ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রেমের সম্পর্ক ও বিবাহ নিয়ে দোয়া করার বিধান।

Halal and Haram · Hanafi

Questioner: Irfan Islam
Question Asked: 04 Jun 2026, 02:33 PM
Reviewed & Published: 04 Jun 2026, 03:29 PM
Views: 45
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার একটা ছেলের সাথে রিলেশন আছে। তার সাথে ফিজিক্যাল কিছু হয় নাই কিন্তু সে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো। এতে করে আমার যদি ঐ ছেলের সাথে বিবাহ না হয় তাহলে আমি অন্যের হক নষ্টের গুনাহতে শামিল হয়ে গেলাম। এখন আমি চাইতেছি যার সাথে আমার রিলেশন ছিল তার সাথেই বিয়ে করার এতে করে অন্তত হক নষ্টের গুনাতে শামিল হতে হবে না। আমি কি এভাবে দোয়া করতে পারব যে আল্লাহ তুমি আমাকে হক নষ্টের গুনাতে সামিল করিও না আমাকে ওই ছেলের সাথে বিবাহ সহজ করে দাও।

Answer

আপনার প্রশ্নের উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, আপনি এভাবে দোয়া করতে পারেন। তবে আপনার বুঝতে হবে যে সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে যা হয়েছে তা গুনাহ, এবং এজন্য তওবা করা আবশ্যক। বিবাহের মাধ্যমে সম্পর্ক বৈধ করলে পূর্বের গুনাহ মাফ হবে না যদি না আপনি সঠিকভাবে তওবা করেন।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

১. সম্পর্কের বিধান

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, অবিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো প্রকার শারীরিক সম্পর্ক বা ঘনিষ্ঠতা হারাম। আপনি যা করেছেন (জড়িয়ে ধরা) তা নাজায়েজ কাজ। কুরআনে আল্লাহ বলেন:

"আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।" (সূরা বনী ইসরাইল, ১৭:৩২)

২. তওবার প্রয়োজনীয়তা

আপনার উচিত আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার সংকল্প করা। তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে:

  1. গুনাহ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা
  2. কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া
  3. ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা

৩. "অন্যের হক নষ্ট" প্রসঙ্গ

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, যেহেতু কারো সাথে কোনো বিবাহের চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি ছিল না (যেমন বাগদান), তাই এখানে "অন্যের হক নষ্ট" হওয়ার বিষয়টি সরাসরি প্রযোজ্য নয়। তবে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া নিজেই গুনাহ।

৪. বিবাহের মাধ্যমে সংশোধন

আপনি যদি ঐ ব্যক্তির সাথে বিবাহ করতে চান, তাহলে বিবাহের পূর্বে সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিতে হবে এবং বিবাহের বৈধ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিবাহের পর আপনার সম্পর্ক বৈধ হবে। কিন্তু অতীতের গুনাহ তওবা ছাড়া মাফ হবে না।

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, তওবা ছাড়া গুনাহ মাফ হয় না, যদিও মানুষ বিবাহ করে।

৫. দোয়া সম্পর্কে

আপনার দোয়ার পদ্ধতি ঠিক আছে। আপনি এভাবে দোয়া করতে পারেন:

"ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাকে হক নষ্টের গুনাহে পতিত করবেন না এবং আমার জন্য ঐ ছেলের সাথে বিবাহ সহজ করে দিন, যদি তা আমার জন্য কল্যাণকর হয়।"

তবে দোয়ার সাথে সাথে আপনার কর্তব্য:

  • অতীতের জন্য তওবা করা
  • বর্তমান সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দেওয়া
  • বিবাহের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের রেফারেন্স

ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী):

"অবিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো প্রকার শারীরিক সম্পর্ক, এমনকি স্পর্শ করা বা আলিঙ্গন করাও হারাম। এর জন্য তওবা করা আবশ্যক। বিবাহের মাধ্যমে পূর্বের সম্পর্ক বৈধ হয় না, বরং তওবা করতে হবে।"

বেহেশতী জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানবী):

"যুবক-যুবতীদের উচিত বিবাহের আগে কোনো প্রকার সম্পর্ক না রাখা। যদি কেউ এতে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে তওবা করতে হবে এবং বিবাহের মাধ্যমে সম্পর্ককে বৈধ করে নিতে হবে।"

উপসংহার

আপনি দোয়া করতে পারেন, তবে এর সাথে তওবা ও সম্পর্ক ছেড়ে দেওয়া আবশ্যক। বিবাহ একটি বৈধ পন্থা, কিন্তু তা পূর্বের গুনাহ মাফ করবে না; তওবা আবশ্যক।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.