”হ্যা দিয়া দিছি” বললে কি তালাক হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Questioner: Romana Akter
Question Asked: 03 Jun 2026, 09:52 PM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 09:58 PM
Views: 53
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার আর আমার স্বামীর মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন তিনি আলাদা থাকার কথা বলেন।বলেন যে উনি আলাদা বাসায় থাকবেন আমি আলাদা কিন্তু খরচ দিয়ে দিবেন এবং মাঝে মাঝে দেখা করবেন।তখন আমি বলছি থাকেন খালি।উনি আবার আমাকে বলছে তুই দেখতে চাস পারি কিনা?? ঠিক এই কথাই থাকলো। উনি আরো বলেন এক বেডি তার জামাইকে বলছে তুই বাদাইম্মা কি তালাক দিবি।পরে তালাক দিয়া দিছি।আমি উনার এই ব্যাপারটা ক্লিয়ার না বুঝায়।উনাকে জিজ্ঞাসা করি উনি কি আমাকে তালাক দিছে নাকি।উনি উত্তরে বলে হ্যা তোর মাথায় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তো। আল্লাহ মাফ করুক। আমি উনাকে বার বার জিজ্ঞাসা করি উনি কি আমাকে তালাক দেওয়ার কথা বলেছে।উনি বলেছে আল্লাহ মাফ করুক।আমি এমন কিছু বলিনি। আরো বলেছে তুই চাস আমি এমন কিছু বলি।তোর তো নিজের জামাই ভালালাগে না। আসলে ঐ সময় অনেক রাতে উনি কি বলেছিল আমার স্পষ্ট মনে নেই। আমাদের কি তালাক হয়েছে। আমাদের করনীয় কি

এখন আমার প্রশ্ন আমার স্বামী হ্যা এবং দিয়া দিছি এসব কথায় তালাক হবে কি??

Answer

উত্তরঃ
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার স্বামী যে কথাগুলো বলেছেন তা স্পষ্ট তালাকের শব্দ নয়। তিনি অন্য একজনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন, "এক বেডি তার জামাইকে বলছে... পরে তালাক দিয়া দিছি" – এটি সরাসরি আপনার প্রতি তালাকের ইংগিত নয়। আর আপনি যখন জিজ্ঞাসা করলেন তিনি কি আপনাকে তালাক দিয়েছেন, তখন তিনি অস্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন, যেমন "হ্যা তোর মাথায় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তো" বা "আল্লাহ মাফ করুক, আমি এমন কিছু বলিনি" – এগুলো তালাকের স্বীকৃতি নয়, বরং অস্বীকার বা বিভ্রান্তিকর কথা।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
১. তালাক স্পষ্ট (সরীহ) শব্দে হতে হবে, যেমন "তালাক দিলাম", অথবা কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দে হলে তা তালাকের নিয়তে হতে হবে।
২. কোনো কথা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না যদি না তা সরাসরি তালাকের উদ্দেশ্যে বলা হয় এবং তার অর্থ পরিষ্কার হয়।
৩. সন্দেহের ক্ষেত্রে তালাক পতিত হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭০)

আপনার স্বামী "হ্যা" বললেও সঙ্গে সঙ্গে তা অস্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং পরে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। যেহেতু আপনার নিজেরও স্মরণ নেই যে তিনি রাতে কী বলেছিলেন, তাই কোনো তালাক পতিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত নয়।

সিদ্ধান্ত:
আপনাদের মধ্যে কোনো তালাক হয়নি। আপনার স্বামীর কথাগুলো তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। তবে এ ধরনের অস্পষ্ট ও ভয় দেখানোর কথা বলা ইসলামি দৃষ্টিতে অনুচিত। আপনাদের উচিত শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলে ঝগড়া মিটিয়ে ফেলা এবং ভবিষ্যতে তালাক শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।

করণীয়:
১. স্বামী-স্ত্রী উভয়ে তওবা করুন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান।
২. একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং ঝগড়া এড়িয়ে চলুন।
৩. প্রয়োজনে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ বা ইমামের মাধ্যমে সালিশ (মধ্যস্থতা) করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.