দরিদ্র কন্যার বিয়ের খরচে সুদের টাকা দেওয়ার বিধান।

Zakat and Charity · Hanafi

Question No: 1293
Questioner: Sofikul Mallick
Question Asked: 06 Jun 2026, 03:02 PM
Reviewed & Published: 06 Jun 2026, 03:24 PM
Views: 44
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমাদের এলাকায় একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাড়ার লোকজন সম্মিলিতভাবে বিয়ের কুটুম ও মেহমানদারির খরচ বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্দেশ্যে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে সবাই অর্থ জমা দিচ্ছেন, এবং তিনি সেই অর্থ থেকে বিয়ের বিভিন্ন খরচ পরিশোধ করবেন। এই অবস্থায়, আমার কাছে থাকা সুদের (interest) টাকা কি আমি ওই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে দিতে পারি, যাতে তিনি তা বিয়ের খরচে ব্যয় করেন? শরিয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী?

Answer

প্রশ্ন:
আমাদের এলাকায় একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাড়ার লোকজন সম্মিলিতভাবে বিয়ের কুটুম ও মেহমানদারির খরচ বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে সবাই অর্থ জমা দিচ্ছেন, তিনি তা থেকে বিয়ের খরচ পরিশোধ করবেন। আমার কাছে সুদের (interest) কিছু টাকা আছে। আমি কি সেই টাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দিতে পারি, যাতে তিনি তা বিয়ের খরচে ব্যয় করেন? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিধান কী?

উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين

সুদের টাকা (রিবা) সম্পূর্ণ নাপাক ও হারাম মাল। ইসলামী শরিয়তে সুদের টাকা নিজে ব্যবহার করা বা কোনো সওয়াবের কাজে ব্যয় করা জায়েজ নয়। বরং তা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তি পাওয়ার জন্য গরিব-মিসকিনকে সওয়াবের নিয়ত ছাড়াই দান করে দিতে হবে। একে "তাসাদ্দুক" বা "সাদাকাহ" বলা হয়, তবে এতে কোনো সওয়াবের আশা করা যাবে না। (রদ্দুল মুহতার, ৫/২৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৫)

প্রশ্নে বর্ণিত ক্ষেত্রে সুদের টাকা বিয়ের খরচে ব্যয় করা জায়েজ হবে না। কারণ বিয়ের খরচ (যেমন মেহমানদারি, খানা ইত্যাদি) একটি কল্যাণমূলক কাজ, কিন্তু তা সরাসরি গরিবের জন্য সাদাকাহ নয়। বরং এতে ধনী-গরিব উভয় শ্রেণির মানুষই উপকৃত হতে পারে। আর সুদের টাকা শুধুমাত্র গরিব-মিসকিনকে তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য দিতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট উৎসবে ব্যয়ের জন্য নয়। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৩৫; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৭৫)

তবে হ্যাঁ, যদি আপনি দরিদ্র পরিবারটির মেয়ের পরিবারকে সরাসরি সুদের টাকা দেন (যে টাকা তারা নিজেরা তাদের অন্য যেকোনো প্রয়োজন যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা, খাদ্য ইত্যাদিতে খরচ করতে পারে), তাহলে তা জায়েজ আছে। কিন্তু সেক্ষেত্রেও তারা যদি সেই টাকা বিশেষভাবে বিয়ের খরচে ব্যবহার করে, সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হবে; আপনি নিয়ত করতে পারবেন না যে "আমি বিয়ের খরচের জন্য দিচ্ছি"। বরং আপনি শুধু "সুদের টাকা ফেলে দেওয়া" বা "গরিবকে দান" করার নিয়তে দেবেন। আর উত্তম হলো, সুদের টাকা গরিব-মিসকিনকে এমনভাবে দেওয়া, যার মাধ্যমে আপনার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা নির্ধারিত কাজ সম্পাদিত না হয়।

সার্বিক ফয়সালা:

  • সুদের টাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে জমা দেওয়া যাবে না যাতে তিনি তা বিয়ের মেহমানদারির খরচে ব্যয় করেন।
  • তবে ইচ্ছা করলে আপনি আপনার নিজের হালাল টাকা থেকে বিয়েতে সাহায্য করতে পারেন এবং সুদের টাকা গরিব কোনো ব্যক্তিকে (যেমন ওই মেয়ের পরিবারকে) সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দিয়ে দিতে পারেন, তবে তা বিয়ের খরচে ব্যয় করার শর্তে নয়।
  • উত্তম পন্থা হলো, সুদের টাকা আলাদাভাবে এমন কোনো গরিবকে দেওয়া যার কোনো সম্পর্ক আপনার নির্ধারিত কাজের সঙ্গে নেই।

সূত্র:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): "الربا لا يجوز التصرف فيه إلا بالصدقة به على الفقراء"
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: "الدراهم المغصوبة والربوية يتصدق بها على الفقراء"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৩৫): "সুদের টাকা মসজিদ, মাদ্রাসা, খতমে কুরআন ইত্যাদি সওয়াবের কাজে ব্যবহার করা জায়েজ নয়; বরং তা ফকির-মিসকিনকে দিতে হবে।"
  • ফাতাওয়া উসমানি (২/৩৭৫): "সুদের টাকা ওয়ালিমা বা বিয়ের খানা ইত্যাদির জন্য দেওয়া জায়েজ নয়, কারণ তা সওয়াবের কাজ।"

পরামর্শ:
আপনার হালাল মাল থেকে যতটুকু সম্ভব বিয়েতে সাহায্য করুন। সুদের টাকা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য তা সওয়াবের নিয়ত না করে সরাসরি কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে দিয়ে দিন। আল্লাহ তাআলা আমাদের হারাম থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.