ভেজা কাপড়ে শিশু কোলে নিলে নাপাক হয় কি না, শুকনো প্রস্রাবের চিহ্ন স্পর্শের বিধান, টিস্যু দিয়ে মুছলে পাক হয় কি না ?
Taharah Purity · Hanafi
Question
আমার মেয়ের বয়স ৪ মাস। সে প্রস্রাব করলে আমি পানি দিয়ে পরিষ্কার করি না; শুধু টিস্যু বা কাপড় দিয়ে মুছে দিই।
এখন আমার কয়েকটি বিষয় জানার আছে:
১. আমার নামাজের কাপড় যদি ভেজা থাকে এবং সেই অবস্থায় আমি আমার মেয়েকে কোলে নিই, তাহলে কি আমার নামাজের কাপড় নাপাক হয়ে যাবে?
২. অজু করার পর আমার শরীর, বিশেষ করে হাত বা কাপড় ভেজা থাকা অবস্থায় মেয়েকে কোলে নিলে কি আমার শরীর বা কাপড় নাপাক হয়ে যাবে?
৩. মেয়ের প্রস্রাব শুকিয়ে যাওয়ার পরও যদি তার শরীরে বা কাপড়ে প্রস্রাবের কোনো চিহ্ন থেকে যায়, তাহলে তাকে কোলে নিলে কি আমার শরীর বা কাপড় নাপাক হবে?
৪. শুধু টিস্যু বা কাপড় দিয়ে মেয়ের প্রস্রাব মুছে দিলে কি সে পাক হয়ে যায়, নাকি পানি দিয়ে পরিষ্কার করা জরুরি?
বিষয়গুলো বিস্তারিত জানিয়ে শরিয়তের সঠিক বিধান জানালে উপকৃত হব।
Answer
প্রশ্নোত্তর: শিশুর প্রস্রাব ও পবিত্রতা সংক্রান্ত বিধান
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আপনার ৪ মাসের ছোট মেয়ের প্রস্রাব ও পবিত্রতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ফিকহে হানাফী এবং প্রামাণ্য ফাতাওয়া কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ বিস্তারিত শরঈ উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. ১ম প্রশ্নের উত্তর: নামাজের কাপড় ভেজা থাকা অবস্থায় মেয়েকে কোলে নিলে কাপড় নাপাক হবে কি?
শরঈ সিদ্ধান্ত: যদি আপনার বাচ্চার প্রস্রাবের স্থানটি টিস্যু বা কাপড় দিয়ে মোছার পর শুকিয়ে থাকে এবং আপনার ভেজা কাপড়টি বাচ্চার গায়ে স্পর্শ করার ফলে বাচ্চার গায়ের কোনো প্রস্রাবের ভেজাভাব/আর্দ্রতা বা নাপাকী আপনার কাপড়ে স্থানান্তরিত না হয়, তবে আপনার নামাজের কাপড় নাপাক হবে না।
তবে যদি বাচ্চার ত্বকে প্রস্রাবের ভেজাভাব থেকে থাকে এবং আপনার ভেজা কাপড়ে সেই প্রস্রাবের আর্দ্রতা বা ভিজাভাব লেগে যায়, তবে কাপড়ের যতটুকু অংশে প্রস্রাবের আর্দ্রতা লাগবে, ততটুকু অংশ নাপাক হয়ে যাবে।
২. ২য় প্রশ্নের উত্তর: অজু করার পর হাত বা শরীর ভেজা অবস্থায় কোলে নিলে কি শরীর/কাপড় নাপাক হবে বা অজু ভাঙবে?
শরঈ সিদ্ধান্ত: ১. অজু ভাঙার মাসআলা: সন্তান বা ছোট বাচ্চাকে কোলে নেওয়া বা স্পর্শ করার দ্বারা অজু ভঙ্গ হয় না । ২. পবিত্রতার মাসআলা: আপনার হাত বা শরীর ভেজা থাকা অবস্থায় মেয়েকে কোলে নিলে যদি বাচ্চার শরীর থেকে কোনো প্রস্রাবের আর্দ্রতা বা নাপাকী আপনার হাত বা শরীরে লেগে না যায়, তবে আপনার হাত, শরীর ও অজু সবই পাক থাকবে। তবে যদি বাচ্চার গায়ে কাঁচা/ভেজা প্রস্রাব থাকে এবং তা আপনার ভেজা হাতে বা কাপড়ে লেগে যায়, তবে অজু ভাঙবে না কিন্তু স্পর্শকৃত স্থানটি নাপাক হয়ে যাবে। নামাজ পড়ার পূর্বে কেবল ঐ নাপাক হওয়া অংশটি পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই চলবে।
৩. ৩য় প্রশ্নের উত্তর: প্রস্রাব শুকিয়ে যাওয়ার পর বা চিহ্ন থেকে যাওয়ার পর কোলে নিলে শরীর/কাপড় নাপাক হবে কি?
শরঈ সিদ্ধান্ত: প্রস্রাব শুকিয়ে যাওয়ার পর যদি বাচ্চার শরীরে বা কাপড়ে কেবল চিহ্ন (দাগ) থেকে যায় কিন্তু স্থানটি সম্পূর্ণ শুকনো থাকে, তবে আপনার শুকনো বা হালকা ভেজা কাপড় দিয়ে তাকে কোলে নিলে যদি বাচ্চার শরীর থেকে প্রস্রাবের কোনো ভেজাভাব আপনার শরীরে বা কাপড়ে না আসে, তবে আপনার শরীর বা কাপড় নাপাক হবে না।
তবে আপনার শরীর বা কাপড় যদি এত বেশি ভিজা থাকে যে তার স্পর্শে বাচ্চার শুকিয়ে যাওয়া প্রস্রাব আবার ভিজে ওঠে এবং সেই নাপাক ভেজাভাব আপনার কাপড়ে লেগে যায়, তবেই কেবল তা নাপাক হবে।
৪. ৪্থ প্রশ্নের উত্তর: শুধু টিস্যু বা কাপড় দিয়ে মুছে দিলে কি মেয়ে পাক হয়ে যায়, নাকি পানি দিয়ে ধোওয়া জরুরি?
শরঈ সিদ্ধান্ত: ছেলে বা মেয়ে শিশু—উভয়ের প্রস্রাবই ইসলামী শরীআতে 'নাজাসাতে গলীজা' (গুরুতর অপবিত্রতা)।
বাচ্চার গায়ে বা কাপড়ে প্রস্রাব লাগলে শুধু টিস্যু বা শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিলে ওপরের ভেজা অংশ উঠে গেলেও স্থানটি শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ পাক হয় না; বরং নাপাকই থেকে যায়। অতএব, বাচ্চার ত্বকের ক্ষতি না করে হালকা পানি দিয়ে প্রস্রাবের স্থানটি ধুয়ে পরিষ্কার করা জরুরি, যাতে স্থানটি সম্পূর্ণরূপে পবিত্র বা পাক হয়ে যায়।
সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):
- পৃষ্ঠা: ২০ (পরিচ্ছেদ: 'ইস্তিনজার বর্ণনাসমূহ — নাপাকী দূরীকরণে পানির প্রয়োজনীয়তা')।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫৫ (অধ্যায়: তাহারাত, ৫ম অনুচ্ছেদ — 'অজু ভঙ্গের কারণসমূহ ও শিশু স্পর্শের বিধান') ।
**সর্বদা বাচ্ছাকে শুকনো শরীর বা শুকনো কাপড় পরিহিত অবস্থায় কোলে নিবেন। এবং যথাসম্ভব বাচ্ছার শরীর কুসুম গরম পানি দ্বারা ধৌত করে রাখবেন। তাহলে আর নাপাকির ওয়াসওয়াসা অন্তরে আসবে না।
আল্লাহ ভালো জানেন।