নাপাক কাগজের সাথে পাক কাগজকে কি জ্বালানো যাবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আল্লাহ তাআলা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাম, কুরআনের আয়াত বা হাদিস লিখিত কোনো কাগজ বা বস্তু নাপাক হওয়ার পর তা পবিত্র করা সম্ভব হলে (যেমন, ধুয়ে ফেলা) সেটাই কর্তব্য। যদি ধোয়ার ফলে লেখা নষ্ট হয়ে যায় বা পবিত্র করা সম্ভব না হয়, তাহলে সেগুলোকে সম্মানের সাথে নিষ্পত্তি করা আবশ্যক। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, নাপাক কাগজ পুড়িয়ে ফেলা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হলেও কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম জরুরি অবস্থায় অনুমতি দিয়েছেন, তবে তা অত্যন্ত সম্মানের সাথে (যেমন, পরিষ্কার আগুনে, আবর্জনার সাথে না মিশিয়ে) করতে হবে।
আপনার প্রশ্নে বলা হয়েছে যে, পবিত্র লেখা ও নাপাক লেখা একসাথে পোড়ানো যাবে কি? এটি জায়েজ নয়। কারণ পবিত্র লেখাগুলো (যাতে আল্লাহ, রাসুল, কুরআন, হাদিসের নাম বা বাণী আছে) পোড়ানো সাধারণত নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে অপছন্দনীয়। বরং সেগুলোকে সম্মানের সাথে সংরক্ষণ করা, কবর দেওয়া বা প্রবাহিত পানিতে দ্রবীভূত করাই বিধান। নাপাক লেখার জন্য আলাদা পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:
১. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): "কুরআন বা হাদিসের পাতা পোড়ানো জায়েজ নয়, বরং তা ধৌত করে বা কবর দিয়ে সমাহিত করতে হবে।" (৬/৪২০)
২. ফাতাওয়া আলমগীরী: "নাপাক কাগজে যদি আল্লাহর নাম থাকে, তবে তা পবিত্র করে কবর দেওয়া উচিত। পোড়ানো মাকরুহ।" (৫/৩৭৯)
৩. ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): "পবিত্র ও নাপাক বস্তু একসাথে পোড়ানো সমীচীন নয়। বরং নাপাক বস্তুকে আলাদাভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে।" (৪/২৩৭)
৪. ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানী): "যে কাগজে কুরআনের আয়াত আছে তা অসম্মানজনক স্থানে ফেলা বা পোড়ানো হারাম। প্রয়োজনে কবর দেওয়া বা পানিতে মিশিয়ে দেওয়া উচিত।" (৫/৫২৮)
সারসংক্ষেপ সমাধান:
- নাপাক লেখা পবিত্র করার চেষ্টা করুন। সম্ভব না হলে তা আলাদাভাবে কবর দিন অথবা প্রবাহিত পানিতে ফেলে দিন (যাতে লেখা দ্রবীভূত হয়)।
- পবিত্র লেখাগুলো (আল্লাহ, রাসুল, কুরআন, হাদিস) কখনো পোড়াবেন না। এগুলো সংরক্ষণ করুন বা সম্মানের সাথে কবর দিন।
- একসাথে পোড়ানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ।