আল্লাহর কাছে ওয়াদা বা কসম ভঙ্গ করলে কাফফারা কী?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Keu ekjon
Question Asked: 03 Jun 2026, 12:18 AM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 12:42 AM
Views: 47
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ওয়াদা বা Promise করা (কসম এর মতোই), যে এই গুনাহ এর কাজ টি আমি আর কখনোই করবো না, এরপর সেই কাজ টি করে ফেললে এর কাফফারা কি? এর জন্য আমি মাফ পাবো কিভাবে?

Answer

উত্তর:

ওয়া ‘আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নের বিষয়টি দুটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করা জরুরি:

প্রথম দিক: আল্লাহর কাছে ওয়াদা বা অঙ্গীকার করা
আল্লাহর কাছে কোনো গুনাহের কাজ ছেড়ে দেওয়ার ওয়াদা করলে তা ‘আহদ’ বা অঙ্গীকার হিসেবে গণ্য হয়। এটি কসমের মতো হলেও সরাসরি কসমের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয়। কুরআনে আল্লাহ বলেন:
"وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدتُّمْ"
"আর তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করলে তা পূর্ণ করো।" (সূরা আন-নাহল: ৯১)

এ ধরনের অঙ্গীকার ভঙ্গ করা গুনাহ। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কাফফারা (যেমন কসমের কাফফারা) ফরজ হয় না, যতক্ষণ না তা কসমের শব্দে বলা হয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, শুধু ওয়াদা করলে তা ভঙ্গের জন্য তাওবা ও ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ওয়াজিব হয়, আর কাফফারা দেওয়া মুস্তাহাব (উত্তম)। (রদ্দুল মুহতার, ৩/৭৩৬; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৮৪)

দ্বিতীয় দিক: কসম (শপথ) করার মতো মনে করা
যদি আপনি সরাসরি আল্লাহর নামে কসম করে থাকেন (যেমন “আল্লাহর কসম, আমি আর এই কাজ করবো না”) অথবা কসমের ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেন, তাহলে তা ‘কসম’ হিসেবে গণ্য হবে। কসম ভঙ্গ করলে তার কাফফারা দিতে হবে।

কসম ভঙ্গের কাফফারা (হানাফি মতে):

সূরা মায়িদা (৫:৮৯) অনুযায়ী কাফফারার ধাপগুলো হলো:

  1. দশজন গরিবকে মধ্যমমানের খাবার খাওয়ানো (প্রত্যেককে দু’বেলা পেট ভরে) অথবা
  2. দশজন গরিবকে মধ্যমমানের পোশাক দেওয়া (প্রত্যেককে এক জোড়া) অথবা
  3. একটি দাস/দাসী মুক্ত করা।
  4. যদি এসব সামর্থ্য না থাকে, তাহলে পরপর তিন দিন রোজা রাখা।

(রদ্দুল মুহতার, ৩/৬০; আল-হিদায়া, ২/১৫৫)

কাফফারা ছাড়া সাধারণ ওয়াদা ভঙ্গের ক্ষেত্রে মাফ পাওয়ার উপায়:

  • তাওবা: অনুতপ্ত হয়ে গুনাহের কাজটি বন্ধ করা, ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
  • ইস্তিগফার: বেশি বেশি “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়া।
  • নফল ইবাদত ও দান-সদকা: আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য নফল নামাজ, রোজা ও সদকা করা মুস্তাহাব।
  • আসল গুনাহের তাওবা: যে গুনাহটি ছেড়ে দেওয়ার ওয়াদা করেছিলেন, সেই গুনাহ থেকেও তাওবা করতে হবে।

সারসংক্ষেপ:

  • ওয়াদা ভঙ্গ করলে – তাওবা ও ইস্তিগফার ওয়াজিব, কাফফারা ফরজ নয় তবে মুস্তাহাব।
  • কসম ভঙ্গ করলে – উপরোক্ত কাফফারা আদায় করা ফরজ।

আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আপনার তাওবা কবুল করেন এবং ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে রক্ষা করেন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.