সরকারি রেমিটেন্স প্রণোদনা জায়েয কি না? এটার প্রকৃত মালিক কে, প্রাপক না গ্রাহক?
Halal and Haram · Hanafi
Question No:
1357
Questioner:
Syed Ali
Question Asked:
08 Jun 2026, 12:21 AM
Reviewed & Published:
08 Jun 2026, 12:33 AM
Views:
24
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম ।
আমার ভাই দেশের বাহিরে থাকেন, সে হিসাবে তিনি প্রত্যেক মাসে ঘরের মাসিক খরচের জন্য প্রতি মাসে মাসে আমার একাউন্টে টাকা পাঠান। এখন আমার প্রশ্ন হলো যে, এই র্যামিটেন্সের সাথে সরকার যে বোনাস দিয়ে থাকে সেটা কি আমি গ্রহন করতে পারবো? নাকি এটার হিসাব আমার ভাইকে দিতে হবে বা ঘরে দিতে হবে?
জাযাকাল্লাহ
আমার ভাই দেশের বাহিরে থাকেন, সে হিসাবে তিনি প্রত্যেক মাসে ঘরের মাসিক খরচের জন্য প্রতি মাসে মাসে আমার একাউন্টে টাকা পাঠান। এখন আমার প্রশ্ন হলো যে, এই র্যামিটেন্সের সাথে সরকার যে বোনাস দিয়ে থাকে সেটা কি আমি গ্রহন করতে পারবো? নাকি এটার হিসাব আমার ভাইকে দিতে হবে বা ঘরে দিতে হবে?
জাযাকাল্লাহ
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে উল্লেখিত "বোনাস" হলো সরকার কর্তৃক রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহিত করার জন্য প্রদত্ত একটি প্রণোদনা (ইনসেনটিভ)। এটি কোনো সুদ বা রিবা নয়, বরং এটি একটি বৈধ পুরস্কার বা হেবা (উপহার) হিসাবে গণ্য হবে। তবে এই বোনাসের মালিকানা কাকে হবে—এটাই মূল বিষয়।
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও হানাফী ফিকহের আলোকে বিধান:
১. আপনার ভাই আপনাকে যে টাকা পাঠান, তা পরিবারের মাসিক খরচের জন্য আমানত বা উকীল (প্রতিনিধি) হিসাবে গ্রহণ করেন।
- আপনি উক্ত টাকার মালিক নন; বরং আপনি সেটি নির্দিষ্ট খাতে (পরিবারের খরচ) ব্যয় করার জন্য নিযুক্ত প্রতিনিধি।
- তাই যে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা (বোনাস) যা এই টাকা প্রেরণের ফলে উৎপন্ন হয়, সেটির মালিক হবেন টাকার প্রকৃত মালিক (আপনার ভাই), যতক্ষণ না তিনি আপনাকে তা রাখার অনুমতি দেন।
২. হানাফী ফিকহের নীতি:
- ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, কোনো বস্তুর ফল বা উপজাত (ফা’ইদা) তার মূল মালিকেরই প্রাপ্য, যতক্ষণ না অন্য কেউ তা গ্রহণের বৈধ অধিকার অর্জন করে। (বদায়েউস সানায়ে, ৬/১২৮)
- ইবনে আবেদীন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’-এ বলেন:
“যদি কেউ অপরের পক্ষ থেকে মাল গ্রহণ করে এবং সেই মালের সাথে কোনো অতিরিক্ত লাভ আসে, তবে সেই লাভ মূল মালিকেরই হবে, যতক্ষণ না প্রতিনিধি সেটি গ্রহণের অনুমতি পায়।” (রদ্দুল মুহতার, ৪/৫৫৫)
৩. ফতোয়ায়ে উসমানী (মুফতী তাকী উসমানী দা. বা.)-এ এসেছে:
- “যে ব্যক্তি কারো পক্ষ থেকে টাকা গ্রহণ করে এবং সেই টাকা জমা রাখার কারণে ব্যাংক বা সরকার থেকে কোনো বোনাস বা উপহার পাওয়া যায়, তাহলে সেই বোনাস মূল মালিকের প্রাপ্য। প্রতিনিধির জন্য তা নিজের রাখা জায়েয নয়, যদি না মালিক স্বেচ্ছায় তাকে দিয়ে দেয়।” (ফতোয়ায়ে উসমানী, ২/৫৩৬)
আপনার করণীয়:
- আপনি এই বোনাস নিজের জন্য রাখতে পারবেন না যতক্ষণ না আপনার ভাই (মালিক) আপনাকে স্পষ্টভাবে তা দেওয়ার অনুমতি দেন।
- বোনাসটি আপনার ভাইয়ের সম্পত্তি। তাই আপনি এটি:
- (ক) আপনার ভাইকে ফেরত দিতে পারেন, অথবা
- (খ) তাঁর অনুমতি নিয়ে পরিবারের খরচে ব্যবহার করতে পারেন, কারণ তিনি তো সেই খরচের জন্যই টাকা পাঠান।
- সর্বোত্তম পদ্ধতি: আপনার ভাইকে জানিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়া। যদি তিনি বলেন, “তুমি বোনাসটি রেখে দাও” অথবা “পরিবারের খরচে ব্যবহার করো”, তাহলে তা জায়েয হবে।
সারসংক্ষেপ:
- বোনাস গ্রহণ করা জায়েয, তবে তা আপনার ভাইয়ের প্রাপ্য।
- আপনার জন্য তা নিজের রাখা বৈধ নয়, তবে ভাইয়ের অনুমতি সাপেক্ষে তা ব্যবহার করতে পারেন।
- সরকারি বোনাস রিবা নয়, বরং বৈধ প্রণোদনা।
والله أعلم بالصواب