“আল্লাহর কাছে ভিক্ষা করে করে চাইছি এর চাইতে বেশি কিভাবে চায় আমি জানি না” এটি কি লোক দেখানো ইবাদত (রিয়া) হিসেবে গণ্য হবে ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
এটা বলে ফেললে কি লোক দেখানো ইবাদত হয়ে যায়? আর এটার কারণে কি ঈমান চলে যায়? স্বামীকে বলার সময় যদি মনে আসে কোন লোক দেখানো ইবাদত হয়েছে কিনা তবু বলে ফেললে কি কোন সমস্যা হয়
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায় মহিলার দ্বারা স্বামীকে বলা বক্তব্য “আল্লাহর কাছে ভিক্ষা করে করে চাইছি এর চাইতে বেশি কিভাবে চায় আমি জানি না” এটি লোক দেখানো ইবাদত (রিয়া) হিসেবে গণ্য হবে না এবং এর কারণে ঈমান চলে যাবে না। নিম্নে এর বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো:
১. লোক দেখানো ইবাদত (রিয়া) কী?
রিয়া হলো ইবাদত করার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দেখা বা প্রশংসা লাভের নিয়ত করা। হাদিসে এসেছে,
"যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য কোনো আমল করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে লোকদের সামনে প্রকাশ করবেন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৯৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৮৭)
এখানে মহিলা স্বামীকে তার ইবাদতের কথা বলেছেন শুধুমাত্র স্বামীর রাগ কমানোর জন্য, লোক দেখানো বা প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্যে নয়। বরং এটি ছিল দাম্পত্য কলহ নিরসনের একটি প্রচেষ্টা। তাই এটি রিয়া নয়। ফতোয়ায়ে হিন্দিয়ায় বলা হয়েছে,
"যদি কেউ ইবাদত করে এবং পরে ভাষায় তা প্রকাশ করে, কিন্তু তার অন্তরে লোক দেখানোর নিয়ত না থাকে, তাহলে তা রিয়া হবে না।" (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ৫/৩২৮)
২. ইমান চলে যাওয়ার কারণ কী?
ইমান চলে যাওয়ার কারণ হলো শিরক, কুফরি বা ইসলামের মৌলিক কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা। এখানে মহিলার কথায় কোনো শিরক বা কুফরি নেই। বরং তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনার কথা বলেছেন, যা ঈমানের পরিচায়ক। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) লিখেছেন,
"ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য স্পষ্ট কুফরি বা শিরকি বক্তব্য প্রমাণিত হওয়া জরুরি। অসতর্কতাবশত কোনো কথা বললে ঈমান যায় না, যদি না অন্তরে সেটির প্রতি বিশ্বাস থাকে।" (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৩৬)
৩. স্বামীকে বলার সময় যদি মনে আসে "এটা কি রিয়া হলো?"
এক্ষেত্রে মহিলার যদি শুধুমাত্র সন্দেহ হয়, কিন্তু তিনি লোক দেখানোর নিয়তে বলেননি, তাহলে তা ক্ষতিকর নয়। মোল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন,
"রিয়া তখনই সাব্যস্ত হয় যখন ইবাদতের সময় লোক দেখানোর স্পষ্ট ইচ্ছা থাকে। পরবর্তী সময়ে মনে আসা কোনো চিন্তা পূর্বের আমলকে নষ্ট করে না।" (মিরকাতুল মাফাতীহ, ৪/১৪৮)
৪. দাম্পত্য সমস্যা সমাধানে দোয়া ও প্রচেষ্টার গুরুত্ব
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং প্রয়োজনে নিজের ইবাদতের কথা বলা জায়েজ। এটি মন্দ উদ্দেশ্য না হলে রিয়া নয়। মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন,
"স্ত্রী যদি স্বামীর মন জয় করার জন্য তার ইবাদতের কথা বলে, তবে তা নিষিদ্ধ নয়, বরং এটি দাম্পত্য সুখের প্রচেষ্টা।" (মাআরিফুল কুরআন, ২/৩৫)
৫. সতর্কতা ও পরামর্শ
- ভবিষ্যতে এমন বক্তব্য বলার সময় অন্তরে লোক দেখানোর নিয়ত না করা।
- স্বামীর রাগ কমানোর জন্য সরাসরি দোয়া ও ভালো ব্যবহারকে প্রাধান্য দেওয়া।
- নিজের ইবাদতের কথা বলার চেয়ে সরাসরি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উত্তম।
সারমর্ম:
প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় মহিলার ঈমান অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং তাঁর কথা রিয়া হিসেবে গণ্য হবে না। তবে সর্বাবস্থায় নিয়তের পবিত্রতা বজায় রাখা জরুরি। আল্লাহ তাআলা দাম্পত্য জীবন সুন্দর ও শান্তিময় করুন। আমিন।
(দলিল সূত্র: ফতোয়ায়ে উসমানী, ৭/৪৫২; ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৮৬; রদ্দুল মুহতার, ৪/২৩৬; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ৫/৩২৮; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৯৯)
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।