হায়েজ অবস্থায় কুরআন পড়া যাবে কি?
Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
উত্তর:
মহিলাদের জন্য হায়েজ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত বা হিফজ রিভিশন করা সম্পর্কে সালাফি/আহলে হাদীস ফিকহের নির্ভরযোগ্য মত হল: তিনি মুখস্থ থেকে তিলাওয়াত করতে পারেন এবং হিফজের রিভিশন নিতে পারেন, তবে সরাসরি মুসহাফ (কুরআনের কপি) স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকবেন। ডিজিটাল মাধ্যম (মোবাইল, ট্যাবলেট) ব্যবহার করলে স্পর্শের বিষয়টি ভিন্ন; অধিকাংশ সালাফি আলিম একে মুসহাফের মতো গণ্য করেন না, তবে সতর্কতা হিসেবে গ্লাভস বা অন্য বাধা ব্যবহার করা উত্তম।
প্রমাণ ও আলিমদের বক্তব্য:
১. কুরআন তিলাওয়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞার দলিল দুর্বল
হায়েজা ও জুনুবী ব্যক্তির জন্য কুরআন তিলাওয়াত নিষেধ করে যে হাদিস বর্ণিত হয়েছে (আলী রা. থেকে, “নবী ﷺ জুনুবী অবস্থায় কুরআন পড়তে বারণ করতেন” – আবু দাউদ, তিরমিজি), তা দুর্বল। শায়খ আল-আলবানী, ইবনু তায়মিয়্যাহ ও ইবনুল কায়্যিম এটিকে সহীহ মনে করেননি। বরং সহীহ হাদিসে জুনুবীর জন্য নিষেধাজ্ঞা আছে, কিন্তু হায়েজার জন্য কোনো স্পষ্ট নিষেধ আসেনি।
২. ইবনু তায়মিয়্যাহ (রাহ.)-এর মত
শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়্যাহ বলেন:
“হায়েজা মহিলার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করা বৈধ, কারণ তার ওপর জুনুবীর মতো গোসল ফরজ নয়। তিনি যেকোনো সময় তিলাওয়াত করতে পারেন। তবে মুসহাফ স্পর্শ না করাই উত্তম।”
(মাজমূ’ ফাতাওয়া, ২৬/১৯১)
৩. শায়খ ইবনু বায (রাহ.)-এর ফতোয়া
শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায বলেন:
“হায়েজা মহিলা মুখস্থ থেকে কুরআন পড়তে পারবে, কোনো বাধা নেই। তবে সরাসরি মুসহাফ স্পর্শ করবে না। হিফজ রিভিশনের জন্যও এটি জায়েজ।”
(মাজমূ’ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১০/২১০)
৪. শায়খ ইবনু উসাইমীন (রাহ.)-এর বক্তব্য
শায়খ বলেন:
“হায়েজা মহিলার জন্য নিজের হিফজ রিভাইস করা বা শিক্ষার্থীদের শেখানো বৈধ। তিনি মুখস্থ থেকে পড়তে পারেন। তবে প্রয়োজনে গ্লাভস পরে মুসহাফ ধরতে পারেন।”
(শারহুল মুমতি’, ১/২৯২)
৫. শায়খ আল-আলবানী (রাহ.)-এর মত
তিনি বলেন:
“হায়েজা মহিলার জন্য কুরআন তিলাওয়াতের ওপর কোনো সহীহ নিষেধ নেই। তাই তিনি পড়তে পারেন, বিশেষত হিফজের প্রয়োজনে।”
(সিলসিলা সহীহা, ১/৪২৬)
সারসংক্ষেপ:
- মুখস্থ থেকে তিলাওয়াত: সম্পূর্ণ জায়েজ, এমনকি হিফজ রিভিশনের জন্যও।
- মুসহাফ স্পর্শ: সরাসরি না করাই উত্তম। তবে প্রয়োজনে গ্লাভস, কাপড় বা অন্য বাধা ব্যবহার করে পড়া যায়।
- ডিজিটাল মাধ্যম (মোবাইল/ট্যাবলেট): অধিকাংশ আলিম এটিকে মুসহাফের মতো গণ্য করেন না, তাই স্পর্শ করা জায়েজ। তবে সতর্কতা হিসেবে স্পর্শ না করাই ভালো।
- শিক্ষার্থী বা শিক্ষিকা হলে: জরুরি প্রয়োজনে তিলাওয়াত করা আরও বেশি বৈধ।
অতএব, আপনি হায়েজ অবস্থায় আগের পড়া রিভিশন করতে পারেন এবং মুখস্থ থেকে কুরআন পড়তে পারেন। আল্লাহ তাআলা আপনার হিফজকে বরকতময় করুন।