হাদিয়ার টাকা দিয়ে চকোলেট কেনা কি আবশ্যক? দাতার শর্ত অনুযায়ী টাকা খরচ না করলে কি গুনাহ হবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 8056
Questioner: No name
Question Asked: 06 Nov 2026, 12:03 PM
Reviewed & Published: 06 Nov 2026, 02:12 PM
Views: 52
Tokens: 3,092
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
কেউ যদি আমাকে টাকা দিয়ে বলে যে তুমি এই টাকা দিয়ে চকোলেট খেয়ো তাহলে কি সেটা দয়ে আমার চকোলেটই কিনতে হবে? অন্য কিছু কিনা বা সদকা করা যাবে না? যদি আমি কিছু পরিমাণ দিয়ে চকোলেট কিনি আর বাকিটা অন্য কাজে খরচ করি তাহলে কি গুনাহ হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার জিজ্ঞাসিত মাসআলাটির ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ সুনির্দিষ্ট শরঈ ফয়সালা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত (সংক্ষেপে):

কেউ আপনাকে টাকা দিয়ে "চকোলেট খেয়ো" বললেও সেই টাকা দিয়ে কেবল চকোলেটই কিনতে হবে—এমন কোনো শরঈ বাধ্যবাধকতা নেই।

টাকাটি হাতগত বা গ্রহণ করার পর আপনি ঐ টাকার পূর্ণ শরঈ মালিক হয়ে গেছেন [১৬৪, ৩১৭]। অতএব, সেই টাকা দিয়ে চকোলেট না কিনে অন্য কিছু কেনা, অন্য প্রয়োজনে খরচ করা কিংবা পুরোটাই সদকা করে দেওয়া শরীআতের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপে জায়েয।

যদি আপনি কিছু টাকার চকোলেট কিনে বাকি টাকা অন্য কাজে খরচ করেন বা সদকা করেন, তাতে আপনার কোনো প্রকার গোনাহ হবে না।


২. বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা ও মূলনীতি:

১. হাদিয়ার মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া: কেউ যখন আপনাকে নিজের জন্য টাকা দেয় (যেমন: "তুমি এই টাকা দিয়ে চকোলেট খেয়ো"), ফিকহের পরিভাষায় এটি 'হাদিয়া' বা 'হিবাহ' (উপহার) হিসেবে গণ্য হয়। ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাদিয়া গ্রহণ বা হস্তগত (কবজ) করার সাথে সাথেই গ্রহীতা উক্ত অর্থের পূর্ণাঙ্গ মালিক হয়ে যান।

২. হাদিয়ার সাথে শর্ত যুক্ত করার ফিকহী বিধান: হাদিয়াদাতা যদি হাদিয়া দেওয়ার সময় কোনো শর্ত বা ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট পথ বাতলে দেন (যেমন: "চকোলেট খেয়ো" বা "অমুক জিনিস কিনো"), তবে শরীআতের মূলনীতি অনুযায়ী সেই শর্তটি গ্রহীতার ওপর বাধ্যতামূলক হয় না। ফিকহের প্রখ্যাত ক্বায়দা (মূলনীতি) হলো:

«التبرعات كالهبة والقرض... إذا اقترن العقد بالشرط الفاسد صح العقد ولغي الشرط» (অর্থ: "দান বা হাদিয়ার মতো চুক্তির সাথে যদি কোনো অকার্যকর বা অনাবশ্যক শর্ত যুক্ত করা হয়, তবে মূল হাদিয়া ও মালিকানা সম্পূর্ণ সহীহ থাকে এবং শর্তটি বাতিল বলে গণ্য হয়।") (কাওয়াইদুল ফিকহ পৃষ্ঠা ১২৮; বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যাহ ২/২১৯)।

অতএব, দাতার "চকোলেট খেয়ো" বলাটি ছিল তাঁর স্নেহ বা পছন্দের বহিঃপ্রকাশ মাত্র; এটি আপনার শরঈ মালিকানাকে সংকুচিত করে না।

৩. একটি জরুরি পার্থক্য (ওয়াকালাত বা আমানত): যদি দাতা আপনাকে নিজের জন্য টাকা না দিয়ে, বরং দাতার নিজের কাজের জন্য দোকান থেকে চকোলেট কিনে আনার প্রতিনিধি (ওকিল) বানিয়ে টাকা দিতেন, তবে সে ক্ষেত্রে কেবল চকোলেটই কিনতে হতো এবং অন্য কাজে খরচ করা নাজায়েয হতো। কিন্তু আপনাকে যেহেতু উপহার বা পকেটমানি হিসেবে দেওয়া হয়েছে, তাই আপনি এর পূর্ণ মালিক এবং নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো হালাল কাজে তা ব্যয় করতে পারেন।


সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুয়াসারা (২য় খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ২১৯, ২৬৭ (বুহুস ফি কাযায়া ২/২১৯, ২৬৭) (অধ্যায়: 'احكام الهبة والشرط الفاسد — হিবাহ ও হাদিয়ার সাথে ফাসেদ বা অনাবশ্যক শর্ত যুক্ত হলে শর্ত বাতিল হওয়া কিন্তু হাদিয়া সহীহ হওয়া সংক্রান্ত ফিকহী মূলনীতি')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২৪শ খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ৬১, ৬২ (মাহমুদিয়া ২৪/৬১, ৬২) (অধ্যায়: কিতাবুল হিবাহ — 'হাদিয়া ও হিবাহ প্রাপ্তির পর গ্রহীতা উক্ত মালের পূর্ণ মালিক হয়ে যাওয়া এবং স্বাতন্ত্র্য হস্তক্ষেপের অধিকার লাভ করা')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১৫২ (মাহমুদিয়া ২০/১৫২) (অধ্যায়: কিতাবুল হিবাহ — 'কবজ সম্পন্ন হওয়ার পর হিবাহ পূর্ণ হওয়া ও মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া সংক্রান্ত ফতোয়া')।
  • কাওয়াইদুল ফিক্বহ (হাশিয়া সহ):

    • পৃষ্ঠা: ৪৮, ১২৮ (কাওয়াইদুল ফিকহ পৃষ্ঠা ৪৮, ১২৮) (ক্বায়দা নং ৩২৮: 'التبرعات كالهبة إذا اقترن العقد بالشرط الفاسد صح العقد ولغي الشرط — হাদিয়ার শর্ত বাতিল হওয়া সংক্রান্ত ফিকহী ক্বায়দা')।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.