একাধিকবার হজ্জ না করা সম্পর্কে ফাতওয়ার সত্যতা কতটুকু?

Hajj and Umrah · Hanafi

Questioner: Nayla Ahmad
Question Asked: 03 Jun 2026, 11:03 PM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 11:31 PM
Views: 61
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

উস্তাজ লিবইয়ার গ্র্যান্ড মুফতি বলেছেন যে মানুষের একের অধিকবার হজ্জে না যাওয়াই ভালো কারণ হজ্জের টাকা দিয়ে সৌদি সরকার মুসলিমদের উপর জুলুম অত্যাচার চালাচ্ছে। এটা কতটুক সহীহ?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রশ্নের উত্তর:

লিবইয়ার গ্র্যান্ড মুফতি বা যে কোনো ব্যক্তির এ ধরনের বক্তব্য ** সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন** ইসলামী শরীয়তের মৌলিক নীতি হলো, হজ্জ একটি ফরজ ইবাদত। যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে, তার ওপর জীবনে একবার হজ্জ করা ফরজ (আল-কুরআন, সূরা আলে ইমরান: ৯৭)। এরপর নফল হজ্জ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামগণ করেছেন।

কেন এই বক্তব্য সঠিক নয়:

১. হজ্জ একটি ইবাদত, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল নয়: হজ্জ আদায় করা আল্লাহর নির্দেশ। সৌদি সরকারের কোনো নীতি বা কর্মকাণ্ডের কারণে হজ্জের মতো ফরজ ইবাদত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী।

২. হজ্জের অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ অপ্রমাণিত: সাধারণ হাজীদের দেওয়া অর্থ সৌদি সরকার সরাসরি অত্যাচার-নিপীড়নে ব্যবহার করে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং এসব অর্থ হজ্জ ব্যবস্থাপনা, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি কাজে ব্যয় হয়। যদি কোনো অন্যায় কাজে অর্থ ব্যয়ের প্রমাণও থাকে, তবুও একজন মুসলিমের ব্যক্তিগত ইবাদত আদায় করা থেকে বিরত থাকার কারণ হতে পারে না, যতক্ষণ না তার নিজের সরাসরি সহযোগিতা বা অংশগ্রহণ প্রমাণিত হয় (সূরা আল-আনআম: ১৬৪)। হ্যা, গরীবদেরকে দান খায়রাত করা নফল হজ্জ থেকে উত্তম বলে কিছু সংখ্যক ফকিহ বলেছেন।

৩. ইলমি ও আমলী নজির: ফুকাহায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীনগণ কখনোই কোনো সরকারের (যদিও তাদের ওপর অসন্তুষ্টি থাকে) কারণে হজ্জের মতো ইবাদত ত্যাগ করার নির্দেশ দেননি। বরং হজ্জের গুরুত্ব সর্বদা অক্ষুণ্ন রেখেছেন।

৪. ফিকহী নীতি: ইসলামী ফিকহের মূলনীতি হলো, ইবাদতের বৈধতা ও গুরুত্ব আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক মতামতের ওপর নয়। (আল-হিদায়া, উসুলুশ শাশী)

শরয়ী নির্দেশনা:

  • যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে, তার জন্য জীবনে একবার হজ্জ করা ফরজ। একে ত্যাগ করা গুনাহ।
  • ফরজ হজ্জের পর নফল হজ্জ করা অতি উত্তম। তবে কেউ যদি মনে করে তার টাকা দিয়ে অন্য কোনো জরুরি ইবাদত (যেমন: ঋণমুক্তি, পিতা-মাতার সেবা, বিদেশে শিক্ষার্থীদের সাহায্য) করলে বেশি সওয়াব হবে, তাহলে নফল হজ্জের পরিবর্তে তা করতে পারে, কিন্তু ফরজ হজ্জ কখনো ত্যাগ করা যাবে না।
  • সৌদি সরকারের রাজনৈতিক নীতির কারণে হজ্জকে নিরুৎসাহিত করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। বরং এ ধরনের বক্তব্য মুসলিম উম্মাহকে বিভ্রান্ত করে এবং ফরজ ইবাদত থেকে সরিয়ে দেয়।

সারকথা: লিবইয়ার গ্র্যান্ড মুফতির এই বক্তব্য **যুক্তিসংগত নয় ** কোনো মুসলিমের উচিত ফরজ ও নফল হজ্জ আদায় করা, বিশেষ করে ফরজ হজ্জ। হ্যা, নফল হজ্জের চেয়ে গরীব মিসকিনদের হাজত পূর্ণ করা অবশ্যই উত্তম হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক ইলম ও আমল দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.