দারুল ইফতা থেকে ফতোয়া না নিলে গুনাহ হবে? সংসার চালানো নিয়ে ফিকহি সমস্যা কী?

Family Life · Hanafi

Questioner: mim akhi
Question Asked: 02 Jun 2026, 03:53 PM
Reviewed & Published: 02 Jun 2026, 04:16 PM
Views: 40
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ।
https://ifatwa.info/143930/



https://ifatwa.info/144014/

★হুজুর আর না গেলে দারুল ইফতায় এতে গুণাহ হবে না এটা বুঝিয়েছেন?আর এমন হলে তহ সংসার করে গেলে কোন সমস্যা হবে না তাই না?একজন আত্মীয় মুফতি আছে কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে মানে প্রাইভেসির কারনেও ওনার কাছে জিজ্ঞেসা করা সম্ভব না

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
আপনি জানতে চেয়েছেন—

  1. দারুল ইফতায় আর না গেলে গুনাহ হবে কি না?
  2. এমন পরিস্থিতিতে সংসার করে গেলে কোনো সমস্যা হবে কি না?
  3. এক আত্মীয় মুফতি থাকলেও প্রাইভেসির কারণে তাঁর কাছে জিজ্ঞেস করা সম্ভব না হলে করণীয় কী?

উত্তর:

প্রথম অংশ:
আপনার প্রদত্ত লিংক দুটির উত্তর আমি সরাসরি দেখতে পাচ্ছি না। তবে সাধারণ নীতি হলো—যদি এমন কোনো মাসআলা হয় যা জানা ফরজ বা জরুরি, আর তা না জেনে সংসার চালালে দ্বীনি কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে জেনে নেওয়া ওয়াজিব। কিন্তু যদি এমন কোনো বিশেষ অবস্থা হয় (যেমন মানসিক চাপ, প্রাইভেসি জটিলতা, বা অন্য কোনো বৈধ ওজর) যার কারণে দারুল ইফতায় যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে গুনাহ হবে না যদি আল্লাহর ভয়ে সাধ্যমত চেষ্টা করেন এবং নির্ভরযোগ্য অন্য উৎস থেকে জেনে নেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:

"لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا"
"আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)

এ ব্যাপারে ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৭-২৮) এবং রদ্দুল মুহতার (১/৪৫) এ উল্লেখ আছে—যদি কেউ আপ্রাণ চেষ্টা করেও দ্বীনি জ্ঞান লাভ করতে না পারে, তবে আল্লাহ তার অপূর্ণতা ক্ষমা করবেন। সুতরাং আপনার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গুনাহ হবে না বলে ধারণা করা যায়, তবে নিশ্চিত জানতে সরাসরি দারুল ইফতার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা ভালো।


দ্বিতীয় অংশ:
এমন অবস্থায় সংসার করে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বড় সমস্যা হবে না যদি আপনি আপনার জানা সীমিত দ্বীনি জ্ঞান মোতাবেক আমল করেন এবং যেসব বিষয়ে নিশ্চিত নন, সেসব ক্ষেত্রে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করেন। তবে সংসার পরিচালনায় যদি এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা আসে যা আপনার অজানা এবং তা দ্বীনের দৃষ্টিতে অপরিহার্য (যেমন বিবাহ, তালাক, ব্যবসা, ইত্যাদি), তাহলে সে বিষয়ে জেনে নেওয়া জরুরি। নতুবা ইচ্ছাকৃতভাবে অজ্ঞ থাকা গুনাহের কারণ হতে পারে। আল-হিদায়া (২/৩২৭) এবং ফাতাওয়া আলমগীরি (১/২৫০) তে এসেছে—মুসলমানের জন্য ফরজ-সংশ্লিষ্ট বিষয় না জানা বৈধ নয়।


তৃতীয় অংশ:
আত্মীয় মুফতি থাকলেও প্রাইভেসির কারণে তার কাছে জিজ্ঞেস করা সম্ভব না হলে—আপনি অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতি বা ইসলামী ফতোয়া প্ল্যাটফর্ম (যেমন ifatwa.info, darulifta-deoband.com) থেকে জেনে নিতে পারেন। ইসলামে প্রাইভেসি রক্ষার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। উসুলুশ শাশী তে বর্ণিত—“প্রয়োজনে গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি, এবং দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের পথ বন্ধ হওয়া উচিত নয়।” তাই যদি আত্মীয় মুফতির কাছে গেলে আপনার ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ পেয়ে যায়, তাহলে অপর কারো কাছে প্রশ্ন করা বৈধ এবং উত্তম। সহীহ বুখারী (হাদীস: ৯২) তে আছে—নবী (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে চায়, আল্লাহ তার জন্য পথ সহজ করে দেন।” তাই আপনি অন্য উৎস থেকে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন।


পরামর্শ:

১. নির্ভরযোগ্য কোনো ফতোয়া সাইট বা দ্বীনি প্রতিষ্ঠান থেকে আপনার প্রয়োজনীয় বিষয়ে জানুন।
২. আল্লাহর কাছে ইখলাস নিয়ে দোয়া করুন যে তিনি যেন সঠিক বুঝ দান করেন।
৩. সংসার পরিচালনায় অতি সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন না।
৪. সম্ভব হলে দারুল ইফতায় ফোন বা ইমেইল করে জানানোর চেষ্টা করুন, এতে প্রাইভেসিও রক্ষা পাবে।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং সংসারকে বরকতময় করুন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.