মৃত বাবার ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা সম্পর্কে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1419
Questioner: JJ
Question Asked: 09 Jun 2026, 06:42 PM
Reviewed & Published: 09 Jun 2026, 07:33 PM
Views: 61
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমাদের বাবা আরো ১০ বছর আগে একটি ব্যাংক ঋণ করে মারা যান, বসতভিটা টি মর্টগেজ রেখে। ধরে নেই ঋণ ৫০ লাখ টাকার ছিল, এবং বাড়ির দাম ছিলো প্রায় ১ কোটি টাকা তৎকালীন। বাড়ি টা রাখার নিয়তে তখন থেকে প্রায় ৭-৮ বছর আমরা ব্যাংক এ টাকা দিতে দিতে ২৫ লাখ এর মতো পরিশোধ করি, ব্যাংক একদিন সুদ হিসাবে তা কেটে নেয়, এবং আবার ৫৫ লাখ টাকার মতো দাবি করে। এরপর আমরা আর টাকা দেই নাই, বর্তমানে সুদ সহ ১১০ লাখ টাকা তারা চায়, সেই ৫৫ লাখ টাকার উপরে।
বর্তমানে বাড়ির মূল্য ১ কোটি ৯০-২ কোটি হবে।
আমরা ৪ জন ওয়ারিশ, এই বাড়িতেই থাকি। এছাড়া আমাদের অন্য কোন সম্পত্তি বা থাকার মতো ভিটা নেই।
এই মূহুর্তে আমাদের উপর হুকুম এবং দায়িত্ব কি?

Answer

উত্তর:
আপনাদের বাবা যে ব্যাংক ঋণ (সুদী ঋণ) নিয়েছিলেন, তা সুদের সাথে জড়িত হওয়ায় হারাম। তবে মৃত ব্যক্তির জিম্মায় থাকা মূল ঋণ (আসল) তার সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করা ওয়ারিশদের উপর ফরজ। নিচে বিস্তারিত ফাতাওয়া ও করণীয় দেয়া হলো।


১. সুদী লেনদেনের হুকুম

কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে সুদ (রিবা) হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন:

“وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا”
“আল্লাহ বেহেশত হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।” (সূরা বাকারা, ২:২৭৫)

“لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً”
“তোমরা সুদ খেয়ো না দ্বিগুণ-চতুর্গুণভাবে।” (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৩০)


২. ঋণ পরিশোধের মূলনীতি

মৃত ব্যক্তির উপর থাকা ঋণ তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে আদায় করা ওয়ারিশদের ওপর ফরজ

“نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ”
“মুমিনের রূহ তার ঋণের কারণে আটক থাকে, যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

হানাফী ফিকহের কিতাবে আছে:

“إِذَا مَاتَ الْمَدْيُونُ وَتَرَكَ مَالًا، يُبْدَأُ بِدُيُونِهِ ثُمَّ الْوَصَايَا ثُمَّ الْمِيرَاثُ”
“যদি ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি মারা যায় এবং সম্পদ রেখে যায়, তবে প্রথমে ঋণ আদায় করা হবে, তারপর ওসিয়ত, তারপর উত্তরাধিকার বণ্টন।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৬/১৫৪; রদ্দুল মুহতার, ৫/২৬৮)


৩. বর্তমান বাড়ি ও মর্টগেজের অবস্থা

বাড়িটি মর্টগেজ থাকলেও এটি মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি। ঋণ পরিশোধের জন্য এই সম্পত্তি বিক্রি করা জরুরি হতে পারে, যদি অন্য কোনো উপায় না থাকে। যেহেতু অন্য কোনো সম্পত্তি নেই এবং তোমরা ৪ জন ওয়ারিশ এই বাড়িতেই থাকেন, তবুও শরিয়তের দৃষ্টিতে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি প্রথম অগ্রাধিকার

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার সম্পত্তি ভোগ করা জায়েজ নয়। (আল-হিদায়া, ৩/১৪৩)


৪. করণীয় (হুকুম ও দায়িত্ব)

(ক) ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করুন

(খ) বাড়ি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করুন

  • অন্য কোনো উপায় না থাকলে প্রয়োজনে বাড়ি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করুন ।
  • এটি শরিয়তসম্মত ও নিরাপদ পথ। বাড়ি না বিক্রি করে রাখলে ব্যাংক মামলা করে বাড়ি কেড়ে নিতে পারে, তখন তোমরা সব হারাতে পারেন।

(গ) ইস্তিগফার ও তওবা করুন

  • আপনাদের বাবা যে সুদী লেনদেন করেছেন, তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

“وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ”
“যদি ঋণগ্রহীতা নিঃস্ব হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দাও।” (সূরা বাকারা, ২:২৮০)
তবে তোমাদের কাছে সম্পদ (বাড়ি) থাকায় ঋণ আদায় করা ফরজ।

৫. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

শরিয়তের হুকুম:
১. বর্তমানে উক্ত ঋণ পরিশোধ করা ফরজ**।
২. বাড়ি রাখার জন্য অন্য কোনো বৈধ উপায় না থাকলে বিক্রি করাই উত্তম
৩. আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করো এবং ভবিষ্যতে সুদী লেনদেন থেকে দূরে থাকো।

وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.