ফেসবুকে ফুল ও পায়ের ছবি স্টোরিতে দেওয়া এবং নিউজ ফিডে কুরআনের আয়াত থাকলে তা কি অসম্মান বা শিরক হবে?
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
ফেসবুকে ফুলসহ পায়ের ছবি স্টোরিতে দেওয়া এবং তার নিচে নিউজ ফিডে কুরআনের আয়াত থাকা—এ কারণে ছবিটিকে কুরআনের অসম্মান বা শিরক-কুফর বলা যাবে না। তবে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা বিবেচনায় রাখা জরুরি।
১. ছবি দেওয়া কি শিরক বা কুফর?
না, পা ও ফুলের ছবি দেওয়া কোনোভাবেই শিরক বা কুফর নয়। শিরক হলো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা, আর কুফর হলো ইসলামের কোনো অপরিহার্য বিষয় অস্বীকার করা। পায়ের ছবি পোস্ট করলে তা এসবের অন্তর্ভুক্ত নয়। যদি কেউ ফুল বা পাকে পূজা করার নিয়তে ছবি দেয়, তবে তা শিরক হতে পারে। কিন্তু সাধারণ সাজসজ্জা বা স্মৃতি হিসেবে ছবি দেওয়া শিরক নয়।
২. পায়ের ছবি দেওয়ার হুকুম (আওরাহ ও পর্দা)
- মহিলাদের জন্য: হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, মহিলার পা (গোড়ালি ও পায়ের পাতা সহ) অমহরমের সামনে আওরাহ। তাই মহিলাদের নিজের পায়ের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা নাজায়েয (হারাম), কারণ তা অমহরম পুরুষ দেখতে পারে।
- পুরুষের জন্য: পুরুষের পা আওরাহ নয়, তাই ছবি দেওয়া জায়েয, তবে অহেতুক ছবি পোস্ট করা উচিত নয়।
৩. কুরআনের আয়াতের সাথে ছবির নৈকট্য—অসম্মান হবে কি?
ফেসবুকের স্টোরি ও নিউজ ফিড আলাদা আলাদা সেকশন। ব্যবহারকারী ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআনের আয়াতের সাথে পায়ের ছবি জোড়া দিচ্ছে না। তাই এটাকে সরাসরি কুরআনের অসম্মান বলা যাবে না। তবে যদি কোনো ছবি এমন হয় যা কুরআনের প্রতি অশ্রদ্ধা সূচিত করে (যেমন পা দিয়ে কুরআন স্পর্শ করার ভঙ্গি), তবে তা নাজায়েয।
হানাফি ফিকহের নীতি:
কুরআনের সম্মান রক্ষা করা ওয়াজিব। কিন্তু দুটি পৃথক পোস্টের মধ্যে অবস্থানগত কারণে অসম্মান প্রমাণিত হয় না। বরং ইচ্ছা ও প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ। (দ্রষ্টব্য: আল-হিদায়া, ফাতাওয়া উসমানী)
৪. সতর্কতা ও পরামর্শ
- নিজের ছবি পোস্ট করার আগে আওরাহ সংক্রান্ত হুকুম জানা জরুরি। মহিলাদের জন্য পায়ের ছবি দেওয়া হারাম।
- কুরআনের আয়াত যেখানে থাকে, সেখানে অশ্লীল বা অপমানজনক ছবি না দেওয়াই উত্তম। তবে ছবিটি যদি সাধারণ হয় এবং কুরআনের সাথে সরাসরি সম্পর্ক না রাখে, তবে এটি গুনাহ নয়।
- শিরক বা কুফরের ফতোয়া দেওয়া অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়। সাধারণ ছবি পোস্ট করলে কাউকে কাফের বলার কোনো সুযোগ নেই।
সারসংক্ষেপ
- পা সহ ফুলের ছবি দেওয়া শিরক বা কুফর নয়।
- মহিলাদের জন্য পায়ের ছবি দেওয়া হারাম (আওরাহ প্রকাশের কারণে)।
- কুরআনের আয়াতের নিচে পৃথক স্টোরিতে থাকার কারণে কুরআনের অসম্মান হয় না, তবে ইচ্ছাকৃত অমর্যাদা করলে গুনাহ হবে।
- উত্তম হলো: ফেসবুকে এমন ছবি পোস্ট না করা যা অশালীন বা আওরাহ প্রকাশ করে।
আল্লাহ তাআলা সবাইকে হিদায়াত দিন।