তেলাপোকার পায়খানা কি পাক? কোরআন-হাদীসের কাগজে লাগলে করণীয় কী?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২।তেলাপোকার পায়খানা যদি পাক এই মত গ্রহন করি তাহলে কোরআন হাদিস আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নামের কিছুতে লাগে পরিস্কার না করি কারন এটাতো নাপাক ধরিনা তাহলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
৩।মোবাইলে জিনের ঘটনা শুনি যারা শুনায় তারা নাকি মানুষ থেকে সংগ্রহ করে শুনতে ভালো লাগে, ভয়ের মজা নেই,ঘটনার মধ্যে হারিয়ে যাই এইজন্য যদি প্রচার না করি তাহলে কি কোরআন হাদিসের উপর গুরত্ব দেওয়া হবে না।
★আর জিনের ঘটনা শুনার সময় কি কি করলে কোরআন হাদিসের উপর গুরত্ব দেওয়া হবে?
Answer
উত্তর
১. কোরআন-হাদীসের কাগজে তেলাপোকার পায়খানা লাগলে করণীয় ও ইমানের সমস্যা
উত্তর: হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী তেলাপোকার পায়খানা পাক (পবিত্র)। কারণ তেলাপোকা এমন কীট যার প্রবাহিত রক্ত নেই (লা দামা সাইল), এর মল-মূত্র নাপাক নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/২০৭; ফাতাওয়া উসমানী, ১/১২৪; বাহিশ্তী জেওর, ১/৫২; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১২৯)
যেহেতু তেলাপোকার পায়খানা পাক, তাই তা কোরআন-হাদীসের কাগজে লাগলেও কাগজ অপবিত্র হয় না। আপনি শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলেছেন, এটাই যথেষ্ট। ১০-১৫ দিন পরে চেক করা বা না করায় কোনো গুনাহ বা ইমানের সমস্যা হবে না। তবে সুন্নত হলো পবিত্র কিতাবসমূহকে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: কোরআনের আয়াত, হাদীস বা আল্লাহ ও রাসূলের নামের প্রতি বে-আদবী না হওয়া জরুরি। কিন্তু এখানে আপনি বে-আদবী করেননি, বরং স্বাভাবিক কারণে পায়খানা পড়েছে এবং আপনি তা মুছে দিয়েছেন। তাই কোনো গুনাহ বা ইমানের সমস্যা নেই।
২. তেলাপোকার পায়খানাকে পাক ধরে না সাফ করলে গুনাহ হবে কি?
উত্তর: হানাফী মাযহাবে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তেলাপোকার পায়খানা পাক। তাই আপনি যদি এ মত গ্রহণ করে তা পরিষ্কার না করেন, তবে কোনো গুনাহ বা ইমানের সমস্যা হবে না। যেহেতু আপনি তা পাক মনে করেন, তাই সাফ না করলে অশুদ্ধ কিছু হচ্ছে না। তবে যদি কারো নিকট তা অপবিত্র মনে হয়, তবে অবশ্যই সাফ করে নেওয়া উচিত। কিন্তু প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় আপনি ইতিমধ্যে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলেছেন, তাই অতিরিক্ত কোনো করণীয় নেই।
সতর্কতা: যেহেতু তেলাপোকার পায়খানা পাক, তাই তা স্পর্শ করলেও হাত নাপাক হয় না। সালাত, কোরআন তিলাওয়াত ইত্যাদিতে কোনো সমস্যা নেই।
৩. মোবাইলে জিনের ঘটনা শোনা ও কোরআন-হাদীসের গুরুত্ব
প্রশ্ন: জিনের ঘটনা শুনতে ভালো লাগে, ভয়ের মজা লাগে, ঘটনার মধ্যে হারিয়ে যাই। কোনো প্রচার না করলে কি কোরআন-হাদীসের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় না? আর জিনের ঘটনা শোনার সময় কী করলে কোরআন-হাদীসের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে?
উত্তর: জিনের ঘটনা শোনা নিজে শুধু শোনার জন্য (শিক্ষা বা সতর্কতা ব্যতীত) যদি কোরআন-হাদীস থেকে গাফিলতি সৃষ্টি করে, তবে তা উচিত নয়। ইসলামে বিনোদনের জন্য ভয় বা কৌতূহলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কোরআন-হাদীসের উপর গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ হলো—এগুলোর শিক্ষা, আদেশ-নিষেধ এবং জিকির-আযকারকে জীবনে অগ্রাধিকার দেওয়া। যদি জিনের ঘটনা শোনা আপনাকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তবে তা নিন্দনীয়। কিন্তু যদি মাঝে মাঝে সাবধানতা ও শিক্ষার জন্য শোনেন, তবে দোষ নেই।
জিনের ঘটনা শোনার সময় করণীয়:
- শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ুন এবং ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম’ বলুন।
- মনে রাখবেন, জিনের ঘটনা সত্য হলেও তা কোরআন-হাদীসের বিকল্প নয়। আপনার ইমান ও আমলের ভিত্তি কোরআন-সুন্নাহ।
- শোনার পর কোরআন তিলাওয়াত বা জিকির করুন। যেমন: আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়া।
- ভয়ের মজা না নিয়ে বরং সতর্কতা ও ইবাদতে মনোযোগী হোন। যাতে জিনের ভয় আপনাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে, বিনোদনের মাধ্যম না হয়।
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত না শুনে সময় নষ্ট না করা। সময়কে আল্লাহর ইবাদত, জ্ঞানার্জন ও উপকারী কাজে ব্যয় করা জরুরি।
সারসংক্ষেপ: জিনের ঘটনা শোনা শুধু বিনোদনের জন্য হলে কোরআন-হাদীসের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে যদি আপনি তা শোনার পর আল্লাহর স্মরণে ফিরে আসেন এবং কোরআন-হাদীসের শিক্ষাকে জীবনে প্রাধান্য দেন, তাহলে সমস্যা নেই। ব্যক্তির ইমান ও আমলের ওপরই নির্ভর করে।