সর্দি-জ্বর হলে এবং নাক দিয়ে অনবরত পানি পরতে থাকলে নামাজ আদায় কিভাবে করবে?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 1522
Questioner: Mahmud
Question Asked: 11 Jun 2026, 11:05 PM
Reviewed & Published: 11 Jun 2026, 11:16 PM
Views: 63
Tokens: 4,385
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
১- প্রশ্ন:/ সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হলে এবং নাক দিয়ে অনবরত পানি পরতে থাকলে নামাজে কি করবে??
নামাজে তো ৩ বার নড়লেই নামাজ ফাসিদ যায়। তাহলে ব্যক্তির যদি অনবরত পানি পরতে থাকে এবং মুখে ঢুকে যেতে থাকে এবং এমন অবস্থা হয় যে গলায় চলে যাবে? তাহলে ঐসময় কি করনীয়??? একটু পর যদি হাত দিয়ে নাক মুছে তাহলে কি নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে?
২- প্রশ্ন:/ কেউ যদি একই রুকনে ইচ্ছাকৃত না হলেও শারীরিক কোনো জরুরতে যেমন হঠাৎ করেই পেটের ব্যথায় হাত ছেড়ে দেয় এবং নিজের অবস্থান থেকে একটু সামনে বা পিছনে এগিয়ে যায় এরুপ যদি পরপর বা কিছু সেকেন্ড পর ৩ বার করে ফেলে তবে কি নামাজ ফাসিদ?? ৪র্থবার করতে পারবে??

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

১ম প্রশ্নের উত্তর: সর্দি-জ্বরের কারণে নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া একটি স্বাভাবিক শারীরিক সমস্যা। নামাজের মধ্যে যদি নাকের পানি মুখে বা গলায় চলে যায়, তাহলে সেটি নামাজ ভঙ্গের কারণ হবে না, যতক্ষণ না আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে তা গিলে ফেলেন। যদি পানি নিজে থেকেই গলায় চলে যায় এবং আপনি তা গিলে ফেলতে বাধ্য হন, তাহলেও নামাজ ভঙ্গ হবে না। কারণ এটি আপনার ইচ্ছাধীন নয়।

নাক মুছার বিধান: নামাজের মধ্যে প্রয়োজনে এক হাত দিয়ে নাক মুছা যাবে। তবে একাধিকবার (তিনবারের বেশি) নড়াচড়া করলে নামাজ ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এক বা দুইবার নাক মুছলে নামাজ ভঙ্গ হবে না। তবে তিনবারের বেশি না করাই উত্তম। হাদীসে এসেছে, নামাজের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৫৩৮)

সারসংক্ষেপ:

  • নাকের পানি মুখে বা গলায় চলে গেলে নামাজ ভঙ্গ হবে না।
  • প্রয়োজনে দুই-একবার নাক মুছলে নামাজ ভঙ্গ হবে না।
  • তবে তিনবারের বেশি নড়াচড়া করলে বা নাক মুছলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে।

২য় প্রশ্নের উত্তর: নামাজের মধ্যে ইচ্ছাকৃত না হলেও শারীরিক জরুরতের কারণে যেমন পেটের ব্যথায় হাত ছেড়ে দেওয়া বা নিজের স্থান থেকে সামনে-পিছনে সরে যাওয়া, যদি তা তিনবারের বেশি হয়, তবে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে এক বা দুইবার করলে নামাজ ভঙ্গ হবে না। কারণ, তিনবারের বেশি নড়াচড়াকে ফিকহের পরিভাষায় ‘আমালে কাসীর’ (অতিরিক্ত কাজ) বলা হয়, যা নামাজ ভঙ্গের কারণ।

চারবার করার বিধান: যদি কেউ তিনবার নড়াচড়া করে ফেলে, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে। তাই চারবার করার প্রশ্ন আসে না। তবে যদি একবার বা দুইবার নড়াচড়া করে এবং পরে আবার জরুরত আসে, তাহলে সেটি আলাদাভাবে গণনা করা হবে। মোট তিনবারের বেশি না হলে নামাজ ভঙ্গ হবে না।

হানাফি ফিকহের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (১/৪৫৭): “নামাজের মধ্যে তিনবার নড়াচড়া করলে নামাজ ভঙ্গ হয়।”
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (১/১০২): “নামাজের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া তিনবারের বেশি হলে নামাজ ফাসিদ হয়ে যায়।”
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২২৫): “শারীরিক জরুরতের কারণে প্রয়োজনীয় নড়াচড়া নামাজ ভঙ্গের কারণ নয়, তবে তিনবারের বেশি হলে ভঙ্গ হবে।”

সারসংক্ষেপ:

  • শারীরিক জরুরতের কারণে এক-দুইবার নড়াচড়া করলে নামাজ ভঙ্গ হবে না।
  • তিনবারের বেশি (তিনবার বা তার অধিক) নড়াচড়া করলে নামাজ ভঙ্গ হবে।
  • চারবার করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ তিনবারের পরই নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায়।

উপসংহার: নামাজের মধ্যে নাক মোছা, পেটের ব্যথায় নড়াচড়া ইত্যাদি যদি প্রয়োজনবশত এক-দুইবার করা হয়, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হবে না। তবে তিনবারের বেশি নড়াচড়া করলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করার তাওফীক দান করুন। (আমীন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.