আযানের দোয়াতে " নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করো না" বলতে গিয়ে উলটপালট করার সন্দেহ হলে কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
Faith and Belief · Hanafi
Question
আযান দেয়ার পরে টিভি তে সব সময় আযানের বাংলা বলতো না? এভাবে? " হে আল্লাহ, এই পরিপূর্ণ নামাজ এর তুমি ই প্রভু"। এভাবে বলতো না হুজুর?
তো একটা লাইন ছিল " হযরত মোহাম্মদ (স) কে দান করো বেহেশতের সবোচ্চ মর্যাদা ও স্থান, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাকে দিয়েছো। নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করো না " এখন এটা আমি প্রায় সময় ই বলতে থাকি আনমনে। আযান দিলে। বা এমনিতেও। ছোট সময় থেকে টিভি দেখে দেখে মুখস্ত হয়ে গেছে। তখন আমি এগুলার মানে বুঝতাম না।
তো আমি গত পরশো দিন এমন করে বলতেছিলাম। আর এই লাইন টা তে এসে " নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করোনা "। এই লাইনে এসে একটু উল্টো পালটা বলে ফেলছিলাম। পরে মনে হইলো আমি কি মুখে বলছি নাকি মনে মনে বলছি। এভাবে কয়েকবার মুখে বলে দেখলাম মুখে বললাম নাকি মনে মনে বললাম উল্টো পালটা লাইন টা। আমার মনে পড়তেছে না।
পরে মনে হইলো আমি কি শিরক করে ফেললাম এভাবে বলে?
১) হুজুর এখন সেই লাইন টা, " নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির " এটা যদি উল্টো পালটা করে বলে ফেলি এটা কি শিরক হয়ে যাবে? আমার ঈমান ঠিক আছে তো হুজুর?
২) আমার বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে?
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার উদ্বেগটি বোধগম্য। আসুন আমরা বিষয়টি কুরআন ও সুন্নাহ এবং হানাফি ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ করি।
১) আযানের পরের দু‘আর একটি অংশ উল্টো-পাল্টা বলার বিধান ও শিরক হওয়ার সম্ভাবনা
-
আযানের পরের দু‘আটি হলো: "اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلاة القائمة آت محمداً الوسيلة والفضيلة وابعثه مقاماً محموداً الذي وعدته إنك لا تخلف الميعاد"
বাংলা অনুবাদ: "হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাযের প্রভু! মোহাম্মদ (সা.)-কে ওয়াসিলা ও মর্যাদা দান করুন এবং তাকে প্রশংসিত স্থানে পৌঁছান, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬১৪) -
আপনার বর্ণনা অনুসারে, আপনি দু‘আর শেষ অংশ "إنك لا تخلف الميعاد" (নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না) – এই অংশটি উল্টো-পাল্টা বলে ফেলেছেন। এটি ভুলে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে। ইসলামী ফিকহের মূলনীতি হলো: অনিচ্ছাকৃত ভুল বা ‘ভুলে’ বলা কোনো কথা শিরক বা কুফরী গণ্য হয় না, যতক্ষণ না তা ইচ্ছাকৃত ও বিশ্বাসপূর্বক বলা হয়।
- কুরআনে আল্লাহ বলেন: "لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا"
“আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব দেন না” (সূরা বাকারা, ২:২৮৬)। - হাদীছে এসেছে: "إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ"
“নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মত থেকে ভুল, বিস্মৃতি এবং বাধ্য হয়ে করা কাজ ক্ষমা করে দিয়েছেন” (ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২০৪৫; সহীহ)।
সুতরাং:
- আপনার এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ঈমানের কোনো ক্ষতি হয়নি। শিরক তখনই হয় যখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর গুণাবলীকে অস্বীকার করে বা অন্য কারো জন্য সিজদা করে ইত্যাদি।
- আপনি যদি দু‘আটির অর্থের প্রতি বিশ্বাস রেখে থাকেন (যে আল্লাহ প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না), তাহলে ভুলবশত শব্দ উল্টো বললেও কোনো গুনাহ হবে না।
- কুরআনে আল্লাহ বলেন: "لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا"
-
পরামর্শ:
- এই ধরনের দু‘আ আরবীতে পড়ার চেষ্টা করুন। আরবীতে না পারলে বাংলা অর্থ সহ সঠিকভাবে বলুন।
- যদি আবারও ভুল হয়, তাহলে "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়ে পুনরায় সঠিকভাবে পড়ুন।
২) বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে?
- আপনার বিবাহিত জীবন এই ভুলের কারণে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ইসলামী আইনে শুধু মৌখিক ভুলের কারণে বিবাহ ভঙ্গ হয় না, যতক্ষণ না তাতে স্পষ্ট শিরক বা কুফরী বিশ্বাস জড়িত থাকে (যেমন কাউকে আল্লাহর সমতুল্য বিশ্বাস করা)।
- আপনার বর্ণনায় শিরকের কোনো উপাদান নেই। তাই আপনার বিবাহ বৈধ ও ঠিক আছে।
সারসংক্ষেপ:
- ভুলে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে দু‘আর অংশ উল্টো বলা শিরক নয় এবং আপনার ঈমান অক্ষুন্ন আছে।
- আপনার বিবাহিত জীবনও কোনো সমস্যায় নেই।
- আপনি চাইলে এখন থেকে সঠিকভাবে দু‘আটি শিখে নিতে পারেন।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।