উমরি কাযা নামায কতবার ও কখন আদায় করবো?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
উমরি কাযা নামায আদায়ের বিধান
** উত্তর:** উমরি কাযা নামায কিছু কিছু করে আদায় করা যাবে। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তের সাথে সাথে অতিরিক্ত যতটা সহজে সম্ভব কাযা আদায় করা উচিত, নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই, তবে প্রতিটি ফরজ নামাযের পর অন্তত একটি করে কাযা আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা উত্তম পদ্ধতি।
বুযুর্গানের দ্বীন একটি নিয়মের কথা বলে থাকেন সেটি হল, যে কোন এক ওয়াক্তের নামাজ ধরে নিয়ে সেটি আগে শেষ করা।
তারপরও আরেক ওয়াক্তের নামাজ নেয়া।
যেমন প্রথমে জীবনে ফজরের নামাজ কত গুলো কাজা রয়েছে সেগুলোর কাজা আগে আদায় করে নেয়া। এরপরে জোহরের নামাজ শুরু করা।
এক্ষেত্রে সহজ ভাবে এভাবে নিয়ত করা যায় যে আমার জীবনের সর্বশেষ অনাদায়ী ফজর বা আমার জীবনের অনাদায়ী সর্বপ্রথম ফজরের নামাজের কাজা আদায় করছি।
ইশরাকের সময় কাযা নামায পড়া যায় (নিষিদ্ধ সময় নয়)। আসর ও ফজরের পর কাযা নামায পড়া যায়, তবে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের ঠিক সময়ে ও সূর্য যখন সরাসরি মাথার উপরে থাকে,তখন নয়। মৃত্যুর আগে কাযা শেষ করতে না পারলে ওয়ারিসদের কাছে ফিদইয়াহ আদায়ের অসিয়ত করে যাবেন।
শরীয়তে কাযা নামায আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দৈনিক সংখ্যা নির্ধারিত নেই। তবে উলামায়ে কেরাম নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দেন:
-
প্রতিটি ওয়াক্তের ফরজ নামাযের পরপরই একটি করে কাযা আদায় করা — এতে দিনে ৫টি কাযা আদায় হবে এবং হিসাব রাখা সহজ হয়।
-
যাঁর কাযা বেশি, তিনি অতিরিক্ত নফল নামায কমিয়ে কাযায় মনোযোগ দেবেন। কেননা ফরজ-ওয়াজিবের কাযা নফলের চেয়ে অগ্রগণ্য।
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন যে, যে ব্যক্তির কাযা নামায রয়েছে তার জন্য নফল নামাযে ব্যস্ত থাকার চেয়ে কাযা আদায় করা অগ্রগণ্য। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, কিতাবুস সালাত)
আশরাফ আলী থানভী (রহ.) «বেহেশতী জেওর»-এ বলেন, কাযা নামায আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় নেই; যেকোনো সময় (নিষিদ্ধ সময় ব্যতীত) আদায় করা যায়। প্রতিদিন নিয়মিত অল্প অল্প করে আদায় করলে ইনশাআল্লাহ একসময় শেষ হবে।
ইশরাকের সময় কাযা নামায পড়া জায়েয। ইশরাকের সময় (সূর্যোদয়ের পর প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর থেকে) নিষিদ্ধ সময় শেষ হয়ে যায়। সুতরাং তখন আপনি যেকোনো ওয়াক্তের কাযা নামায আদায় করতে পারেন — ফজরের কাযা, যোহরের কাযা, বা অন্য যেকোনো।
৩. আসর ও ফজরের পর কাযা নামায পড়া যায় কি?
হ্যাঁ, যায়। তবে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের ঠিক সময়ে ও সূর্য যখন সরাসরি মাথার উপরে থাকে,তখন নয়।
| নিষিদ্ধ সময় | |---|---| | সূর্যোদয়ের সময় | সূর্য উঠার মুহূর্তে | | সূর্যাস্তের সময় | সূর্য ডোবার মুহূর্তে | | ঠিক দুপুরে (ইস্তিওয়া) | সূর্য মাথার উপর থাকা অবস্থায় |
এছাড়া আসরের নামাযের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং ফজরের নামাযের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত — এই সময়গুলোতে নফল নামায মাকরূহ (তাহরীমী), কিন্তু কাযা নামায পড়া জায়েয ও বৈধ। কেননা কাযা নামাযের জন্য নিষিদ্ধ সময়ের বিধান প্রযোজ্য নয়।
ফাতাওয়া আলমগীরীতে উল্লেখ আছে: «لا تجوز النافلة في أوقات الكراهة، وأما الفوائت فتقضى في أي وقت» — নফল নামায মাকরূহ সময়ে জায়েয নয়, কিন্তু কাযা নামায যেকোনো সময় আদায় করা যায়। (ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুস সালাত)
والله أعلم بالصواب