স্বপ্নে অপরিচিত কারো সাথে স্বপ্নদোষ হওয়ার ব্যাখ্যা কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Parul mimi
Question Asked: 05 Jun 2026, 04:14 PM
Reviewed & Published: 05 Jun 2026, 04:21 PM
Views: 3
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বপ্নে অপরিচিত কারো সাথে সেক্সের সিন দেখে স্বপ্নদোষ হলে এটা কিসের লক্ষণ

Answer

স্বপ্নে অপরিচিত কারো সাথে সেক্সের সিন দেখে স্বপ্নদোষ – ইসলামী দৃষ্টিকোণ

উত্তর

স্বপ্নে অপরিচিত কারো সাথে যৌন সম্পর্কের দৃশ্য দেখা এবং তার কারণে স্বপ্নদোষ (ইহতিলাম) হওয়া কোনো নেতিবাচক লক্ষণ বা পাপের ইঙ্গিত নয়। ইসলামী শরিয়ত অনুসারে, স্বপ্নদোষ একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া এবং এর জন্য কোনো গুনাহ নেই। বরং এটি থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল ফরজ হয়।

স্বপ্নের প্রকারভেদ

হাদিসে এসেছে, স্বপ্ন তিন প্রকার:

  1. আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বা কল্যাণকর স্বপ্ন
  2. শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি বা কুমন্ত্রণার স্বপ্ন
  3. মনের কল্পনা বা দৈনন্দিন চিন্তার প্রতিফলন

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৯৮৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৬১)

উপরোক্ত স্বপ্নটি সাধারণত শয়তানের প্ররোচনা বা মনের অবচেতন চিন্তার কারণে হতে পারে। তবে এটিকে বিশেষ কোনো লক্ষণ বা ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।

স্বপ্নদোষের বিধান

  • স্বপ্নদোষ (ইহতিলাম) হলে গোসল ফরজ হয়। এটি স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়া।
  • কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কামোত্তেজক চিন্তা না করে স্বপ্নে এরকম দেখে, তবে তার ওপর কোনো পাপ নেই।
  • রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “মুসলিম উম্মতের জন্য তাদের মনের খেয়াল ও কল্পনা মাফ করে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না সে তা বাস্তবে কাজে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৬৪)

হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী) – “স্বপ্নে বীর্যপাত হলে গোসল ওয়াজিব হয়, তা সে যেকোনো কারণে হোক না কেন।”
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) – “স্বপ্নদোষের কারণে গোসল ফরজ হয় এবং এটি কোনো পাপের কারণ নয়।”
  • বেহেশতি জেওর (আশরাফ আলী থানভী) – “স্বপ্নে যদি কারো সাথে যৌন সম্পর্ক দেখেন, তবে তা শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে পারে; এতে ভয় বা দুশ্চিন্তার কিছু নেই।”

উপসংহার

স্বপ্নে অপরিচিত কারো সাথে যৌন দৃশ্য দেখা এবং স্বপ্নদোষ হওয়া কোনো অশুভ লক্ষণ নয়। এটি সাধারণত শারীরিক চাহিদা বা শয়তানের প্ররোচনার ফল। এর জন্য কোনো তওবা বা বিশেষ আমলের প্রয়োজন নেই। শুধু গোসল করে পবিত্র হয়ে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত চালিয়ে যেতে হবে। বেশি বেশি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন এবং অশ্লীল চিন্তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.