বন্ধুর বাবা-মায়ের কসম ভঙ্গ করলে কি বাবা-মায়ের ক্ষতি হয়?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Ifa Nahin Moon
Question Asked: 03 Jun 2026, 12:12 AM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 12:40 AM
Views: 41
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার বন্ধু আমাকে এভাবে বলেছে, "আমার সাথে আর কোনো যোগাযোগ করবি না। তোর বাবা মায়ের কসম।"
এখন সে নিজেই ম্যাসেজ দিচ্ছে। আমি কোনো জবাব দেই নি এই ভয়ে যে আল্লাহ না করুক আমার বাবা মায়ের যদি কিছু হয় যেহেতু সে আমার বাবা মায়ের কসম দিয়ে যোগাযোগ না করতে বলেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, আমি তার সাথে যোগাযোগ করলে আমার বাবা মায়ের কি কোনো ক্ষতি হবে? আমার বাবা মায়ের ক্ষতি না হওয়ার জন্য কার কী করতে হবে এই কসম নিয়ে (আমি তার সাথে আবার যোগাযোগ করতে চাই)

Answer

উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনায় আপনার বন্ধু আপনার বাবা-মায়ের নামে কসম করে বলেছে, "আমার সাথে আর কোনো যোগাযোগ করবি না। তোর বাবা মায়ের কসম।" এটি একটি শপথ বা কসম, যা তিনি উচ্চারণ করেছেন। ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, কসম করার পর তা ভঙ্গ করলে কাফফারা (ক্ষতিপূরণ) দেওয়া আবশ্যক হয়। তবে এ ক্ষেত্রে কসমটি আপনার বন্ধু নিজেই উচ্চারণ করেছেন, আপনার নয়। ফলে তার কসম ভঙ্গের দায়িত্ব তার ওপর বর্তাবে, আপনার ওপর নয়।

আপনার বাবা-মায়ের ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই:
ইসলামের দৃষ্টিতে কারো নামে কসম করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির কোনো শারীরিক বা পারিবারিক ক্ষতি হয় না। এটি একটি কুসংস্কারপূর্ণ ধারণা। বরং কসম ভঙ্গ করলে আল্লাহর কাছে তার কাফফারা আদায় করতে হয়। কাফফারা হলো: দশজন মিসকিনকে খাবার দেওয়া বা তাদের পোশাক দেওয়া, অথবা একজন ক্রীতদাস/দাসী মুক্ত করা। আর যদি সামর্থ্য না থাকে, তবে তিনটি রোজা রাখা। (সূরা মায়িদা: ৮৯)

আপনার করণীয়:
১. আপনার বন্ধু নিজেই আপনাকে মেসেজ দিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে সে নিজেই তার কসম ভঙ্গ করেছে বা ভঙ্গ করছে। সুতরাং আপনি নিশ্চিন্তে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এতে আপনার বাবা-মায়ের কোনো ক্ষতি হবে না।
২. তবে কসমের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। আপনি তাকে জানিয়ে দিতে পারেন যে, "তুমি যে কসম করেছিলে, তা ভঙ্গ করেছ। এখন তুমি আল্লাহর কাছে তাওবা করো এবং কসমের কাফফারা আদায় করো।"
৩. আপনার নিজের করণীয় হলো: আপনি যদি চান, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দিয়ে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। তবে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আগে তাকে কসম ভঙ্গের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া উত্তম।

হাদিসের নির্দেশনা:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো কসম করে এবং পরে অন্য কাজকে উত্তম মনে করে, সে যেন কসম ভঙ্গ করে এবং কাফফারা আদায় করে।" (সহিহ মুসলিম: ৪২২২)
সুতরাং কসম ভঙ্গ করায় গুনাহ হয়, কিন্তু ক্ষমা ও কাফফারার মাধ্যমে তা মুছে ফেলা যায়।

সারসংক্ষেপ:

  • আপনার বাবা-মায়ের ক্ষতি হওয়ার ভিত্তি নেই।
  • আপনি তার সাথে যোগাযোগ করলে গুনাহ হবে না, বরং তিনি নিজেই কসম ভঙ্গের দায়ভার বহন করবেন।
  • তাকে কসমের কাফফারা আদায়ের পরামর্শ দিন।
  • সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিন, তবে কসমের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে ভুলবেন না।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.