বদনজরের রুকাইয়ার জন্য পানি পড়ার নিয়ম ও টয়লেট-গোসলখানা একসাথে থাকলে করণীয় প্রসঙ্গে।

Faith and Belief · Hanafi

Questioner: Smity Smity
Question Asked: 03 Jun 2026, 11:39 AM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 12:12 PM
Views: 55
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বদনজরের রুকাইয়ার জন্য গোসলের পানি প্রস্তুত করা প্রয়োজন। বালতির পানিতে হাত রেখে সূরা পড়তে হবে। কিন্তু টয়লেট আর গোসলখানা একসাথে। এক্ষেত্রে বালতি বাইরে নিয়ে এসে দোয়া পড়তে হবে জানি। কিন্তু বালতি গোসলখানার বাইরে নিয়ে এসে দোয়া পড়ার পরিস্হিতি না থাকলে সেই ক্ষেত্রে করণীয় কি

Answer

উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

বদনজরের রুকাইয়ার জন্য পানি পড়ার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো পবিত্র স্থানে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা এবং পানি যাতে অপবিত্রতা থেকে মুক্ত থাকে। টয়লেট ও গোসলখানা একসাথে থাকলে সেখানে কুরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ নয়, কারণ এটি অপবিত্র স্থান। তাই বালতি বাইরে নিয়ে এসে দোয়া পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু যদি বালতি বাইরে নিয়ে আসার কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন:

১. পানি অন্য পাত্রে স্থানান্তর করুন:
গোসলখানার বাইরে (যেমন ঘরের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে) একটি পরিষ্কার বালতি বা পাত্র নিয়ে তাতে পানি ভরে রাখুন। সেখানে হাত রেখে সূরা পড়ুন। তারপর সেই পানি ব্যবহার করুন।

২. বালতিটি ঢেকে রাখুন ও দূর থেকে পড়ুন:
যদি বালতি বাইরে আনা একেবারেই সম্ভব না হয়, তাহলে গোসলখানার ভেতরে বালতিটি ভালোভাবে পরিষ্কার কাপড় বা প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দিন। অতঃপর গোসলখানার দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বা বসে সেই পানি লক্ষ্য করে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করুন। মনে রাখবেন, তেলাওয়াত অপবিত্র স্থানের ভেতরে নয়, বাইরে হচ্ছে। এতে পানি পড়া হবে।

৩. ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করুন:
রুকাইয়ার জন্য পানি প্রস্তুত করা ওয়াজিব নয়, বরং সুন্নত বা মুস্তাহাব। তাই প্রয়োজনে সরাসরি রোগীর ওপর দম করে দিতে পারেন, অথবা তেল বা পানি ছাড়াই সূরা পড়ে ফুঁ দিতে পারেন। হানাফি ফিকহের কিতাবে এসেছে, রুকাইয়ার জন্য পানি বা তেল ব্যবহার করা বৈধ, তবে তা শর্ত নয়। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৩)

দলিল:

  • রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে ও তাঁর সাহাবারা পানি ও তেলে দম করে ব্যবহার করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১৯৪)
  • হানাফি ফকিহগণ বলেছেন, পবিত্র স্থানে কুরআন তেলাওয়াত করা জরুরি; অপবিত্র স্থানে তেলাওয়াত মাকরুহ। (ফাতাওয়া আলমগিরি, ৫/৩৫৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৮৭)
  • মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) বলেন, "পানিতে দম করার জন্য পাত্র অপবিত্র স্থানে রাখা যাবে না; বরং পরিচ্ছন্ন স্থানে রেখে পড়তে হবে।" (মা‘আরিফুল কুরআন, ৮/৮৩৭)
  • মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) ফাতাওয়া উসমানীতে বলেন, "টয়লেটে কুরআন পড়া নাজায়েজ। তাই পানির পাত্র বাইরে এনে পড়তে হবে; যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কোনো এক কৌশলে (যেমন পানি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে) পড়া উচিত।" (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪২২)

উপসংহার:
যদি গোসলখানা ও টয়লেট একসাথে হয়, তবে বালতি বাইরে নিয়ে আসার কোনো ব্যবস্থা না থাকলে, পানি অন্য পাত্রে পবিত্র স্থানে নিয়ে যান। অথবা বালতি ঢেকে দরজার বাইরে থেকে তেলাওয়াত করুন। সর্বোপরি, সরাসরি রোগীর ওপর দম করাও যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা সহজ উপায় গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.