তালিবুল ইলমরা কি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলামি দাওয়াত ও প্রশ্নোত্তর দিতে পারবেন?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
ইসলামি দাওয়াত ও প্রশ্নোত্তরে তালিবুল ইলমদের করণীয়
প্রশ্নের সারমর্ম: তালিবুল ইলম (ধর্মীয় শিক্ষার্থী) যারা সব বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন না, তারা কি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলামি দাওয়াত ও প্রশ্নোত্তর দিতে পারবেন? গবেষণা করে উত্তর বের করে অন্যদের সতর্ক করতে পারবেন? নাকি জ্ঞান কম থাকায় এটি তাদের জন্য অনুচিত?
উত্তর
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
দ্বীনের শিক্ষার্থী বা তালিবুল ইলমদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দাওয়াত প্রদান এবং মাসআলা-মাসাইল বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যাপারে ইসলামী শরীআতে সুনির্দিষ্ট নীতি ও সীমা রয়েছে। প্রামাণ্য ফাতাওয়া কিতাব ও ফিকহী গ্রন্থাবলীর আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ এর সুনির্দিষ্ট ফয়সালা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত:
১. মাসআলা-ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে: তালিবুল ইলম বা দ্বীনের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কোনো শরঈ বিধান (হালাল, হারাম, জায়েয, নাজায়েয) নির্ধারণ করতে বা সরাসরি নতুন/জটিল প্রশ্নের ফতোয়া ও সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না [৭, ২৭, ১৩২]। তবে বিজ্ঞ মুফতিগণের নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ও প্রামাণ্য কিতাবের স্পষ্ট উদ্ধৃতি (রেফারেন্স) দিয়ে উত্তরটুকু হুবহু পৌঁছে দিতে পারবেন।
২. সাধারণ দাওয়াত ও নসীহতের ক্ষেত্রে: যেসব মৌলিক দ্বীনী বিষয় (যেমন: ইবাদতের ফজিলত, সুন্নাত ও আদব, চরিত্র গঠন, ওয়াজ-নসীহত) তারা নির্ভরযোগ্য উস্তাদ ও কিতাব থেকে সুনিশ্চিতভাবে জেনেছেন, সেসব বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাওয়াত দিতে পারবেন।
২. বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা ও নীতিসমূহ:
ক. না জেনে বা যোগ্যতা ছাড়া ফতোয়া দেওয়ার কঠোর নিষেধাজ্ঞা:
- জাহান্নামের দুঃসাহস: হাদিস শরীফে রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
«أَجْرَأُكُمْ عَلَى الْفُتْيَا أَجْرَأُكُمْ عَلَى النَّارِ» (“তোমাদের মাঝে ফাতওয়ার ব্যাপারে যে সবচেয়ে দুঃসাহসী, সে জাহান্নামের ব্যাপারেও সবচেয়ে দুঃসাহসী”)।
- গোনাহের দায়ভার: না জেনে বা অযোগ্য অবস্থায় ফতোয়া দিলে তার সমস্ত গোনাহ ফতোয়াদাতার ওপর বর্তায়।
- অনধিকার চর্চা নিষিদ্ধ: যোগ্য মুফতিগণের ইজাজত ও তত্ত্বাবধান ছাড়া কেবল কিতাব পড়ে বা নিজস্ব বুদ্ধিতে শরঈ সিদ্ধান্ত দেওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় মাসআলা বলা শরীআতের দৃষ্টিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও মারাত্মক অনধিকার চর্চা।
খ. তালিবুল ইলমগণের জন্য ফতোয়া বা মাসআলা পৌঁছানোর নিয়ম:
- উদ্ধৃতি (হাওয়ালা) প্রদান: তালিবে ইলম কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইলে নিজে মুফতী সেজে উত্তর দেবেন না; বরং নির্ভরযোগ্য ফাতাওয়া কিতাব বা স্বীকৃত মুফতী সাহেবের উত্তর হুবহু উদ্ধৃত করবেন এবং উত্তরটি তাঁর দিকে সম্বন্ধ করবেন।
- অজানা বিষয়ে 'জানি না' বলা: কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে বা উত্তর জানা না থাকলে নিঃসংকোচে "জানি না" বলবেন কিংবা বিজ্ঞ মুফতী ও দারুল ইফতায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেবেন।
গ. সোশ্যাল মিডিয়ায় দাওয়াতের সঠিক রূপরেখা:
- জ্ঞানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকা: যে বিষয়ে নিজের স্পষ্ট ও সঠিক জ্ঞান রয়েছে, কেবল ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক।
- বিতর্ক এড়িয়ে চলা: সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক বা অনর্থক ফিকহী বিতর্ক সৃষ্টি না করে হেকমত, বিনয় ও উত্তম নসীহতের সাথে সত্য প্রচার করা।
সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- দরসুল ফিকহ (১/৩৭)
- দরসুল ফিকহ (২/৪০)
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১/১০৫)
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২/১৩৮)
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫/১৭৬)
আল্লাহ ভালো জানেন।