স্বামী স্ত্রীর একসাথে উমরাহ করা বিষয়ক

Hajj and Umrah · Hanafi

Question No: 1503
Questioner: Nusrat Jahan
Question Asked: 11 Jun 2026, 04:54 PM
Reviewed & Published: 11 Jun 2026, 04:59 PM
Views: 51
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমার হাসবেন্ড উমরাহ করতে চাচ্ছেন একা। উনার মা বাবা এখনও উমরাহ করেন নি, কারণ আমার শশুর এর তেমন রোজি রোজগার নাই। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমার হাসবেন্ড যদি উনার বাবা মা কে না নিয়ে আমাকে নিয়ে উমরাহ করতে যান তাইলে কি কোনো অবিচার হবে? বা উনার বাবা মার থেকে কি আমাকে নিয়ে উমরাহ করতে যাওয়া কোনোভাবে বেশি জরুরী? আমি উনার সাথে যেতে চাচ্ছি কিন্তু শশুর শাশুড়ীকে রেখে যাওয়া কি উচিত? এই সিচুয়েশনে আমার হাসবেন্ড এর কি করা উচিত?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

স্বামীর জন্য একা উমরাহ করা জায়েয আছে, তবে আপনার শ্বশুর-শাশুড়ি যদি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হন এবং তাদের উমরাহ করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ। আপনার সাথে উমরাহ করা জরুরী নয়, বরং পিতামাতার সেবা ও তাদের ইবাদতে সহযোগিতা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই পরিস্থিতিতে স্বামীর উচিত:

  1. প্রথমে নিজের পিতামাতাকে (আপনার শ্বশুর-শাশুড়ি) উমরাহ করতে সহায়তা করা, যদি সামর্থ্য থাকে।
  2. যদি সবাইকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হয়, তবে পিতামাতাকে নিয়ে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
  3. যদি পিতামাতা বর্তমানে যেতে অসমর্থ হন (যেমন অসুস্থতা বা অনিচ্ছা), তাহলে আপনাকে নিয়ে যেতে পারেন।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও দলিল:

১. পিতামাতার হক ও উমরাহর মর্যাদা:

হাদিসে পিতামাতার সেবা ও খেদমতকে জিহাদের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।

  • হাদিস: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?" তিনি বললেন: "সময়ে সালাত আদায় করা।" তারপর বললেন: "পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা।" (সহীহ বুখারী, ৬২৭০)
  • উমরাহর ফজিলত: উমরাহ গুনাহ মিটিয়ে দেয় এবং হাজ্জে মাবরুর-এর সমতুল্য সওয়াব দেয়। (সহীহ মুসলিম, ১৩৪৯)

তবে পিতামাতার ইবাদতে সহযোগিতা (যেমন তাদের উমরাহ করানো) তাদের জীবিত থাকা অবস্থায় তাদের হক আদায়ের একটি অংশ। তাই আপনার শ্বশুর-শাশুড়ি যদি উমরাহ করতে আগ্রহী হন এবং আর্থিকভাবে অক্ষম হন, তাহলে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ।

২. স্ত্রী বনাম পিতামাতা – কার অগ্রাধিকার?

ইসলামে পিতামাতার হক সন্তানের উপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন তারা বৃদ্ধ ও অসহায় হন।

  • ফাতাওয়া শামী (রদ্দুল মুহতার): পিতামাতার প্রয়োজন পূরণ করা সন্তানের উপর ওয়াজিব (ফরজের কাছাকাছি), যেখানে স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক নফল ইবাদতের পর্যায়ভুক্ত।
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফতোয়া: যদি পিতা-মাতা সন্তানের নিকট সাহায্য চান, তাহলে সন্তানের জন্য তাদের সাহায্য করা জরুরি, এমনকি যদি নিজের পরিবারের প্রয়োজনও থাকে। (কিতাবুল আছল, ৩/২১৬)

তাই আপনার স্বামীর জন্য সবচেয়ে রাস্তা হলো:
✔ যদি তার সামর্থ্য থাকে, তবে শ্বশুর-শাশুড়িকে সাথে নিয়ে আপনাকেও নিয়ে যাওয়া।
✔ যদি সামর্থ্য সীমিত হয়, তাহলে পিতামাতাকে নিয়ে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কেননা তাদের বয়স বেশি, তারা হয়তো ভবিষ্যতে যেতে পারবেন না।

৩. আপনাকে একা নিয়ে যাওয়া – অবিচার হবে কি?

স্বামী যদি আপনাকে নিয়ে উমরাহ করেন এবং পিতামাতাকে বাদ দেন, তবে এটি গুনাহ নয়, তবে পিতামাতার হকের প্রতি অবহেলা হতে পারে যদি তারা আগ্রহী ও অসহায় হন।

  • মা’রিফুল কুরআন (৮ম খণ্ড, সূরা বনী ইসরাঈল ২৩-২৪): পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার ও তাদের সেবা করা ফরজ। তাদের উমরাহ করানো সেবার একটি অংশ।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৩/৪৫২): পিতামাতার ইচ্ছা পূরণ করা, বিশেষত ইবাদতের ক্ষেত্রে, নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম।

৪. শশুর-শাশুড়ীকে রেখে যাওয়া – করণীয়:

আপনার শ্বশুর-শাশুড়ী যদি অসুস্থ বা সহায়তাহীন না হন, তাহলে তাদের রেখে যাওয়া জায়েয। তবে তাদের মনে কষ্ট হলে সেটা এড়িয়ে চলা ভালো।

  • হাদিস: "যে ব্যক্তি পিতামাতাকে কষ্ট দেয়, সে আমার উম্মতের নয়।" (সহীহ ইবনে হিব্বান, ২/২২৮)

স্বামীর জন্য করণীয়:

  1. পিতামাতার অবস্থা বোঝা: তারা কি উমরাহ করতে আগ্রহী? তাদের শারীরিক ও আর্থিক অবস্থা কী?
  2. সাধ্যমতো চেষ্টা: যদি সবাইকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে পিতামাতাকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা।
  3. স্ত্রীর সাথে আলোচনা: আপনার স্বামীকে এই দলিলগুলো বোঝাতে বলুন এবং তাকে উৎসাহিত করুন আগে পিতামাতার হক আদায়ে।
  4. বিকল্প ব্যবস্থা: যদি পিতামাতা এখন যেতে না পারেন, তাহলে আপনি স্বামীর সাথে উমরাহ করতে পারেন এবং পরবর্তীতে তাদের ব্যবস্থা করবেন।

সারমর্ম:
উমরাহ নফল ইবাদত, পিতামাতার সেবা ফরজ বা ওয়াজিব। তাই পিতামাতার প্রয়োজন ও আগ্রহ থাকলে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া আপনার স্বামীর জন্য অধিক সওয়াবের কাজ।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.