বিয়ে উপলক্ষে মেহমান বা আত্মীয়-স্বজনরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও আনন্দের সাথে বর বা কনেকে হাদিয়া দিলে কি তা গ্রহণ করা জায়েয হবে?

Family Life · Hanafi

Question No: 7270
Questioner: Lukman Hakim
Question Asked: 22 Oct 2026, 08:56 PM
Reviewed & Published: 22 Oct 2026, 09:16 PM
Views: 21
Tokens: 3,450
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিবাহ তে বর কন্যা উভয়ের পক্ষে উপহার অথবা টাকা নেওয়া এটা কি ইসলামি শরিয়তে যায়েজ।বর কন্যা উভয়ের পরিবারে সচ্চলাতা আছে, বিয়ে তে দাওয়াত করে জোর পূর্বক টাকা নেওয়া হবে না উস্তাযযি এই বিষয় টা

Answer

বিবাহে বর-কনের পক্ষ থেকে উপহার বা টাকা নেওয়ার বিধান

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

জবাব


১. মূল শরয়ী ফায়সালা:

আপনার প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী—যেহেতু বর ও কনে উভয় পরিবারই সচ্ছল, বিয়েতে কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি, দাবি-দাওয়া বা লোকদেখানো সামাজিক চাপের মাধ্যমে টাকা বা উপহার নেওয়া হবে না; তাই এ অবস্থায় মেহমান বা আত্মীয়-স্বজনরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও আনন্দের সাথে বর বা কনেকে যে উপহার, হাদিয়া বা সালামী দেবেন, তা গ্রহণ করা শরীআতের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জায়েয এবং হালাল।


২. ফিকহী কারণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

  • ক) হাদিয়া দেওয়া ও নেওয়া সুন্নাত:
    ইসলামে পরস্পরকে হাদিয়া বা উপহার দেওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: “তোমরা একে অপরকে হাদিয়া (উপহার) দাও, এতে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে” (মুসনাদে আহমাদ; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, ১৮শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫৯)।

  • খ) শর্তহীন ও স্বতঃস্ফূর্ত উপহারের বৈধতা:
    যদি বিবাহে উপহার বা সালামী দেওয়ার পেছনে কোনো বাধ্যবাধকতা বা প্রথাগত লেনদেনের শর্ত না থাকে—অর্থাৎ না দিলে খোটা শুনতে হবে, সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হবে বা খাতায় নাম লিখে সমান সমপরিমাণ ফেরত দেওয়ার কুপ্রথা না থাকে; বরং স্রেফ আন্তরিক ভালোবাসা ও বর-কনের শুভকামনায় হাদিয়া দেওয়া হয়, তবে তা গ্রহণে শরীআতে বিন্দুমাত্র কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

  • গ) কখন উপহার নেওয়া নাজায়েয হয়?
    বিবাহের উপহার কেবল তখনই নাজায়েয বা অপছন্দনীয় হয়, যখন তা যৌতুকের রূপ নেয়, কোনো প্রকার চাপ বা দাবির মুখে দিতে হয়, কিংবা লোকদেখানো ও রিয়া (প্রদর্শচ্ছটা)-এর উদ্দেশ্যে বাধ্য হয়ে প্রদান করা হয়। কারণ হাদীস শরীফে এসেছে: “কোনো মুসলিমের সম্পদ তার অন্তরের পূর্ণ সন্তুষ্টি ছাড়া গ্রহণ করা অন্য কারো জন্য হালাল নয়” (বায়হাকী; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, ১৮শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৬৫)।
    যেহেতু আপনাদের ক্ষেত্রে এই জাতীয় কোনো সামাজিক বাধ্যবাধকতা বা অন্যায় চাপ নেই, তাই এই উপহার বা টাকা সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:

  • ১৮শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫৯ (অধ্যায়: বাবুল হিদায়াত ওয়াদ দায়াওয়াত): (স্বতঃস্ফূর্ত ও নিষ্কণ্টক হাদিয়া গ্রহণ করা বৈধ ও সুন্নাত হওয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত ফিকহী সিদ্ধান্ত)।
  • ১৮শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৬৫ (অধ্যায়: বাবুল হিদায়াত ওয়াদ দায়াওয়াত): (কারো মনতুষ্টি ছাড়া জোরপূর্বক বা সামাজিক চাপে দেওয়া সম্পদ গ্রহণ নাজায়েয হওয়া এবং স্বেচ্ছায় দিলে তা হালাল হওয়ার বিবরণ)।
  • ১১শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৫–১৮৭ (অধ্যায়: বাব মা يتعلق بالرسوم عند الزفاف): (বিবাহের কুপ্রথা বর্জন করে আন্তরিকভাবে প্রদত্ত উপহার ও হাদিয়ার বৈধতার বিধান)।

২. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৯৯–২০০ (অধ্যায়: হাদিয়া ও দাওয়াত গ্রহণ সংক্রান্ত শরয়ী মূলনীতি): (উপার্জন হালাল হলে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তুষ্ট হয়ে হাদিয়া দিলে তা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ জায়েয হওয়া)।

৩. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৩৪–৩৫ (অধ্যায়: কিতাবুল কারাহিয়্যাহ, ৫ম পরিচ্ছেদ: হাদিয়া ও দাওয়াত গ্রহণের নিয়মাবলী): (শর্তহীন ও স্বতঃস্ফূর্ত উপহার গ্রহণ করার শরয়ী অনুমোদন)।

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.