত: উপরে বর্ণিত অবস্থায় সে নামাজের সব রুকন (কিরাত, রুকু, সিজদা, তাসবিহ) সঠিকভাবে আদায় করতে সক্ষম ছিল। তবে সে নেশা করার কারণে গুনাহগার হবে এবং তার জন্য তওবামাদক ত্যাগ করা অপরিহার্য।

রেফারেন্স:

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, আশরাফ আলী থানভী
  • ফাতাওয়া উসমানী, মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী
  • রদ্দুল মুহতার, ইবনে আবিদীন
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ
  • আল-হিদায়া

সর্বশেষ: গাজা/নেশাজাতীয় সবকিছু থেকে দূরে থাকুন, নামাজকে সঠিকভাবে ও পরিপূর্ণ খুশু সহকারে আদায় করুন। আল্লাহ তাআলা সবাইকে হেদায়াত দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.