হিন্দু ছাত্রদের চিহ্নিত করতে হাত তোলা কি কুফর?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
https://islamqapro.com/q/7661/mja-kre-omuslim-pricz-deooza-ki-kufr-sikshker-vule-hat-tola-ki-kafer-banaz-sukno-napakite-veja-pa-hanntle-pa-oo-jazga-napak-hz-ki একটি প্রশ্ন করেছিলাম যেখানে মুফতি সাহেব জবাব দিয়েছেন।
" প্রশ্নে উল্লেখিত শিক্ষক যদি জানে যে এভাবে নিজেকে অমুসলিম পরিচয় দেওয়ার দ্বারা সে কাফের হয়ে যায়, এটা জেনে শুনে বুঝেই সে যদি হাত তুলে থাকে, তাহলে এক্ষেত্রে সে কাফের হয়ে যাবে।
অন্যথায় সে কাফের হয়ে যাবে না।"
আমার মনে হয় বিষয়টি বিস্তারিত জানানো প্রয়োজন।
আমাকে একটি কক্ষের হিন্দু ছাত্র গুণার কাজ দেওয়া হয়।
আমি সুবিধার জন্য বলি "এখানে কারা হিন্দু আছো হাত তোলো" একথা বলার সময় আমিও হাত তোলে ফেলি, সম্ভবত নির্দেশনা বুঝানোর জন্য হাতটি উঠে যায় । তারপর হঠাৎ মাথায় আসে এতে কি কুফর হতে পারে। হিন্দু কারা কারা এটা বুঝানোর জন্য হাত তুললে কুফর হতে পারে এটা জানি কিন্তু হাত তোলার সময় বিষয়টা মাথায় ছিলো না। হাত টা কথার সাথে সাথে হয়তো অবচেতন মনে উঠে গিয়েছিলো। ভেবে চিন্তে হাত উঠাই নি এটা বলতে পারি।
এক্ষেত্রে এ কাজের জন্য কি হবে আমার, জানালে উপকৃত হবো।
Answer
পূর্বের প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা: হিন্দু ছাত্রদের চিহ্নিত করতে হাত তোলা কি কুফর?
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারী এক কক্ষে হিন্দু ছাত্রদের চিহ্নিত করার জন্য "এখানে কারা হিন্দু আছো, হাত তোলো" বলার সময় নিজেও নির্দেশনা বোঝানোর জন্য হাত তুলে ফেলেন। পরে তাঁর মনে হয়—এ কাজ কি কুফর হতে পারে? তিনি জানতে চান, এতে তাঁর উপর কী বিধান প্রযোজ্য হবে?
জবাবঃ- প্রশ্নের বিবরন মতে আপনি কাফের হয়ে যাননি,আপনার ঈমান বহাল রয়েছে।
মূলনীতি: কুফরের শর্ত হলো ইচ্ছা ও জ্ঞান
কুফর একটি গুরুতর বিষয়। ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি হলো—কুফর তখনই সংঘটিত হয় যখন কেউ জেনে-বুঝে, ইচ্ছাকৃতভাবে কুফরি কথা বলে বা কুফরি কাজ করে। ভুলবশত, অসতর্কতাবশত বা অবচেতনভাবে কোনো কাজ সংঘটিত হলে তা কুফর হিসেবে গণ্য হয় না।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُم بِهِ وَلَٰكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ
"তোমরা যে ভুল করে ফেলো তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই; বরং (গুনাহ) তা-ই, যা তোমাদের অন্তর ইচ্ছাকৃতভাবে করে।" — (সূরা আহযাব: ৫)
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং জোরপূর্বক করানো কাজকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।" — (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৩; সুনানে বায়হাকি)
হানাফি ফিকহে কুফরের শর্ত
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ কুফরের শর্তাবলি উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:
وَالْكُفْرُ يَكُونُ بِالِاعْتِقَادِ وَالْقَوْلِ وَالْفِعْلِ، وَلَا يَكُونُ إِلَّا بِالِاخْتِيَارِ
"কুফর সংঘটিত হয় বিশ্বাস, কথা ও কাজ দ্বারা; কিন্তু তা কেবল ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হয়।" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল জিহাদ, বাবুল মুরতাদ্দ: ৪/২২৪)
ইমাম আলাউদ্দিন হাসকাফি (রহ.) আদ-দুররুল মুখতার-এ বলেন:
وَلَا عِبْرَةَ لِلْخَطَأِ وَلَا لِلنِّسْيَانِ فِي بَابِ الْكُفْرِ
"কুফরের ক্ষেত্রে ভুল ও বিস্মৃতির কোনো গুরুত্ব নেই (অর্থাৎ ভুলবশত বা বিস্মৃতবশত কুফর সংঘটিত হয় না)।" — (আদ-দুররুল মুখতার: ৪/২২৪)
হাত তোলার বিষয়টি বিশ্লেষণ
প্রশ্নকারীর বর্ণনা অনুযায়ী:
- তিনি "এখানে কারা হিন্দু আছো, হাত তোলো" বলার সময় নির্দেশনা বোঝানোর জন্য নিজেও হাত তুলেছিলেন।
- হাত তোলার সময় তাঁর মনে কুফরের বিষয়টি ছিল না।
- তিনি জেনে-বুঝে, ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেননি।
- এটি ছিল অবচেতন ও স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া—যেমন শিক্ষক ছাত্রদের নির্দেশনা দিতে গিয়ে নিজেও অঙ্গভঙ্গি করেন।
এমতাবস্থায় এ কাজ কুফর হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ:
- নিয়ত ও ইচ্ছা ছিল না — তিনি নিজেকে হিন্দু হিসেবে পরিচয় দিতে চাননি।
- জ্ঞান ও বোধ ছিল না — হাত তোলার সময় কুফরের বিষয়টি তাঁর মাথায় ছিল না।
- এটি ছিল নির্দেশনা প্রদানের একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি — শিক্ষক ছাত্রদের কিছু বোঝাতে গিয়ে নিজেও অঙ্গভঙ্গি করেন, এটি সাধারণ প্রথা।