রুকইয়ার দুআ মুখস্থ না থাকলে দেখে দেখে পড়া যাবে কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7992
Questioner: Rahnuma
Question Asked: 05 Nov 2026, 11:06 AM
Reviewed & Published: 05 Nov 2026, 11:34 AM
Views: 8
Tokens: 3,229
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,
1.বদ নজরে রুকাইয়া করার সময় দুয়াগুলো যদি মুখস্ত না থাকে তাহলে দেখে দেখে পড়ার বিধান কি?
2. তারপর রুকাইয়া গোসল করার সময় যদি পুরো বড় বালতি বাহিরে এনে দোয়া করা কষ্টসাধ্য, এক্ষেত্রে আমি যদি ছোট একটা পাত্রে বাহিরে এনে দোয়া পড়ে তারপর ওই পাত্রের পানি পুরো বালতিতে ঢেলে গোসল করি তাহলে কি হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী):

প্রশ্ন ১: রুকইয়ার দুআ মুখস্থ না থাকলে দেখে দেখে পড়া যাবে কি?

হ্যাঁ, যাবে। রুকইয়ার দুআ বা যিকির মুখস্থ না থাকলে কাগজ/মোবাইল/বই দেখে দেখে পড়া জায়েয, এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কারণ দুআ ও যিকিরের ক্ষেত্রে দেখে পড়া নিষিদ্ধ নয়।

তবে উত্তম হলো—প্রথমে দুআগুলো মুখস্থ করে নেওয়া, যাতে রুকইয়ার সময় একাগ্রতা ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। মুখস্থ করার আগে দেখে দেখে পড়া সম্পূর্ণ জায়েয।

দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— «لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ» "শিরকমিশ্রিত না হলে রুকইয়াতে কোনো অসুবিধা নেই।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস ২২০০) আর যিকির-দুআয় "দেখে পড়া" নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো দলিল নেই; বরং কুরআন-হাদিসে দুআর ফজিলত ও বৈধতার ব্যাপক অনুমোদন রয়েছে।

প্রশ্ন ২: রুকইয়ার গোসলের পানি—বড় বালতিতে সরাসরি দুআ করা কষ্টকর হলে ছোট পাত্রে দুআ পড়ে সেই পানি বালতিতে ঢেলে গোসল করা যাবে কি?

হ্যাঁ, এভাবে করা জায়েয এবং রুকইয়ার উদ্দেশ্যও হাসিল হবে। কারণ রুকইয়ার গোসলের ক্ষেত্রে শরীয়তের দৃষ্টিতে পানি "দুআ-পড়া পানি" হওয়ার মূল বিষয় হলো—দুআটি পানির উপর পড়া এবং সেই পানি শরীরে পৌঁছানো। ছোট পাত্রে দুআ পড়ে তা বালতির পানিতে মিশিয়ে দেওয়া হলে বালতির পানি দুআ-পড়া পানির হুকুম পাবে এবং গোসল দ্বারা রুকইয়ার উদ্দেশ্য হাসিল হবে।

তবে খেয়াল রাখতে হবে— ১. দুআ পড়ার সময় পাত্রটি পবিত্র (তাহির) হতে হবে; ২. দুআয় কোনো শিরকি কালাম বা বেমানান কথা না থাকতে হবে; ৩. দুআ পড়ার পর সেই পানি শরীরে লাগানোই মূল উদ্দেশ্য—এতে বালতির পানিতে মিশ্রণের কারণে গুণ নষ্ট হয় না।

দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ রোগীর উপর দুআ পড়ে পানি ছিটিয়ে দিতেন এবং দুআ-পড়া পানির দ্বারা শিফা কামনা করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস ৫৬৭৫-এর অধ্যায়; সহীহ মুসলিম, হাদিস ২১৯১) ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেছেন যে, রুকইয়ার জন্য দুআ পড়া পানি ব্যবহার করা জায়েয; আর পানি এক পাত্র থেকে অন্য পাত্রে ঢাললে পানির পবিত্রতা ও হুকুম অপরিবর্তিত থাকে। (রাদ্দুল মুহতার, ১/২৩৫-২৩৬ প্রসঙ্গ)

সারসংক্ষেপ: ১. রুকইয়ার দুআ মুখস্থ না থাকলে দেখে দেখে পড়া জায়েয; তবে মুখস্থ করাই উত্তম। ২. ছোট পাত্রে দুআ পড়ে সেই পানি বালতিতে ঢেলে গোসল করা জায়েয এবং রুকইয়ার উদ্দেশ্য হাসিল হবে।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.