অনিচ্ছাকৃতভাবে ঈমান-বিরোধী কথা বললে কি ঈমান ভঙ্গ হয়?
Faith and Belief · Hanafi
Question
কথা বলার সময় অনিচ্ছাকৃত ভাবে, না বুঝে মুখ দিয়ে যদি এমন কথা বলে ফেলি যেটা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক, তাহলে কি ঈমান ভঙ্গ হয়ে যাবে? আমরা অনেক সময় অনেক কথা বলে ফেলি না বুঝেই বা অজ্ঞাতে কিন্তু পরে হঠাৎ মনে হয় এটা আমার বলা ঠিক হয়নি এটা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক । এতে কি আমাদের ঈমানের কোনো ক্ষতি হয়?
জাযাকাল্লাহ
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে—অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃতভাবে, না বুঝে বা অজান্তে মুখ দিয়ে ঈমান-বিরোধী কোনো কথা বের হয়ে গেলে, তা দ্বারা ঈমান ভঙ্গ হয় না। তবে শর্ত হলো, সেই কথা বলার সময় ব্যক্তির অন্তর তার প্রতি সন্তুষ্ট বা সম্মত না ছিল এবং সে তা বুঝেও বলেনি।
হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, কুফরি শব্দ উচ্চারণ করলেও যদি তা অনিচ্ছাকৃত হয় (যেমন: ভুলে, অসাবধানতাবশত, বা অর্থ না বুঝে) এবং অন্তর তা সমর্থন না করে, তাহলে তা ঈমান ভঙ্গের কারণ হয় না। তবে সতর্কতা হিসেবে তওবা ও ঈমান পুনর্নবীকরণ করা উত্তম।
প্রমাণ:
- রদ্দুল মুহতার (৪/২২৪): “কুফরি শব্দ উচ্চারণ করলে যদি তা ইচ্ছাকৃত হয়, অর্থ জানে এবং সেটা বুঝে বলে, তবে ঈমান চলে যায়। আর যদি ভুলে বা অর্থ না বুঝে বলে, অথবা জবরদস্তির কারণে বলে, তাহলে ঈমান ভঙ্গ হয় না।”
- ফতোয়া হিন্দিয়্যাহ (২/২৭৮): “যদি কেউ কুফরি শব্দ উচ্চারণ করে অথচ তার অন্তর তা পছন্দ করে না, বরং তার অন্তর ঈমানের উপর অটল থাকে, তাহলে সে কাফির হবে না।”
- ইমদাদুল ফতোয়া (৪/২১২): “ভুল করে বা অজান্তে কুফরি কথা বললে ঈমান নষ্ট হয় না; তবে তওবা করতে হবে এবং কালেমা পড়ে নেওয়া মুস্তাহাব।”
সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় (অনিচ্ছাকৃত, না বুঝে) ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না, ইনশাআল্লাহ। তবে পরবর্তীতে যখন বুঝতে পারেন যে কথাটি ভুল ছিল, তখন ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলে তওবা করুন এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ পাঠ করে নিন। আর ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলা থেকে সাবধান থাকবেন।