চিকিৎসার প্রয়োজনে সতর খোলা, অনিচ্ছাকৃতভাবে পুরুষরা সতর দেখে ফেললে গুনাহ হবে কি? খাদিজা নাম রাখা জায়েয কি?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7288
Questioner: Nazmin
Question Asked: 23 Oct 2026, 09:50 AM
Reviewed & Published: 23 Oct 2026, 10:34 AM
Views: 9
Tokens: 5,156
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
১/আমার বাবু হয়েছে কিছু দিন পূর্বে, তো বাবু হতে গিয়ে আমার পর্দার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। জেনারেল বেডে থাকতে হয়েছে কিছুক্ষণ তখন ব্যাথায় মুখ ডাকা অসহ্য হয় তারপর ওটিতেও শেষের দিকে পুরুষরা ডুকে পরে তখন আমার সেলাই চলছিল,তো সতর দেখে ফেলে যা আমার জন্য কষ্টকর। এক্ষেত্রে আমি কতটা গুনাহগার হবো কিভাবে আল্লাহর কাছে মাফ চাইব?
২/ আমার মেয়ের নাম নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম স্ত্রীর নামের সাথে মিলিয়ে রাখতে চেয়েছি খাদিজা কিন্তু আরবিতে খদিজা হয়। এখন খাদিজা রাখলে কি কিছু হবে? খদিজা তো সবাই ঐভাবে ডাকবেও না।
৩/মূল প্রশ্ন আরেকটা, সেলাই থাকায় আমি নিচে এত কাপড় রাখতে পারিনি,নল সেলাই ঝামেলা। পেটিকোট ছাড়া মেক্সি পড়ে থাকি, দরজা খুলে বের হলে মাঝে মধ্যে আমার বাবা থাকে,তারপর গোসল করে ঐদিন জামা কাপড় সব রেখে পেটিকোট নিব রুম থেকে আমার বাবা জগ নিতে রুমে আসছেন,বেরও হয়ে গিয়েছে। তো আমার ভয় হচ্ছে বাবা আমাকে দেখে ফেলল কিনা। অনিচ্ছাকৃতভাবে বাবা সতর দেখে ফেললে কি হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

জবাব


১. প্রসবকালে ও ওটিতে বাধ্যবাধকতার কারণে সতর প্রকাশ পাওয়া সংক্রান্ত ফায়সালা:

  • শরয়ী সিদ্ধান্ত: এক্ষেত্রে আপনি বিন্দুমাত্র কোনো গুনাহগার হননি ।

  • ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
    ১. ইসলামি ফিকহের প্রামাণ্য মূলনীতি হলো: «الضرورات تبيح المحظورات» (জরুরত বা শারীরিক বাধ্যবাধকতা নিষিদ্ধ বিষয়কেও সাময়িকভাবে ক্ষমাযোগ্য করে তোলে)।
    ২. প্রসূতি অবস্থা, প্রচণ্ড প্রসববেদনা, সেলাই ও ওটির জরুরি চিকিৎসার সময় নিজের ইচ্ছা ছাড়া চিকিৎসক বা মেডিক্যাল স্টাফদের উপস্থিতিতে সতর প্রকাশ পাওয়া একটি 'মেডিক্যাল ওজর' (চিকিৎসাজনিত বাধ্যবাধকতা)।
    ৩. যেহেতু আপনি ইচ্ছা করে বা অন্যায়ের উদ্দেশ্যে এমনটি করেননি; বরং অত্যন্ত অসহায় ও অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার প্রয়োজনে পরিস্থিতি এমন হয়েছিল, তাই শরীআতে আপনার আমলনামায় কোনো গুনাহ লেখা হয়নি।
    ৪. মন থেকে অহেতুক গ্লানি ও অপরাধবোধ ঝেড়ে ফেলুন। আল্লাহর দরবারে কেবল সাধারণ ইস্তেগফার ("আস্তাগফিরুল্লাহ") পড়ে শুকরিয়া আদায় করলেই চলবে [১ Structure]।

  • সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

    • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৮৩–৩৮৪ (অধ্যায়: আধুনিক অপারেশন: সমস্যা ও সমাধান — চিকিৎসাজনিত জরুরত ও সতর খোলার শরয়ী সীমারেখা)।
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩২৭ (অধ্যায়: কিতাবুল কারাহিয়্যাহ, ৮ম পরিচ্ছেদ: চিকিৎসাজনিত কারণে সতর দেখার বাধ্যবাধকতা ও ওজরের বিধান)।

২. মেয়ের নাম 'খাদিজা' রাখা সংক্রান্ত ফায়সালা:

  • শরয়ী সিদ্ধান্ত: মেয়ের নাম 'খাদিজা' রাখা সম্পূর্ণ সহীহ, অত্যন্ত বরকতময় ও উত্তম। এতে কোনো সমস্যা নেই।

  • ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
    ১. রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রথম পত্নী উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সুসংবাদপ্রাপ্ত ও বরকতময় নাম এটি।
    ২. আরবি উচ্চারণে (خَدِيجَة - Khadijah) 'খদিজা' বা 'খাদিজাহ' বলা হলেও বাংলা ভাষাভাষীদের পরিভাষায় 'খাদিজা' লেখা ও ডাকা সুপ্রচলিত এবং সম্পূর্ণ সঠিক।
    ৩. বাংলায় 'খাদিজা' নাম রাখলে বা ডাকলে মূল নামের কোনো অর্থ বা পরিচয় বিকৃত হয় না । তাই আপনি অত্যন্ত সানন্দে ও বরকতের নিয়তে মেয়ের নাম 'খাদিজা' রাখতে পারেন ।

  • সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

    • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩৭৪–৩৭৫ (অধ্যায়: আকীকা ও সুন্নাতসম্মত সুন্দর নাম রাখা সংক্রান্ত শরয়ী নির্দেশিকা) ।
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৩৫ (অধ্যায়: বাবুল আসমা — আম্বিয়া ও সাহাবিদের নামে নাম রাখার বরকত ও বাংলা উচ্চারণের শরয়ী বিধান)।

৩. পিতার সামনে পেটিকোট ছাড়া ম্যাক্সি পরিহিত অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত দেখার ভয় সংক্রান্ত ফায়সালা:

  • শরয়ী সিদ্ধান্ত: এতে আপনার বা আপনার পিতার কোনো গুনাহ হয়নি এবং আপনাদের পারিবারিক ও শরয়ী সম্পর্কের মধ্যেও বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি হয়নি।

  • ফিকহী কারণ ও ব্যাখ্যা:
    ১. মাহরামের সামনে সতরের সীমা: নিজের পিতা হলেন জন্মদাত্রী 'আবাদী মাহরাম' (চিরন্তন মাহরাম) । মাহরাম পুরুষের সামনে একজন নারীর ফরয সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ (অর্থাৎ নাভি থেকে হাঁটু ঢেকে রাখা ফরয) ।
    ২. ম্যাক্সির বিধান: ঢোলা ম্যাক্সি/গাউন পরিধান করা থাকলে তা দিয়ে যদি শরীর ও সতরের অঙ্গ আবৃত থাকে, তবে ভেতরে পেটিকোট না থাকলেও তা শরীআতের দৃষ্টিতে সতর আবৃত করার জন্য যথেষ্ট।
    ৩. অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি: প্রসব পরবর্তী অসুস্থতা বা সেলাইয়ের ঝামেলার কারণে পেটিকোট পরতে না পারা এবং অসাবধানতাবশত পিতা ঘরে ঢুকে পড়ার দরুন যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু দেখেও ফেলেন (বা দেখার আশঙ্কা জাগে), তবে অনিচ্ছাকৃত হঠাৎ নজরের কারণে শরীআতে কারো কোনো গুনাহ বা দায় ধরা হয় না।
    ৪. অতএব, এ নিয়ে মনে অহেতুক ওয়াসওয়াসা বা ভীতি রাখার কোনো কারণ নেই।

  • সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৩২৭ (অধ্যায়: কিতাবুল কারাহিয়্যাহ, ৮ম পরিচ্ছেদ: মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর সতরের সীমা ও অনিচ্ছাকৃত নজর)।
    • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৪০৬–৪০৭ (অধ্যায়: পোশাকের মাধ্যমে সতর আবৃত রাখার শরয়ী মূলনীতি)।
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৭০ & ১৮১–১৮৩ (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — মাহরামের সামনে সতর আবৃত রাখা ও অসাবধানতাবশত নজরের মাসআলা) ।

والله أعلم بالصواب وإليه المرجع والمآب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.