বিতির নামাজে অতিরিক্ত তাকবির ওয়াজিব না সুন্নত?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
২/টুপি ছাড়া নামাজ পড়া কি মাকরূহ তাহারিমা নাকি তানযিহ
৩/সানা পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নাকি শুধু সুন্নত
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
প্রশ্নের উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)
১) বিতির নামাজে অতিরিক্ত তাকবির বলা — ওয়াজিব না সুন্নত?
উত্তর: বিতির নামাজে তৃতীয় রাকআতে সূরা পড়ার পর এবং রুকুতে যাওয়ার আগে যে অতিরিক্ত তাকবির (তাকবিরে কুনূতের পূর্বের তাকবির) বলা হয় — এটি ওয়াজিব।
দলিল ও ব্যাখ্যা:
-
হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়া ও রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, বিতিরের তৃতীয় রাকআতে কুনূতের জন্য অতিরিক্ত তাকবির বলা ওয়াজিব। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে প্রমাণিত এবং সাহাবায়ে কিরামও এভাবে আদায় করেছেন।
-
মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) তাঁর মা'আরিফুল কুরআন-এ এবং মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) তাঁর ফাতাওয়া উসমানী-তে উল্লেখ করেছেন: বিতিরে তাকবিরে কুনূতের আগে হাত উঠিয়ে তাকবির বলা ওয়াজিব; ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেওয়া গুনাহ, আর ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে।
-
ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী রহ.)-তেও এটিকে ওয়াজিব বলা হয়েছে।
২) টুপি ছাড়া নামাজ পড়া — মাকরূহ তাহরীমা না তানযীহ?
উত্তর: টুপি ছাড়া নামাজ পড়া মাকরূহ তানযীহী মাকরূহ তাহরীমা নয় — তবে বিনা কারণে অভ্যাস হিসেবে টুপি ছেড়ে দেওয়া রাসূল ﷺ-এর সুন্নতের খিলাফ।
দলিল ও ব্যাখ্যা:
-
রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন, খণ্ড ১)-এ উল্লেখ আছে: "لو صلى حاسرا رأسه يكره تنزيها" — অর্থাৎ মাথা খোলা (টুপি ছাড়া) নামাজ পড়া মাকরূহ তানযীহী। তবে যদি অপমান বা অবহেলার উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে তাহরীমা হওয়ার আশঙ্কা আছে।
-
ফাতাওয়া আলমগীরী-তেও টুপি ছাড়া নামাজকে মাকরূহ বলা হয়েছে।
-
বেহেশতী যেওর (আশরাফ আলী থানভী রহ.)-এ বলা হয়েছে: টুপি ছাড়া নামাজ পড়া মাকরূহ; পুরুষের জন্য টুপি পরা সুন্নত ও আদব।
-
ফাতাওয়া উসমানী-তে মুফতি তাকী উসমানী বলেন: সাধারণভাবে টুপি ছাড়া নামাজ মাকরূহ তানযীহ; কিন্তু যদি টুপিকে হালকা বা তুচ্ছ মনে করে ছাড়ে, তাহলে তাহরীমার দিকে যায়।
৩) সানা পড়া — সুন্নাতে মুয়াক্কাদা না শুধু সুন্নত?
উত্তর: সানা (সুবহানাকা আল্লাহুম্মা...) পড়া সুন্নাত — তবে হানাফি ফিকহে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হিসেবে গণ্য, কারণ নামাজের শুরুতে এটি নিয়মিতভাবে রাসূল ﷺ ও সাহাবায়ে কিরাম থেকে প্রমাণিত।
দলিল ও ব্যাখ্যা:
-
আল-হিদায়া ও শরহু মাআনিল আছার (ইমাম তাহাবী)-এ সানা পড়া সুন্নত বলা হয়েছে।
-
রাদ্দুল মুহতার-এ ইবনে আবিদিন বলেন: "السنة أن يبدأ بالثناء" — সানা দিয়ে নামাজ শুরু করা সুন্নত; এবং এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদার অন্তর্ভুক্ত, কারণ নিয়মিত আদায় করা হয়।
-
মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) মা'আরিফুল কুরআন-এ এবং ফাতাওয়া উসমানী-তে সানাকে সুন্নাত বলেছেন; ছেড়ে দিলে সাহু সিজদা ওয়াজিব নয়, তবে সুন্নতের ছওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে।
-
বেহেশতী যেওর-এ সানা পড়াকে সুন্নত বলা হয়েছে।
সারসংক্ষেপ: সানা পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত); ছেড়ে দিলে নামাজ হয়, তবে সুন্নতের ছওয়াব মিস হবে।