কুরবানির পশু হারিয়ে গেলে, অন্যটা কেনার পর আগেরটা পেলে করণীয় কি?
Qurbani-Slaughtering · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
যার নিকট নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে—চাই তা নামী সম্পদ (যেমন: ব্যবসার পণ্য, স্বর্ণ-রৌপ্য, নগদ অর্থ) হোক বা গায়রে নামী সম্পদ—তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। কারণ শরিয়তের দৃষ্টিতে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়াই কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার মূল কারণ।
এ কারণে, যার ওপর আগে থেকেই কুরবানি ওয়াজিব আছে, সে যদি কুরবানির নিয়তে কোনো পশু ক্রয় করে, তাহলে শুধু ক্রয় করার মাধ্যমে ওই পশুটি কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায় না। কেননা তার ওপর তো যেকোনো হালাল পশু দিয়ে কুরবানি আদায় করলেই ফরজ দায়িত্ব পূর্ণ হয়ে যাবে। তাই সে চাইলে ওই পশুর পরিবর্তে অন্য পশুও কুরবানি করতে পারবে, বিক্রি করেও অন্য পশু কিনতে পারবে। এতে কুরবানি আদায় হয়ে যাবে।
উদাহরণ: একজন ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক। তিনি কুরবানির জন্য একটি গরু কিনলেন। পরে যদি তিনি দেখেন অন্য গরু কেনা তার জন্য বেশি সুবিধাজনক, তাহলে প্রথম গরুটি বিক্রি করে অন্য গরু দিয়েও কুরবানি করতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ প্রথম পশুটি তার জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়নি।
কিন্তু যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়—অর্থাৎ নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই—সে যদি কুরবানির নিয়তে কোনো পশু ক্রয় করে, তাহলে ক্রয় করার সঙ্গে সঙ্গে পশুটি তার জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তখন ওই পশু কুরবানি করা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যায়। কারণ সে নিজের ইচ্ছায় একটি ইবাদতের দায়িত্ব নিজের ওপর গ্রহণ করেছে। শরিয়তে এটাকে নযর বা মান্নতের হুকুমের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
উদাহরণ: একজন গরিব ব্যক্তি, যার ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একটি ছাগল কিনলেন কুরবানি করার জন্য। এখন তিনি চাইলে সেটি বাদ দিয়ে অন্য কিছু না দিয়ে থাকতে পারবেন না; বরং ওই পশু কুরবানি করা তার জন্য আবশ্যক হয়ে যাবে। কারণ এটি তার ওপর নযরের মতো অপরিহার্য হয়ে গেছে।
সারকথা: নিসাবের মালিকের জন্য: পশু কিনলে তা নির্দিষ্ট হয় না; অন্য পশু দিয়েও কুরবানি করা যাবে। নিসাবের মালিক নয় এমন ব্যক্তির জন্য: কুরবানির নিয়তে পশু কিনলেই তা নির্দিষ্ট হয়ে যায়; সেটি কুরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।