কুরবানীর পশুর মূল্য বিক্রেতা স্বেচ্ছায় বাকী রাখলে কি কুরবানি হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 807
Questioner: Suhaile Shadid
Question Asked: 26 May 2026, 06:39 PM
Reviewed & Published: 26 May 2026, 07:23 PM
Views: 166
Tokens: 3,606
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কুরবানীর পশু কিনেছি, কিন্তু যিনি বিক্রি করেছেন তিনি সম্পূর্ণ টাকা নিচ্ছেন না, কারণ তিনি গ্রামে যাবেন, এত টাকা গ্রামে নিয়ে যেতে এখন সিকিউর মনে করছেন না। উনি আমাদের বাড়ি চিনে গিছেন। উনি বলছেন, কিছু টাকা আপনার কাছে গচ্ছিত রেখে গেলাম। ঈদের দিন এসে নিয়ে যাবো। এই ক্রয়কৃত পশু দ্বারা কি কুরবানি করা যাবে?

Answer

উত্তর:
প্রশ্নের বিবরণমতে কুরবানীর পশুর ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। ক্রয়-বিক্রয় পরবর্তী আপনি পশুটি গ্রহণ করেছেন। বিক্রেতা নিরাপত্তজনিত কারণে সম্পূর্ণ মূল্য না নিয়ে কিছু টাকা আপনার কাছে গচ্ছিত (আমানত) রাখতে চাচ্ছেন, যা তিনি ঈদের দিন এসে নিয়ে যাবেন। ইসলামী শরী‘আহ অনুযায়ী এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবস্থা জায়েয আছে, তবে কিছু শর্ত ও সতর্কতা অবলম্বন অত্যাবশ্যকীয়।

বিশ্লেষণ

১. বিক্রয় ও মূল্য পরিশোধের বিধান:

  • পশু ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর মূল্য পরিশোধের সময় নির্ধারণ করার সুযোগ রয়েছে। যদি নির্দিষ্ট সময় (যেমন ঈদের দিন) বলা থাকে, তবে তা বাই’য়ে মুআজ্জাল (বাকিতে বিক্রয়) হিসেবে বিবেচিত হবে। (আল-হিদায়া, ৩/৭৬; ফাতাওয়া আলমগীরী, ৩/১৫৪)
  • বিক্রেতা সম্পূর্ণ টাকা না নিয়ে যাওয়া তার নিজস্ব ইচ্ছা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে। এতে কোনো সমস্যা নেই, বরং এটি একটি আমানতী ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হবে।

২. টাকা গচ্ছিত রাখার বিধান:

  • বিক্রেতা তাঁর প্রাপ্য টাকা আপনার কাছে ‘গচ্ছিত’ (ওয়াদি‘আহ/আমানত) রাখতে চাইলে তা জায়েয। আপনাকে টাকাটি আলাদাভাবে রেখে তাঁর অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। টাকা ব্যবহার করলে তা কর্জে পরিণত হবে এবং আপনি জামিন হবেন। (রদ্দুল মুহতার, ৪/৪৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৩/২২৪)
  • তবে মনে রাখবেন, প্রকৃতপক্ষে টাকাটি আপনার নিকট ‘দেনা’ (ঋণ) হিসেবে গণ্য। অর্থাৎ আপনি ঋণগ্রস্ত। তাই এটিকে ঋণ হিসেবেই গণ্য করা অধিক নিরাপদ, কারণ বিক্রেতা যে কোনো সময় তা দাবি করতে পারেন।

৩. শরঈ সতর্কতা:

  • টাকা পরিশোধের সময়সীমা (ঈদের দিন) স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে নিন।
  • সম্ভব হলে দু-জন সাক্ষী রাখুন অথবা লিখিত চুক্তি করুন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ না হয়।
  • টাকাটি অন্য কাজে ব্যবহার করবেন না। ব্যবহার করলে বিক্রেতার সম্মতি নিন।
  • যদি বিক্রেতা ঈদের দিন আসতে না পারেন, তাহলে পরবর্তী সময়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করে টাকা দিয়ে দিন।

প্রাসঙ্গিক দলিল

  • সূরা বাকারাহ (২:২৮২):
    “হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের লেনদেন কর, তখন তা লিখে রাখ।”
    – এ আয়াতে ঋণ বা বাকি লেনদেন লিখে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • হাদীস:
    ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: “যে ব্যক্তি কোনো বস্তু বাকিতে ক্রয় করে, সে যেন তা লিখে রাখে বা সাক্ষী রাখে।” (মুআত্তা মালিক, কিতাবুল বুয়ূ‘)

  • ইমাম ইবনু আবেদীন (রহ.) বলেন:
    “ক্রেতা যদি বিক্রেতার অনুমতি নিয়ে তার কাছে টাকা রাখে, তবে তা আমানত। আর যদি অনুমতি না নিয়ে রাখে, তবে তা জামানত (যিম্মাহ) হয়ে যায়।” (রদ্দুল মুহতার, ৪/৪৯৭)

সংক্ষিপ্ত ফতোয়া

আপনার বর্ণিত পদ্ধতি জায়েয। তবে টাকাটি আমানত হিসেবে গণ্য হবে, যা ব্যবহারের অনুমতি নেই। বিক্রেতা যখন চাইবেন, তখন সম্পূর্ণ টাকা বুঝিয়ে দিন। সময়সীমা এবং পরিমাণ স্পষ্ট রাখুন। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.